RBI Repo Rate : EMI বাড়ার আশঙ্কা, ডিসেম্বরে ৬% রেপো রেট করতে পারে RBI

আগামী মাসগুলিতে এই ধরনের অতিরিক্ত তারল্য শোষণের পদক্ষেপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। VRRR এবং অন্যান্য ব্যবস্থার মাধ্যমে আরও প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকা বাজার থেকে তুলে নেওয়া হতে পারে।

Advertisement
EMI বাড়ার আশঙ্কা, ডিসেম্বরে ৬% রেপো রেট করতে পারে RBI  প্রতীকী ছবি
হাইলাইটস
  • ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার অতিরিক্ত তারল্য কমাতে RBI ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ করেছে
  • এর মধ্যে রয়েছে ওপেন মার্কেট অপারেশনস এবং ভ্যারিয়েবল রেট রিজার্ভ রেপো (VRRR) অকশন

হোম লোন, কাল লোন বা অন্যান্য ফ্লোটিং রেটের ঋণ নেওয়া থাকলে বাড়তে পারে EMI-এর বোঝা। কারণ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) ২০২৬ সালের শেষের দিকে ফের রেপো রেট বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। 

তাঁদের অনুমান, অক্টোবর ও ডিসেম্বর- দুই দফায় ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে রেপো রেট বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে বর্তমান ৫.৫০ শতাংশ থেকে বেড়ে বছরের শেষে রেপো রেট ৬ শতাংশে পৌঁছতে পারে। রেপো রেট বাড়লে ব্যাঙ্কগুলির ঋণের খরচ বাড়তে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে ফ্লোটিং রেটের হোম লোন ও অন্যান্য ঋণের সুদে। ফলে ঋণগ্রহীতার EMI বাড়তে পারে অথবা একই EMI রেখে ঋণের মেয়াদ বাড়তে পারে।

একটি বেসিস পয়েন্ট হল এক শতাংশের একশো ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ ১০০ বেসিস পয়েন্ট মানে ১ শতাংশ।

মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ

রেপো রেট বাড়ানোর সম্ভাবনার অন্যতম কারণ মূল্যবৃদ্ধির নতুন চাপ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার জুলাইয়ের ৪.৪৫ শতাংশ থেকে বেড়ে অগাস্টে ৪.৮২ শতাংশ হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের অনুমান, সেপ্টেম্বরে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা। Systematix Group-এর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যদি ব্যারেল প্রতি ৯০ থেকে ১১০ ডলারের মধ্যে থাকে, তাহলে মূল্যবৃদ্ধি RBI-এর আগের পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি হতে পারে।

অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে প্রথমে উৎপাদন ও পরিবহণের খরচ বাড়ে। পরবর্তীতে সেই বাড়তি খরচ পণ্য ও পরিষেবার দামে এসে পড়তে পারে। ফলে সাধারণ মানুষের উপরও মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় অতিরিক্ত টাকা

RBI-এর সামনে আর একটি বড় বিষয় হল ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় অতিরিক্ত তারল্য বা সারপ্লাস লিক্যুইডিটি। অর্থাৎ ব্যাঙ্কগুলির হাতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি টাকা রয়েছে। HSBC-এর মতে, বিদেশি মুদ্রার প্রবাহ, বিশেষ করে বিশেষ নন রেসিডেন্ট ডিপোজিট স্কিমের মাধ্যমে আসা অর্থ, এই অতিরিক্ত তারল্য তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

Advertisement

HSBC-এর হিসাব অনুযায়ী, FCNR(B) অ্যাকাউন্টে আসা অর্থের জেরে প্রায় ১৫ লক্ষ কোটি টাকা সমপরিমাণ কোর লিক্যুইডিটি সারপ্লাস তৈরি হয়েছে।

অতিরিক্ত টাকা শুষে নিতে পারে RBI

ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার অতিরিক্ত তারল্য কমাতে RBI ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ওপেন মার্কেট অপারেশনস এবং ভ্যারিয়েবল রেট রিজার্ভ রেপো (VRRR) অকশন। এই ধরনের ব্যবস্থার মাধ্যমে RBI ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় থাকা অতিরিক্ত অর্থ নিজেদের কাছে ফিরিয়ে নিতে পারে।

আগামী মাসগুলিতে এই ধরনের অতিরিক্ত তারল্য শোষণের পদক্ষেপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। VRRR এবং অন্যান্য ব্যবস্থার মাধ্যমে আরও প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকা বাজার থেকে তুলে নেওয়া হতে পারে। এর আগে প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা অতিরিক্ত তারল্য শোষণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন বাড়তে পারে রেপো রেট?

রেপো রেট হল যে সুদের হারে RBI বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে স্বল্পমেয়াদি অর্থ ধার দেয়। এই হার বাড়লে সাধারণত ব্যাঙ্কগুলির জন্য RBI থেকে টাকা ধার করা আরও ব্যয়বহুল হয়। তার প্রভাব পড়তে পারে গৃহঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ এবং ব্যবসায়িক ঋণের সুদের হারেও।

তবে রেপো রেট বাড়ানোই যে নিশ্চিত, এমন কোনও সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। অক্টোবর ও ডিসেম্বরের MPC বৈঠকে মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানির দাম, অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পরিস্থিতি এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার তারল্য- সবকটি বিষয় বিবেচনা করেই RBI-এর মানিটারি পলিসি কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।

বর্তমানে মূল্যবৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত তারল্য- এই দুই বিষয়ই RBI-এর সামনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে ২০২৬ সালের শেষদিকে ভারতের মুদ্রানীতিতে ধীরে ধীরে কড়াকড়ি বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের একাংশের অনুমান।

POST A COMMENT
Advertisement