
RBI Monetary Policy 2026: দেশের মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপের কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) আরও বাস্তবসম্মত করতে এবার সবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি সোনা ও রুপোর দামকেও হিসাবের আওতায় আনা হচ্ছে। এর ফলে মূল্যবৃদ্ধির প্রকৃত চাপ আরও স্পষ্টভাবে ধরা পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মুদ্রানীতি কমিটির (MPC) বৈঠকে এই সংশোধিত কাঠামোর কথা জানানো হয়। RBI সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে সোনা ও রুপোর দামে যে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, তা সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে। সেই কারণেই এই দুই মূল্যবান ধাতুকে CPI হিসাবের ঝুড়িতে যুক্ত করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনের মধ্যেও সুদের হারে আপাতত কোনও বদল আনেনি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং মুদ্রানীতির অবস্থান রাখা হয়েছে ‘নিরপেক্ষ’। RBI-এর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে সুদের হার কমানো বা বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।
মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে গড় CPI ইনফ্লেশন থাকতে পারে মাত্র ২.১ শতাংশ। তবে অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকে (Q4 FY26) তা বেড়ে ৩.২ শতাংশে পৌঁছতে পারে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের শুরুর দিকে এই হার ৪.০ থেকে ৪.২ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে বলেই অনুমান।
বর্তমানে খাদ্যপণ্যের দাম কমায় হেডলাইন মুদ্রাস্ফীতি ৪ শতাংশের নিচে নেমেছে। কিন্তু একই সময়ে সোনা ও রুপোর দাম বেড়ে যাওয়ায় CPI সংখ্যায় প্রায় ৫০ বেসিস পয়েন্ট অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। এই বিষয়টি আগের কাঠামোয় পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছিল না।
অন্যদিকে, কোর ইনফ্লেশন, যেখানে খাদ্য ও ধাতুর মতো অস্থির উপাদান বাদ দেওয়া হয়েছে। তা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। এই স্থিতাবস্থাই RBI-কে আপাতত সুদের হার কমানোর পথে এগোতে দিচ্ছে না, যদিও সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি এখনই খুব বেশি নয়। অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৩ শতাংশ হতে পারে বলে নতুন করে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা আগের অনুমানের তুলনায় সামান্য বেশি।
সব মিলিয়ে, RBI-এর মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্য কাঠামোর এই পর্যালোচনা চূড়ান্ত হওয়ার কথা ২০২৬ সালের মার্চে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ৪ শতাংশের লক্ষ্য এবং ২ শতাংশের সহনশীলতা সীমা বজায় রাখা হতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মাঝেও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই যে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রধান লক্ষ্য, তা এই সিদ্ধান্তেই স্পষ্ট।