সোনা-রুপোর গয়নায় অ্যাডভান্সরোজই বাড়ছে সোনা এবং রুপোর দাম। আর এমন পরিস্থিতিতে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন সোনা-রুপোর গয়না প্রস্তুতকারীরা। এই দুই ধাতুর দামে অস্থিরতার জন্য তাঁরা অর্ডার নিতে ভয় পাচ্ছেন বলেই খবর দ্য হিন্দুর বিজনেসলাইন অনুযায়ী।
এই সংবাদপত্র নিজের মতামত জানিয়েছেন কেরলের সোনা এবং রুপো ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল নাজার। তিনি বলেন, 'আসলে মার্কেটে খুব অস্থিরতা রয়েছে। যার ফলে দাম ঠিক করা ও সোনা-রুপো মজুত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কারণ, একটা ছোট্ট ইন্ট্রাডে মুভই বড় ক্ষতি করে দিতে পারে।'
তিনি আরও বলেন, 'অনেক জুয়েলার্স দেখছে যে দামের অনিশ্চয়তার জন্য অনেক ক্রেতা অর্ডার দিয়েও কিনতে চাইছেন না। ক্রেতারা হালকা ডিজাইনের দিকে চলে যেতে চাইছেন।' আর এমন পরিস্থিতির জন্য অ্যাডভান্স বুকিং নিতে চাইছে না কোনও জুয়েলার্স। এই বিষয়ে নাজারের দাবি, 'এখন কেউ অ্যাডভান্স বুকিং নেওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছে না। আজকের (বৃহস্পতিবার) পরিস্থিতিতে এই বুকিং নেওয়া খুবই কঠিন। কারণ, সোনার দাম প্রতি গ্রামে ১০০০ টাকা করে বেড়ে যাচ্ছে।' তাই জুয়েলার্সরা এখন ক্রেতাদের কাছ থেকে ১০০ শতাংশ পেমেন্ট চাইছে। তারপরই কাজে হাত দিচ্ছে তারা।
এই প্রতিবেদনে চেন্নাইয়ের NAC জুয়েলার্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অনন্ত পদ্মনাভান বলেন, 'এক সপ্তাহে সোনার দাম ১২ শতাংশ এবং রুপোর দাম ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক বছরে ডাবল হয়েছে সোনার দাম। আর রুপোর দাম তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।'
কেন বাড়ছে সোনা এবং রুপোর দাম?
সোনা এবং রুপোর দাম বেড়েই চলেছে। থামার কোনও লক্ষণই নেই। সারা বিশ্বেই এই দুই ধাতুর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এমনটা হওয়ার পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাঁদের মতে, সারা পৃথিবীতে রয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। যুদ্ধ যুদ্ধ ধোঁয়া প্রতিদিনই উঠছে। পাশাপাশি আমেরিকার শুল্ক চাপ তো রয়েছে। যার ফলে সোনা এবং রুপোয় টাকা ঢালতে চাইছেন বিনিয়োগকারীরা। এটি একটি সেফ বিনিয়োগ। সেই কারণেই বৃদ্ধি পাচ্ছে সোনার দাম। আর দাম নিয়ে সেই অনিশ্চয়তার কারণেই জুয়েলার্সরা এখন অনেক বেশি সতর্ক হয়ে গিয়েছে। তারা চাইছেন ফুল পেমেন্ট নিয়েই কাজে হাত দিতে। নইলে ব্যবসায় ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা। তবে এর ফলে যে সোনা-রুপোর গয়না কিনতে সমস্যায় পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ।