Subhash Chandra Loan Case: Zee কর্ণধার সুভাষ চন্দ্রের ঋণ মকুব এখনই নয়, স্থগিতাদেশ NCLT-র, ঠিক কী এই মামলা?

এসেল গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্রের দেউলিয়া মামলার শুনানিতে দেওয়া  NCLT-র নির্দেশে নিজেদের মধ্যেই মতপার্থক্য হওয়ায় তা ৫ সদস্যের বিশেষ বেঞ্চে পাঠানো হয়। বিশেষ বেঞ্চ আজ নির্দেশ দিল, আগের রায় অর্থাত্‍ ২৫ অগাস্টের নির্দেশ অসঙ্গতিপূর্ণ ছিল ও সেগুলি কার্যকর করার জন্য কোনও স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতাও ছিল না।

Advertisement
Zee কর্ণধার সুভাষ চন্দ্রের ঋণ মকুব এখনই নয়, স্থগিতাদেশ NCLT-র, ঠিক কী এই মামলা?এসেল গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্র
হাইলাইটস
  • ২৫ অগাস্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিল NCLT
  • বিশেষ বেঞ্চ আদেশে কী বলেছে?
  • সুভাষ চন্দ্রের ঋণ নিষ্পত্তি মামলাটি ঠিক কী?

এসেল গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্রের বিরাট অঙ্কের ঋণ নিষ্পত্তি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। এহেন পরিস্থিতিতে বড় নির্দেশ দিল ন্যাশনাল কোম্পানি ল' ট্রাইবুনাল (NCLT)। গত ২৫ অগাস্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিল NCLT। একইসঙ্গে নির্দেশ দিয়েছে, গ্যারেন্টার হিসেবে নিজের সম্পত্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ট্রান্সফারও করতে পারবেন না সুভাষ চন্দ্র। 

এসেল গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্রের দেউলিয়া মামলার শুনানিতে দেওয়া  NCLT-র নির্দেশে নিজেদের মধ্যেই মতপার্থক্য হওয়ায় তা ৫ সদস্যের বিশেষ বেঞ্চে পাঠানো হয়। বিশেষ বেঞ্চ আজ নির্দেশ দিল, আগের রায় অর্থাত্‍ ২৫ অগাস্টের নির্দেশ অসঙ্গতিপূর্ণ ছিল ও সেগুলি কার্যকর করার জন্য কোনও স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতাও ছিল না।  বিশেষ বেঞ্চ ২২,০০৬ কোটি টাকারও বেশি ঋণ ৬.৫ কোটি টাকায় নিষ্পত্তি করার জন্য এনসিএলটি-র পূর্ববর্তী আদেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এছাড়াও, সুভাষ চন্দ্রকে তাঁর সম্পত্তি বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে। এনসিএলটি এই মামলার সঙ্গে জড়িত সকল পক্ষকে নোটিশও জারি করেছে।

আগের নির্দেশ কী ছিল?

পূর্ববর্তী একটি আদেশে, এনসিএলটি চন্দ্রের ২২,০০৬ কোটি টাকারও বেশি ঋণ প্রায় ৬.৫ কোটি টাকায় নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছিল। যদিও এই ঋণটি সুভাষ চন্দ্রের ব্যক্তিগত ঋণ নয়, তিনি এই ঋণের গ্যারেন্টার। যার জেরে এনসিএলটি মাত্র ৬.৫ কোটি টাকায় ঋণটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়, যা দেউলিয়া কার্যক্রম সমাপ্ত হওয়ার পথ প্রশস্ত করে। এতে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল, বিশেষ করে কীভাবে এত বড় একটি ঋণ এত কম টাকায় শোধ করা সম্ভব। বিতর্ক বাড়তে থাকায়, এনসিএলটি-র একটি বিশেষ বেঞ্চে শুনানি হয় এবং এখন পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিয়েছে।

বিশেষ বেঞ্চ আদেশে কী বলেছে?

পাঁচ সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ তার আদেশে জানিয়েছে, পূর্ববর্তী আদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন না থাকায় সেটির ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। এখন একটি পাঁচ সদস্যের প্যানেল বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে। বেঞ্চ আরও জানিয়েছে, মামলা চলাকালীন গ্যারেন্টার (সুভাষ চন্দ্র) কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবেন না।

Advertisement

সুভাষ চন্দ্রের ঋণ নিষ্পত্তি মামলাটি ঠিক কী?

Zee গোষ্ঠীর কর্ণধার সুভাষ চন্দ্রের সংস্থার ২২,০০৬.৫৭ কোটি টাকার ঋণ। ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাঙ্করাপ্সি কোড (IBC)-এর ৯৫ নম্বর ধারায় দেউলিয়া প্রক্রিয়া শুরু করেছিল ইন্ডিয়াবুলস হাউজিং ফাইন্যান্স। ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনায় সুভাষ চন্দ্র ঋণদাতাদের ৬.২৫ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। অথচ অনুমোদিত দাবির পরিমাণ ছিল ২২,০০৬.৫৭ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি, দেউলিয়া প্রক্রিয়ার খরচ মেটাতে আরও ২৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল।

অনুমোদিত দাবির পরিমাণ এবং প্রস্তাবিত অর্থপ্রদানের মধ্যে এই বিপুল ফারাক নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক হয়। কারণ এই প্ল্যান কার্যকর হলে ঋণদাতারা তাঁদের স্বীকৃত দাবির খুব সামান্য অংশই ফেরত পেতেন। এনসিএলটি-র আজকের নির্দেশের ফলে ২৫ অগাস্টের অনুমোদন আপাতত কার্যকর করা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে বিশেষ বেঞ্চ নতুন করে পর্যালোচনা না করা পর্যন্ত ওই অনুমোদনের ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।

সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে কেন ২২ হাজার কোটি টাকার দাবি?

২২,০০৬.৫৭ কোটি টাকার এই অঙ্কটি সুভাষ চন্দ্রর ব্যক্তিগত দেউলিয়া প্রক্রিয়ায় একজন গ্যারেন্টর হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে দাখিল করা দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত। সুভাষ চন্দ্র এর আগে জানিয়েছিলেন, তিনি কোনও ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যক্তিগত ঋণ নেননি। এসেল গোষ্ঠীর অধীনে থাকা কোম্পানিগুলি নিয়েছিল, তিনি সেই ঋণের গ্যারেন্টার ছিলেন।  NCLT-র বিবৃতিতে বলা হয়, সুভাষ চন্দ্রের অফিস জানিয়েছে, ২২ হাজার কোটির ঋণের ব্যক্তিগত গ্যারেন্টার ছিলেন সুভাষ চন্দ্র। 

POST A COMMENT
Advertisement