ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তিভারত এবং আমেরিকার অন্তবর্তী বাণিজ্য চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক (কাঠামো) তৈরি হয়ে গিয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা, বাণিজ্য আগের থেকে অনেকাংশেই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। হবে নতুন কর্মসংস্থান। এমনকী কৃষক ও MSME-এর (ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী) বিরাট লাভ হবে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
দেশের মানুষের কত লাভ?
এই বিষয়ে একটি এক্স পোস্ট করেছেন মোদী। সেখানে তাঁর দাবি, এই ফ্রেমওয়ার্ক ভারত এবং আমেরিকার সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। এর ফলে কৃষক, উদ্যোক্তা, MSME, স্টার্টআপ ইনোভেটর এবং মৎস্যজীবীদের নতুন সুযোগ এনে দেবে। শুধু তাই নয়, এই চুক্তির জন্য প্রচুর চাকরি হবে। তার ফলে যুব সমাজ-মহিলারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন বলেও মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী।
এই ফ্রেমওয়ার্কে কী উঠে এল?
আমেরিকার সঙ্গে অন্তবর্তী বাণিজ্য চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করে ফেলেছে ভারত। তাতে জানান হয়েছে যে আতলান্তিকের পাশের এই দেশে রফতানি করা ভারতীয় পণ্যে শুল্ক কমিয়ে এখন ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া জেনেরিক ওষুধ, রত্ন, ডায়মন্ড এবং বিমানের যন্ত্রাংশের উপর শুল্ক বেশ কিছুটা কমানো হবে। তবে এই সব জিনিসে কত শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে, সেটা এখনও নিশ্চিত করে জানান হয়নি।
যদিও শুধু আমেরিকাই শুল্ক কমাবে না। ভারতকেও নিজেদের বাজার আমেরিকার জন্য খুলে দিতে হবে। এক্ষেত্রে মার্কিন দেশের বাণিজ্য পণ্য থেকে শুরু করে কৃষিজ পণ্যের উপর শুল্ক কমাতে পারে ভারত। আরও নির্দিষ্ট করে বললে সোয়াবিন তেল, বাদাম, পশুখাদ্য, ফল এবং আরও অন্য কিছু জিনিসে কমানো হতে পারে শুল্ক।
যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে
এই চুক্তি সম্পর্কে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে আমেরিকা এবং ভারত। তাদের তরফে দাবি, এটা একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। দুই দেশের শীর্ষ নেতা মিলে এই চুক্তিতে সহমত হয়েছেন। এর ফলে বাজার আরও বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে সাপ্লাই চেইন হয়ে উঠবে বিশ্বাসযোগ্য।
এই চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও। তিনি জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে ভারতের রফতানি বৃদ্ধি পাবে ৩০ ট্রিলিয়ান ডলার। তাঁর আরও বিশ্বাস এই রফতানি বৃদ্ধির ফলে ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প এবং কৃষকদের বেশি লাভ হবে। যার ফলে সারা দেশে কোটি কোটি চাকরি তৈরি হতে পারে।