মাল্টিব্যাগার স্টকনিঃসন্দেহে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু এমন বহু স্টক আছে যেগুলি গত কয়েক বছরে বিনিয়োগকারীদের মোটা টাকা রিটার্ন দিয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে প্রতিরক্ষা খাতের একটি কোম্পানি অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভের শেয়ারও। বিনিয়োগকারীদের জন্য এই স্টকটি মাল্টিব্যাগারে পরিণত হয়েছে। ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৯৫০ টাকায় পৌঁছানোয় এই স্টকের বিনিয়োগকারীদের এখন খুশির প্রাণ গড়ের মাঠ।
বাজারের পতনের সময়েও প্রতিরক্ষা খাতের এই স্টকটি দুর্দান্ত রিটার্ন দিচ্ছে। যখন দেশে করোনা মহামারী শুরু হয়েছিল, তখন অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভ ডিফেন্স স্টকের দাম ছিল মাত্র ৫০ টাকা। কিন্তু কোভিডকালীন সময়েও এই স্টকটিও রকেট গতিতে ছুটেছে। গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবারও বাজার বন্ধের সময় শেয়ারের দর ১.৬৮ শতাংশ বেড়ে ৯৫১ টাকায় বন্ধ হয়েছিল। এই স্টকের ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ দাম অবশ্য রয়েছে ১১৯৫.৯০ টাকা।
৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৯৫১ টাকায় পৌঁছানো এই প্রতিরক্ষা স্টকে বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারীরা এই ১৮০০ শতাংশের মাল্টিব্যাগার রিটার্ন পেয়েছেন। লাভের হিসাব করলে দেখা যাচ্ছে করোনাকালীন সময়ে যদি কোনও বিনিয়োগকারী অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভ স্টকে মাত্র ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতেন এবং এখন পর্যন্ত তা ধরে রাখতেন, তাহলে বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে হত প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা।
১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভ, প্রতিরক্ষা, টেলিযোগাযোগ এবং রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি সিস্টেম, মাইক্রোওয়েভ চিপ এবং মাইক্রোওয়েভ ভিত্তিক সাবসিস্টেমের একটি অন্যতম ডিজাইনার ও প্রস্তুতকারক কোম্পানি। ব্রোকারেজ সংস্থাগুলি এখনও স্টকের প্রতি উৎসাহ দেখাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন স্টকটি আরও লাভের মুখ দেখতে পারে।
ব্রোকারেজ ফার্ম মতিলাল ওসওয়াল জানাচ্ছে, "আমরা অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভকে 'BUY' রেটিং দিচ্ছি। ১,১০০ টাকার নতুন টার্গেট রেখে কভারেজ শুরু করছি।" জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টস বলছে, কোম্পানিটি রাডার সিস্টেম, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং মহাকাশ টেকনোলজিতে দারুণ কাজ দেখিয়েছে। ফলে স্টকটিকে ১,০৬৭ টাকার টার্গেট করা যেতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ বাজারগত ঝুঁকির আওতাধীন। নানা কারণে শেয়ার বা স্টকের দামের ওঠানামা করতে পারে। তাই বিনিয়োগের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়। নিজ দায়িত্বে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করুন।)