চন্দ্রশেখরনের ইস্তফায় টাটার শেয়ারে পতননুন থেকে বিমান। বিশাল সাম্রাজ্যের মালিক টাটা গোষ্ঠীর একাধিক সংস্থার শেয়ারে ধস! বুধবার সকালে টাটা সন্সের (TATA Sons) চেয়ারম্যান পদ থেকে এন চন্দ্রশেখরনের (Natarajan Chandrasekaran) পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই শেয়ার বাজারে পতন। টাটা গোষ্ঠীর একাধিক সংস্থার শেয়ারের দর প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। আগামী ১৮ অগাস্ট টাটা গোষ্ঠীর বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM)। তার ঠিক মুখেই চন্দ্রশেখরনের (N Chandrasekaran) এই আচমকা পদত্যাগের সিদ্ধান্তে বিস্মিত লগ্নিকারীরা।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাজারমূল্যের নিরিখে টাটা গোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় সংস্থা টিসিএসের শেয়ার দর (TCS Share Price) প্রায় ৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২,৩২২ টাকায়। জোর ধাক্কা খেয়েছে টাটা মোটরস প্যাসেঞ্জার ভেহিক্যালসও (TMPV)। তাদের শেয়ারের দামও ৪ শতাংশের কাছাকাছি পড়েছে। এছাড়া টাটা কনজিউমার এবং টাটা পাওয়ারের শেয়ারের দর প্রায় ২ শতাংশ করে কমেছে।
চন্দ্রশেখরনের নেতৃত্বে উত্থান
৬৩ বছর বয়সি চন্দ্রশেখরনের নেতৃত্বেই টাটা গোষ্ঠী সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, ব্যাটারি, ডিজিটাল এবং বিমান পরিবহণের মতো নতুন যুগের ব্যবসায় প্রসার ঘটিয়েছিল। তাঁর মেয়াদ ছিল ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত । টাটা সন্স ছাড়াও টিসিএস, টাটা মোটরস এবং টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টস-সহ গোষ্ঠীর একাধিক শীর্ষ সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন তিনি।
রতনের পর চন্দ্রশেখরন
রতন টাটার পর টাটা সন্সের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া চন্দ্রশেখরনই ছিলেন টাটা পরিবারের বাইরের প্রথম ব্যক্তি। টিসিএসে সফল ইনিংসের পর ২০১৭ সালে তিনি টাটা গোষ্ঠীর শীর্ষপদে বসেন। তার পর থেকে টাটা গোষ্ঠীর যাবতীয় ব্যবসা তাঁরই নির্দেশে চলেছে। আগামী ১৮ অগাস্ট টাটা সন্সের বার্ষিক সভা। টাটা ট্রাস্টের ভোটগ্রহণের আগেই তাঁর এই ইস্তফা ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বলে রাখি, টাটা সন্সে প্রায় ৬৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে টাটা ট্রাস্টের।
নোয়েল টাটা বনাম চন্দ্রশেখরন
শিল্পমহল সূত্রের খবর, চন্দ্রশেখরনের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে ছিলেন না টাটা ট্রাস্টের বর্তমান চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা। এর ফলে টাটা গোষ্ঠীর সংস্থাগুলির ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কাজকর্মে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কায় লগ্নিকারীরা।
চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি টাটা সন্সের বোর্ড চন্দ্রশেখরনের পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়েছিল। একাধিক নতুন ব্যবসার বাস্তবতা ও কতটা লাভের, সে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন নোয়েল টাটা। তারপর থেকেই পর্দার আড়ালে টানাপোড়েন চলছিল বলে খবর।
পদত্যাগপত্রে কী লিখেছেন চন্দ্রশেখরন?
চন্দ্রশেখরন জানান, তাঁর কার্যকালের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় দেয়নি টাটা সন্সের বোর্ড। সর্বসম্মত সমর্থন না পাওয়াতেই আটকে যায় সেই প্রস্তাব। একই সঙ্গে টাটা গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে অস্পষ্টতার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন।
নিজের পদত্যাগপত্রে চন্দ্রশেখরন লিখেছেন, 'বোর্ডের বৈঠকের পর ৬ মাস কেটে গেলেও আজ পর্যন্ত কোনও মীমাংসা হয়নি। টাটা সন্স বড় প্রতিষ্ঠান। বহু গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রকল্পের রূপায়ণ এখন অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির পর গোষ্ঠীকে চালানোর জন্য শুধুমাত্র এক জন নতুন নেতাই জরুরি নয়, বরং কর্মী, বিনিয়োগকারী, সহযোগী সংস্থা এবং সমস্ত অংশীদারদের আশ্বস্ত করতে শীর্ষ নেতা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন'।