৫ বছর পর পোস্ট অফিসের আরডি স্কিমে কত টাকা পাবেন? দেখে নিন হিসেব।Post Office RD তে মাসে মাত্র ১,৮০০ টাকা। অ্যামাউন্টটা সামান্য। আজকাল একটু ভাল জামাকাপড় কিনতে বা বাইরে খেতে গেলেই খরচ হয়ে যায়। কিন্তু এই সামান্য অঙ্কই ধীরে ধীরে জমাতে থাকলে বড় অ্যামাউন্টে পৌঁছে যেতে পারে। আসলে আজকাল সংসারে এত খরচ যে সেভাবে টাকা জমানো হয় না। তার চেয়ে মাসের শুরুতে পোস্ট অফিসই যদি আপনার স্যালারি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেয়, সেটাই বেটার। ডাকঘর বা পোস্ট অফিস (Post Office) সরকারি জায়গাও বটে। শেয়ার বাজারের ওঠানামা বা মিউচুয়াল ফান্ডের ঝুঁকির ব্যাপার নেই। একদম সুরক্ষিত, সেফ। নির্দিষ্ট মেয়াদের পর মোটা অঙ্কের রিটার্ন নিশ্চিত। হ্যাঁ, শেয়ার বা এসআইপির মতো হয় তো হবে না। কিন্তু এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, টাকা ডোবার চান্স নেই। ফলে যাঁরা ধৈর্য্য রাখতে পারবেন, তাঁদের জন্য পোস্ট অফিসের 'রেকারিং ডিপোজিট' বা RD বেশ ভাল স্কিম। সম্প্রতি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জুলাই সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকের জন্য, পোস্ট অফিসের ৫ বছরের আরডি স্কিমের আপডেট এসেছে। Post Office RD তে বার্ষিক ৬.৭ শতাংশ হারে সুদ পাবেন।
যদি কোনও বিনিয়োগকারী প্রতি মাসে মাত্র ১,৮০০ টাকা করে এই রেকারিং ডিপোজিটে জমা করতে শুরু করেন, তবে ম্যাচিওরিটি শেষে, অর্থাৎ ৬০ মাস পর তিনি ঠিক কত টাকা হাতে পাবেন? আপনাদের সুবিধার্থে সেই সম্পূর্ণ হিসেবই নিচে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হল।
১৮০০ টাকা জমার হিসেব (maturity amount for 1800 rupees)
পোস্ট অফিসের আরডি স্কিমে সুদের হিসেব ত্রৈমাসিক চক্রবৃদ্ধি বা কোয়ার্টারলি কম্পাউন্ডেড (Quarterly Compounded) নিয়মে করা হয়। তাই বিনিয়োগের ওপর সুদের পরিমাণ সাধারণ স্কিমের তুলনায় অনেকটাই বেশি হয়।
মাসিক ডিপোজিট: ১৮০০ টাকা।
বিনিয়োগের মেয়াদ: ৫ বছর বা ৬০ মাস।
আপনি মোট কত টাকা জমা দিচ্ছেন: ৫ বছরে আপনি মোট (১৮০০ x ৬০) = ১,০৮,০০০ টাকা জমা করবেন।
মোট কত টাকা সুদ পাবেন: বর্তমান ৬.৭% সুদের হার। সেই অনুযায়ী ৬০ মাসে আপনার মোট সুদ হবে ২০,৪৫৯ টাকা।
ম্যাচিউরিটি বা রিটার্ন: ৫ বছর অর্থাৎ ৬০ মাসের মেয়াদ শেষে আপনি সুদ এবং আসল মিলিয়ে মোট ১,২৮,৪৫৯ টাকা রিটার্ন হিসেবে হাতে পাবেন।
কেন মধ্যবিত্তের প্রথম পছন্দ?
পোস্ট অফিসের এই আরডি স্কিমে বিনিয়োগ শুরু করাও অত্যন্ত সহজ। মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে যেকোনও ভারতীয় নাগরিক নিজের নামে বা যৌথভাবে (Joint Account) অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। সর্বোচ্চ বিনিয়োগের কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই।
চাকরিজীবী থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসায়ী বা গৃহবধূ; যাঁরা প্রতি মাসে অল্প অল্প করে টাকা জমাতে চান, তাঁদের জন্য এটি বেশ ভাল। যেহেতু এটি সম্পূর্ণ সরকারি স্কিম, সেহেতু এখানে টাকা ডুবে যাওয়ার বা লোকসান হওয়ার বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নেই। মেয়াদ শেষের পর প্রয়োজনে এই অ্যাকাউন্টকে আরও ৫ বছরের জন্য বাড়িয়ে নেওয়ার (Extension) সুবিধাও রয়েছে। অথবা, বড় অঙ্কের টাকা জমে গেলে সেটি তুলে নিয়ে, পিপিএফ বা ফিক্সড ডিপোজিটের মতো কোথাও বিনিয়োগ করতে পারেন।
দ্রষ্টব্য: শেয়ার, বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলি বাজার পর্যবেক্ষণ মাত্র। এগুলি বিনিয়োগের পরামর্শ নয়। বাজারে বিনিয়োগের আগে অবশ্যই পড়াশোনা করুন এবং বিশেষজ্ঞের সাহায্য গ্রহণ করুন।