শেয়ার বাজারে ধসMiddle East War Impact: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তেই তার সরাসরি প্রভাব পড়ল ভারতের আর্থিক বাজারে। ইরানকে লক্ষ্য করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক পদক্ষেপ এবং তার পাল্টা জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে আতঙ্ক বাড়ে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই বড় ধাক্কা খেল দালাল স্ট্রিট। ধসে গেল শেয়ার সূচক, অন্যদিকে নিরাপদ লগ্নির খোঁজে সোনা ও রুপোর বাজারে ঝাঁপালেন বিনিয়োগকারীরা।
শেয়ার বাজারে বড় ধস
সোমবার বাজার খুলতেই বিক্রির চাপে পড়ে যায় সূচক। এক সময় প্রায় দুই হাজার পয়েন্ট পর্যন্ত নেমে যায় সেনসেক্স। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও দিনের শেষে Bombay Stock Exchange–এর সূচক সেনসেক্স ১০৪৮ পয়েন্ট পড়ে থিতু হয় ৮০,২৩৮-এ। অন্যদিকে নিফটি ৩১২ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ২৪,৮৬৫-তে। বাজার বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, মাত্র এক দিনেই লগ্নিকারীদের প্রায় ৬.৬০ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদমূল্য ক্ষয় হয়েছে। ব্যাঙ্কিং, আইটি ও ধাতু খাতের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা যায়।
সোনা-রুপোর বাজারে আগুন
অস্থিরতার আবহে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকেছেন নিরাপদ সম্পদের দিকে। ফলে মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (Multi Commodity Exchange) বা এমসিএক্স বাজারে সোনার দামে বড় লাফ দেখা গেছে। এক ধাক্কায় প্রায় ৭ হাজার টাকা বেড়ে সোনার দর পৌঁছেছে ১.৬৯ লক্ষ টাকায়। রুপোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র। কেজিপিছু প্রায় ১৪ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাম ছুঁয়েছে ২.৯৭ লক্ষ টাকা। শুধু গয়নার চাহিদাই নয়, গোল্ড ইটিএফ ও বুলিয়ন বিনিয়োগেও আগ্রহ বাড়ছে।
তেলের বাজারে চাপ
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার আঁচ লেগেছে জ্বালানি তেলেও। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপিছু ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে দাম ১০০ ডলারও ছুঁতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সামনে অনিশ্চয়তা
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৭ থেকে ১০ দিন পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকবে। যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হলে শেয়ার বাজারে আরও সংশোধন দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি সোনা ও রুপোর দাম নতুন উচ্চতা ছুঁতে পারে। সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে বড় শিল্পপতি, সকলের নজর এখন পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির দিকে।