LPG নিয়ে সরকারের নয়া নির্দেশ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ভারতে রান্নার গ্যাস এলপিজি (LPG) সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, যেখানে পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস বা PNG সংযোগ রয়েছে, সেখানে সেই সংযোগ না নিলে LPG সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সরকার জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য গ্যাস নেটওয়ার্ক দ্রুত বাড়ানো এবং একক জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো। PNG গ্যাস সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নাঘরে পৌঁছে যায়। ফলে সিলিন্ডার বুক করার ঝামেলাও থাকে না। এটি আরও সহজ এবং নিয়মিত সরবরাহযোগ্য।
এই বিষয়ে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক ২০২৬ সালের একটি নতুন নির্দেশ জারি করেছে। এই নির্দেশের মাধ্যমে পাইপলাইন তৈরির কাজ দ্রুত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমতি না দিলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে ধরা হবে।
নির্দেশে বলা হয়েছে, কোনও এলাকায় যদি PNG পাইপলাইন তৈরি হয়ে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে জানানো হবে। সেই নোটিশ পাওয়ার পর PNG সংযোগ নিতে হবে। না হলে ওই ঠিকানায় LPG সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছে। যদি প্রযুক্তিগত কারণে কোনও বাড়িতে PNG সংযোগ দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে LPG চালু থাকবে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) নিতে হবে।
সরকারের মতে, যেখানে PNG রয়েছে সেখানে LPG ব্যবহার কমালে, সেই গ্যাস অন্য জায়গায় পাঠানো যাবে। বিশেষ করে যেখানে এখনও পাইপলাইন পৌঁছায়নি, সেখানে এই গ্যাস কাজে লাগবে। এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
এই নির্দেশ 'এসেনশিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্ট'-এর আওতায় জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আবাসনে PNG সংযোগ দিতে কোনও সংস্থা বাধা দিতে পারবে না। হাউজিং কমপ্লেক্সে তিন দিনের মধ্যে অনুমতি দিতে হবে। শেষ পর্যায়ের সংযোগ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
এছাড়া, যদি কোনও জায়গায় অনুমতি নিয়ে সমস্যা হয়, তাহলে নির্দিষ্ট আধিকারিক হস্তক্ষেপ করতে পারবেন। প্রয়োজনে জমি ব্যবহারের অধিকারও নিশ্চিত করা হবে।
সরকার জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন গ্যাস সরবরাহের চাপ কমবে, তেমনই দীর্ঘমেয়াদে পরিষ্কার ও স্থায়ী জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে।