ইরানের যুদ্ধের আঁচ বাংলার চা বাগানেওফের একবার অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য। তবে এবার পরিস্থিতি আরও জটিল ও ভয়াবহ। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনেই-এর মৃত্যুর পর মারকাটারি আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, পরিস্থিতি আরও বিগড়োতে শুরু করলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে তেহরান। এমন ঘটনা ঘটলে বিশ্বের বহু দেশে দেখা যেতে পারে আমদানি ও রফতানির সমস্যা। সেই তালিকায় রয়েছে ভারতও। এমনকি বাংলাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
চা রফতানির পরিমাণ কত?
ভারত থেকে যে যে দেশে চা রফতানি করা হয়, সেই দেশের নিরিখে ইরান রয়েছে উপরের তালিকায়। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান বলছে, ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি চা রফতানি করা হয় রাশিয়াতে। কিন্তু, ইরানও খুব বেশি পিছিয়ে নেই। ২০২৪ সালে ভারত থেকে ইরানে রফতানি হয়েছিল প্রায় ৩১ মিলিয়ন কেজি চা। তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় চা রফতানির ২০ শতাংশের ক্রেতা মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি।
এমনকি ২০২৫ সালেও ভারত থেকে মোট চা রফতানির পরিমাণ ছিল ২৮০ মিলিয়ন কেজি। এরমধ্যে ১০.৬৯ মিলিয়ন কেজি চা রফতানি হয়েছে ইরানে। এই চা রফতানির একটা বড় অংশে রুট হিসেবে ব্যবহার হয় দুবাই। সেক্ষেত্রে আরব আমিরশাহী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ইরান ভারত থেকে যে চা আমদানি করে তা মূলত দুই রকমের। তথ্য মোতাবেক, মোট আমদানির ৮০ শতাংশই থাকে অসমের চা। অন্যদিকে বাকি ২০ শতাংশ থাকে দার্জিলিং চা। অর্থাৎ এই ২০ শতাংশ বাংলার চা রফতানি হয় তেহরানে।
কী বলছেন বাংলার চা ব্যবসায়ীরা?
এই বিষয়ে শিলিগুড়ির লোচন টি লিমিটেডের ডিরেক্টর রাজীব লোচন bangla.aajtak.in-কে জানান, "আগে আমরা যেখানে ৫ মিলিয়ন কেজি চা রফতানি করতাম, যুদ্ধের ফলে এই রফতানির পরিমাণ আরও কমে যেতে পারে। আমরা এখন তাড়াহুড়ো করে চা বাইরে পাঠাচ্ছি না। গত দু'দিন ধরে মিসাইল হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে রফতানি বন্ধ রেখেছি।"
উত্তরবঙ্গে CONFEDERATION OF INDIA SMALL TEA GROWERS ASSOCIATIONS (CISTA)-র সভাপতি বিজয় গোপাল চক্রবর্তী bangla.aajtak.in-কে এই প্রসঙ্গে বলেন, "ইরান আমাদের কাছে বড় অর্থোডক্স চা-এর মার্কেট। ইরানে আমাদের রফতানি বাড়ছিল। কিন্তু ইরানে যুদ্ধের ফলে অর্থোডক্স চা-এর মার্কেট ধাক্কা খাচ্ছে। এছাড়াও দুবাই-UAE-তেও আমাদের প্রচুর পরিমাণে চা রফতানি হয়। যুদ্ধের ফলে এই বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইউরোপে মার্কেটে আমাদের চা রফতানি হয়। ফলে এই যুদ্ধের জেরে রফতানি বড় ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।" তবে পাশাপাশি তিনি আশা করেছেন, আগামী দিন সাতেকের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
ক্ষতি অসমের চা ব্যবসায়ীদেরও
হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা হলে চা রফতানিতে সরাসরি প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছেন অসমে চা ব্যবসায়ীরাও। অসমের নামজাদা চা রফতানিকারক ও ব্যবসায়ী মোহিত আগরওয়াল এপ্রসঙ্গে জানিয়েছেন, "মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ভারত থেকে চা রফতানির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা এই বিষয়ের দ্রুত সমাধান চাইছি।"
গুয়াহাটি অকশন সেন্টার বাইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি দীনেশ বিহানি এই বিষয়ে বলেন, "ইরানে চা-এর চাহিদা ব্যাহত হলে, চা-এর দাম কমে যেতে পারে। বিশেষ করে প্রিমিয়াম অর্থোডক্স জাতের চায়ের দাম কমে যেতে পারে।" অন্যদিকে, ইন্ডিয়া টি এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান অংশুমান কানোরিয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনও মন্তব্য করার মতো জায়গায় যায়নি। তিনি বলেন,"আমরা চিন্তায় রয়েছি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি কবে ঠিক হয় তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।"