পেট্রোল, ডিজেলের এক্সপোর্ট ডিউটির পরিবর্তন (ছবি: রয়টার্স)পেট্রোল রফতানির উপর উইন্ডফল ট্যাক্স ২.৫০ টাকা করল কেন্দ্রীয় সরকার। এর আগে ট্যাক্স ছিল ০.৫ টাকা প্রতি লিটার। অন্যদিকে ডিজেল রফতানির উপর শুল্ক প্রতি লিটারে ১৬ টাকা থেকে কমিয়ে ৮.৫০ টাকা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সরকার এই নির্দেশিকা জারি করেছে। নয়া নির্দেশ অনুযায়ী, নতুন শুল্কের হার ১৬ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের দাম ওঠানামা করছে। আর তেলের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি রফতানির উপর করের হার পরিবর্তন করে চলেছে কেন্দ্র। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই পেট্রোল ও ডিজেলের রফতানি শুল্কে আবার নয়া বদল আনা হল।
নতুন নিয়মে পেট্রোল রফতানির উপর শুল্ক বাড়ল পাঁচ গুণ। অন্যদিকে ডিজেলের ক্ষেত্রে প্রতি লিটারে ৭.৫০ টাকা শুল্ক কমানো হয়েছে।
২০২২ সালে প্রথম উইন্ডফল ট্যাক্স চালু
২০২২ সালের জুলাই মাসে প্রথমবার জ্বালানি রফতানির উপর উইন্ডফল ট্যাক্স চালু করেছিল ভারত সরকার। সেই সময় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম অত্যন্ত বেশি ছিল। যার ফলে বিদেশে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ তৈরি হয়েছিল পরিশোধন সংস্থাগুলির সামনে।
যদিও দু'বছর পরে এই কর তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ইরানের উপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধের জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে ফের উইন্ডফল ট্যাক্স চালু করে কেন্দ্র।
কেন উইন্ডফল ট্যাক্স বসায় সরকার?
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে তেল পরিশোধন করে রফতানিকারী সংস্থাগুলি অতিরিক্ত মুনাফা করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সরকার উইন্ডফল ট্যাক্স ও রফতানি শুল্কের মাধ্যমে জ্বালানি রফতানির উপর করের বোঝা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের দামের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি ১৫ দিন অন্তর এই ট্যাক্স পর্যালোচনা করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী করের হার পরিবর্তন করা হয়।
শেষবার পেট্রোল ও ডিজেল রফতানির শুল্কের হার পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। তবে কেন হুট করে পেট্রোলের শুল্ক বাড়ানো হল এবং ডিজেলের শুল্ক কমানো হল, সেটা ব্যাখ্যা করেনি কেন্দ্রীয় সরকার।
যদিও এই ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রভাব দেশে পড়বে না। এর জন্য দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই পেট্রোল ও ডিজেলের। তাই অহেতুক চিন্তা নয়।