কেন্দ্রের এলপিজি নীতিযুদ্ধবিরতি নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী নিয়ে সংকটও কাটার ইঙ্গিত মিলেছে। কিন্তু গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটি বন্ধ থাকায় দেশে এলপিজি সঙ্কট। আর তা মোকাবিলায় তৎপর কেন্দ্র। রাজ্য এবং শিল্পক্ষেত্রগুলির জন্য এলপিজি বণ্টনের সীমা নির্দিষ্ট করে দিল মোদী সরকার।
গ্যাস সরবরাহের ওপর চাপ কমাতে বাণিজ্যিক এলপিজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য মজুত গ্যাসের ৭০ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে রাজ্যগুলির জন্য। অতি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ সুনিশ্চিত করাই লক্ষ্য। শিল্পসংস্থাগুলিকে পিএনজি-র মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করতেই এই পদক্ষেপ।
প্যাকড এবং বাল্ক কমার্শিয়াল সিলিন্ডার বণ্টনের ক্ষেত্রে কেন্দ্র বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের সচিব নীরজ মিত্তল বুধবার একটি চিঠিতে জানিয়েছেন, রাজ্যগুলিকে মোট ৭০ শতাংশ এলপিজি বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সেই সব রাজ্যকে, যারা পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস প্রসারে এগিয়ে। এলপিজি-র ওপর নির্ভরশীলতা কমাতেই এই নীতি।
ফার্মা, ফুড প্রসেসিং, পলিমার, কৃষি, প্যাকেজিং, রং, ইস্পাত, ধাতু এবং কাচ শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি মার্চের যে গড় ব্যবহার ছিল, তার মাত্র ৭০ শতাংশ গ্যাস পাবে। শুধু তাই নয়, দৈনিক সরবরাহের ক্ষেত্রে ০.২ মেট্রিক টনের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে যে সব শিল্প জ্বালানি হিসেবে পুরোপুরি এলপিজি-র ওপর নির্ভরশীল, তারা বড়সড় সমস্যার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
কাদের অগ্রাধিকার?
কেন্দ্রের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এমন কিছু শিল্প ইউনিটকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে যেখানে এলপিজি-র বিকল্প হিসেবে পিএনজি ব্যবহার করা প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব। অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলিতে নাম নথিভুক্ত করতে হবে শিল্পসংস্থাগুলিকে। পিএনজি সংযোগের জন্য করতে হবে আবেদন। তবে যেখানে এলপিজি কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, সেখানে পিএনজি আবেদনের শর্তে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজ্যগুলিকে পাইপলাইন ডিস্ট্রিবিউশন এবং সিবিজি নীতি দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।
আমেরিকা-ইরান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ আটকে থাকায় ভারতে এলপিজি-র হাহাকার দেখা দিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই এবার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পথে হাঁটল কেন্দ্রীয় সরকার।