এসবিআই হোম লোনে সুদের হার।আপনিও কি এসআবিআই থেকে হোম লোন নিয়েছেন? বা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে আপনার জন্য বড় খবর। ঋণের সুদের হার ০.২৫ শতাংশ বাড়িয়ে দিল দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সেই সমস্ত গ্রাহকের উপর, যাঁদের গৃহঋণ এক্সটার্নাল বেঞ্চমার্ক লিঙ্কড রেট বা রেপো লিঙ্কড লেন্ডিং রেটের সঙ্গে যুক্ত। সুদের হার বৃদ্ধির ফলে তাঁদের মাসিক কিস্তি বাড়তে পারে। অন্যথায় একই ইএমআই রেখে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়াতে হতে পারে।
২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে এসবিআইয়ের নতুন সুদের হার চালু হয়েছে। ব্যাঙ্কের সাধারণ গৃহঋণে সুদের হার এখন ৭.৫০ শতাংশ থেকে ৮.৮০ শতাংশের মধ্যে। অন্যদিকে হোম লোন ম্যাক্সগেনের ক্ষেত্রে সুদের হার বেড়ে হয়েছে ৮ শতাংশ থেকে ৯.৩০ শতাংশ। এছাড়া টপ-আপ লোনে সুদের হার ৮ শতাংশ থেকে ১০.৭৫ শতাংশের মধ্যে। টপ-আপ ওভারড্রাফ্ট লোনের ক্ষেত্রে সুদের হার ৮.৫০ শতাংশ থেকে ১১.২৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
গৃহঋণে কত বাড়বে ইএমআই?
ব্যাঙ্ক বাজারের হিসাব অনুযায়ী, কোনও গ্রাহকের গৃহঋণে সুদের হার ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮.২৫ শতাংশ হলে এবং ঋণ পরিশোধের জন্য আরও ২০ বছর বাকি থাকলে, তাঁর মাসিক কিস্তির অঙ্কও বাড়বে। ধরা যাক, কোনও গ্রাহকের ৫০ লক্ষ টাকার গৃহঋণ বকেয়া রয়েছে। আগে তাঁর মাসিক ইএমআই ছিল ৪১,৮২২ টাকা। সুদের হার বৃদ্ধির পরে তা বেড়ে হবে ৪২,৬০৩ টাকা। অর্থাৎ প্রতি মাসে প্রায় ৭৮১ টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে তাঁকে। ১ কোটি টাকার বকেয়া গৃহঋণের ক্ষেত্রে মাসিক কিস্তি প্রায় ১,৫৬৩ টাকা বাড়তে পারে।
| বকেয়া ঋণ | পুরনো EMI (৮%) | নতুন EMI (৮.২৫%) | মাসিক বৃদ্ধি |
| ৩০ লক্ষ | ২৫,০৯৩ টাকা | ২৫,৫৬২ টাকা | ৪৬৯ টাকা |
| ৫০ লক্ষ | ৪১,৮২২ টাকা | ৪২,৬০৩ টাকা | ৭৮১ টাকা |
| ২০ লক্ষ | ১৬,৭২৯ টাকা | ১৭,০৪২ টাকা | ৩১৩ টাকা |
| ১৫ কোটি | ১২,৫৪৭ টাকা | ১২,৭৮২ টাকা | ২৩৫ টাকা |
এই হিসাব ঋণ পরিশোধের মেয়াদ আরও ২০ বছর বাকি রয়েছে ধরে করা হয়েছে। বাস্তবে ইএমআইয়ের অঙ্ক নির্ভর করবে বকেয়া ঋণ, সুদের হার এবং ঋণ পরিশোধের অবশিষ্ট মেয়াদের উপর।
ইএমআই বাড়াবেন, না মেয়াদ?
সুদের হার বাড়লে গ্রাহকদের সামনে সাধারণত দুটি বিকল্প থাকে। প্রথমত, মাসিক ইএমআই বাড়িয়ে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ আগের মতো রাখা। দ্বিতীয়ত ইএমআই অপরিবর্তিত রেখে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়া।
তবে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়ালে দীর্ঘমেয়াদে মোট সুদের বোঝা বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে,ইএমআই বাড়িয়ে মেয়াদ অপরিবর্তিত রাখলে অতিরিক্ত সুদ দেওয়ার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে সীমিত রাখা সম্ভব।
গ্রাহকদের এখন কী করা উচিত?
গ্রাহকদের প্রথমেই নিজেদের নতুন সুদের হার, বকেয়া ঋণের পরিমাণ, ঋণ পরিশোধের বাকি মেয়াদ দেখে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি, ব্যাঙ্ক মাসিক ইএমআই বাড়িয়েছে, নাকি ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়িয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মাসিক আয়, প্রয়োজনীয় খরচ এবং অন্যান্য ঋণের কিস্তির বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি।