Swapan Dasgupta: 'ছেলেমেয়েরা কেউ বেঙ্গালুরু, কেউ বিদেশে', কলকাতাকে 'বৃদ্ধদের শহর' বললেন অর্থমন্ত্রী স্বপন

West Bengal Economy: তরুণ প্রজন্ম কাজের খোঁজে বেঙ্গালুরু, গুরুগ্রাম, নয়ডা কিংবা বিদেশে চলে যাচ্ছেন। কলকাতা এখন বৃদ্ধ, রিটায়ার্ড লোকেদের শহরে পরিণত হয়েছে। এমনটাই বললেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।

Advertisement
'ছেলেমেয়েরা কেউ বেঙ্গালুরু, কেউ বিদেশে', কলকাতাকে 'বৃদ্ধদের শহর' বললেন অর্থমন্ত্রী স্বপনলকাতা এখন বৃদ্ধ, রিটায়ার্ড লোকেদের শহরে পরিণত হয়েছে। এমনটাই বললেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
হাইলাইটস
  • তরুণ প্রজন্ম কাজের খোঁজে বেঙ্গালুরু, গুরুগ্রাম, নয়ডা কিংবা বিদেশে চলে যাচ্ছেন।
  • এমনটাই বললেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
  • রাজ্যে দক্ষ কর্মীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলেও তাঁর বিশ্লেষণ।

West Bengal Economy: তরুণ প্রজন্ম কাজের খোঁজে বেঙ্গালুরু, গুরুগ্রাম, নয়ডা কিংবা বিদেশে চলে যাচ্ছেন। কলকাতা এখন বৃদ্ধ, রিটায়ার্ড লোকেদের শহরে পরিণত হয়েছে। এমনটাই বললেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। শুধু তাই নয়। এই লাগাতার ব্রেন ড্রেনের ফলে রাজ্যে দক্ষ কর্মীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলেও তাঁর বিশ্লেষণ। এর ফলে অর্থনীতিতে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে জানালেন অর্থমন্ত্রী। 

শুক্রবার ‘বিজ়নেস টুডে’-র ‘ইন্ডিয়া@১০০’ অনুষ্ঠানের মঞ্চে বাংলার অর্থনীতি নিয়ে একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন স্বপন দাশগুপ্ত। বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এ রাজ্যের অর্থনৈতিক অবনতি হয়েছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গ এখন রীতিমতো স্কিল ডেফিসিট, অর্থাৎ দক্ষ কর্মীর ঘাটতিতে ভুগছে।

কলকাতা ছেড়ে কোথায় যাচ্ছেন তরুণরা?
অর্থমন্ত্রীর কথায়, দক্ষিণ কলকাতায় প্রচারের সময় তিনি এমন অনেক পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন, যাঁদের ছেলেমেয়েরা আর রাজ্যে থাকেন না। তিনি বলেন, 'মা-বাবাদের তাঁদের সন্তানদের সম্পর্কে জানতে চাইলেই ওঁরা বলছেন, কারও ছেলে বেঙ্গালুরুতে, কারও মেয়ে গুরুগ্রামে, কেউ নয়ডায়, আবার কেউ বিদেশে চলে গিয়েছেন।'

স্বপনের কথায়, বাংলার বহু মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং বিদেশে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করছেন। তাঁদের যোগ্যতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। কিন্তু সমস্যাটা হল, সেই প্রতিভা বাংলার কাজে লাগছে না। অন্য় রাজ্য বা দেশের কাজে লাগছে।

অর্থমন্ত্রীর মতে, এই ‘ব্রেন ড্রেন’ বা প্রতিভার বহির্গমন বাংলার অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তরুণ প্রজন্মকে রাজ্যে ধরে রাখতে না পারলে শিল্প, পরিষেবা এবং নতুন প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উন্নতি করা কঠিন।

'৫০ বছর ধরে ক্রমাগত অর্থনৈতিক অধঃপতন'
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য গত প্রায় পাঁচ দশকের ইতিহাসের দিকে আঙুল তুলেছেন স্বপন। তাঁর দাবি, রাজ্য দীর্ঘ সময় ধরে অর্থনৈতিক অধঃপতনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। ষাটের দশকের শ্রমিক অসন্তোষ এবং পরবর্তী সময়ে বামপন্থী আন্দোলনের কারণে বাংলার শিল্পক্ষেত্রে ধসে পড়েছে। 

এরপরেও সিঙ্গুরে টাটা গোষ্ঠীর কারখানা বাতিল হওয়ার ঘটনাকেও বাংলার শিল্প ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলেছে বলে উল্লেখ করেন। বলেন,  টাটা গোষ্ঠীর মতো বড় সংস্থাও যদি বাংলায় ব্যবসা করতে না পারে, তা হলে অন্য বিনিয়োগকারীদের কাছেও একটি ভুল মেসেজ যায়।

Advertisement

‘বাঙালিরা ব্যবসাবিরোধী’ ধারণাটা বদলানোই বড় চ্যালেঞ্জ
বাংলার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর দাবি, অনেকেই ভাবেন, বাঙালিদের মধ্যে একটি ব্যবসাবিরোধী মনোভাব রয়েছে। সেই ভাবমূর্তি বদলানো প্রয়োজন।

তবে বাংলার পুরনো শিল্প ঐতিহ্যকে পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। স্বাধীনতার সময় অর্থনৈতিকভাবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ছিল বাংলা। এক সময় মুর্শিদাবাদ-সহ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল বাণিজ্য ও শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।

তাহলে উপায়?
অর্থমন্ত্রীর মতে, অতীতের অর্থনৈতিক গৌরব সম্পূর্ণ রূপে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। বরং উৎপাদন শিল্প, পরিষেবা ক্ষেত্র এবং ডিপ টেকনোলজি-র উপর জোর দিয়েই নতুন করে বাংলার অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, গুজরাত, কর্নাটক এমনকি ওড়িশার মতো রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গ বেশ কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে। সেই জায়গা পুনরুদ্ধার করতে সময় লাগবে।

তাই দ্রুত অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি না দিয়ে বাস্তবসম্মত টার্গেট রেখে এগোনোর পক্ষেই সওয়াল স্বপন দাশগুপ্তের। তাঁর কথায়, ‘অলৌকিক কিছু করে রাতারাতি পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।’ অর্থাৎ বাংলার অর্থনীতিকে ঘুরিয়ে দাঁড় করাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিনিয়োগ, শিল্প এবং দক্ষ কর্মী; সব কিছুর উপরেই জোর দিতে হবে বলে মত অর্থমন্ত্রীর।  

POST A COMMENT
Advertisement