US Iran War Impact On Indian Share Market: ৪ দিনে ধস নামল দালালে স্ট্রিটে, একদিনেই উবে গেল লক্ষ কোটি টাকা; মাথায় হাত লগ্নিকারীদেরUS Iran War Impact On Indian Share Market: বিশ্ব রাজনীতির উত্তাল সমুদ্র এখন দালান স্ট্রিটের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের কালো মেঘে রবিবার ছুটির আমেজ ফিকে করে দিয়ে বড়সড় ধস নামল ভারতীয় শেয়ার বাজারে। মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রের দিকপাল এইচডিএফসি (HDFC Bank), ক্ষতির তালিকায় বাদ গেল না কেউই। মধ্যপ্রাচ্যের এই আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত লাভার আঁচ যে ভারতের বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীর ব্যালেন্স শিটে পৌঁছেছে, তা বলাই বাহুল্য। ২০২৬-এর এই মার্চ শেষের তপ্ত দিনে লগ্নিকারীদের কপালে এখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ। বিড়লা-রাজের আভিজাত্য যেমন স্থিরতার ওপর টিকে থাকে, ভারতীয় শেয়ার বাজারের সেই স্থিতিই এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় রিলায়েন্সের মতো পেট্রোকেমিক্যাল জায়ান্টরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের শেয়ারেও বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে, যা সামগ্রিকভাবে সেনসেক্স ও নিফটি-কে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিদেশি লগ্নিকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে পুঁজি সরিয়ে নিতে পারেন, যার ফলে সংকটের মেঘ আরও গাঢ় হবে। শিলিগুড়ি থেকে মুম্বই। ছোট-বড় সব লগ্নিকারীরাই এখন স্ক্রিনের দিকে পলকহীন ভাবে চেয়ে আছেন। ২০ Esk৬-এর এই অর্থনৈতিক ডামাডোল কোথায় গিয়ে থামে, এখন সেটাই বড় চিন্তার বিষয়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, এই পতনের ফলে একদিনেই লগ্নিকারীদের লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বাজার থেকে উবে গিয়েছে। যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহণ ও উৎপাদন ক্ষেত্রেও। মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় আমজনতার নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে, তবুও বিশ্ব বাজারের এই অস্থিরতাকে নিয়ন্ত্রণ করা ভারতের পক্ষে এই মুহূর্তে বড় চ্যালেঞ্জ। চৈত্র শেষের রাজনৈতিক প্রচারের হুল্লোড়ের মাঝেই অর্থনীতির এই ‘ব্ল্যাক সানডে’ বা কালো রবিবার ভারতের শিল্প মহলে এক গভীর ক্ষত তৈরি করে দিল।