ভারতে বিদ্যুতের চাহিদাযুদ্ধ যে আবার শুরু হচ্ছে এবং তা ভয়াবহ আকারও নিতে পারে, তার ইঙ্গিত স্পষ্ট। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে LPG সিলিন্ডারের সঙ্কট বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা। ব্যুরো অফ এনার্জি এফিসিয়েন্সি-র ডিরেক্টর জেনারেল কৃষ্ণচন্দ্র পানিগ্রাহীর বক্তব্য, দেশে শক্তির চাহিদা বাড়তে পারে ১৩ গিগাওয়াট থেকে ২৭ গিগাওয়াট পর্যন্ত।
বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে পারে
কৃষ্ণচন্দ্র পানিগ্রাহীর বক্তব্য, জলবায়ু, আর্থ-সামাজিক কারণ এবং রান্নার অভ্যাসের প্রভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবহারের ধরনে ভিন্নতা থাকায় চাহিদার পূর্বাভাস দেওয়া জটিল। এই বিষয়গুলি বিবেচনায় নিলে, ইন্ডাকশন রান্নার ফলে অতিরিক্ত চাহিদা কম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ১৩ গিগাওয়াট থেকে বেশি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ২৭ গিগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে। তবে, তিনি আরও বলেন, 'বিদ্যুৎ চাহিদার উপর এর সামগ্রিক প্রভাব এখনও পর্যন্ত সীমিতই রয়েছে।'
ইন্ডাকশন কুকিং বাড়ার প্রধান কারণ হল, এলপিজি-র ঘাটতি, যা পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় আরও তীব্র হয়েছে। ভারত তার প্রায় ৯০ শতাংশ এলপিজি হরমুজ প্রণালী দিয়ে আমদানি করে, যা এই সংঘাতের দ্বারা প্রভাবিত একটি পথ। বিদ্যুতের বর্ধিত চাহিদা মেটাতে বিদ্যুৎ মন্ত্রক সম্মিলিত ১০ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে।
ভারতে বিদ্যুতের ঠিক কী পরিস্থিতি?
ভারত এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে ২২ গিগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩.৫ গিগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ, ১০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ, ২.৫ গিগাওয়াট বায়ুশক্তি, ১.৯ গিগাওয়াট ব্যাটারি শক্তি সঞ্চয় এবং ৭৫০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ, এর পাশাপাশি অতিরিক্ত পাম্প স্টোরেজ ও হাইব্রিড প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত।
যুগ্ম সচিব পীযূষ সিংয়ের কথায়, 'সম্প্রতি গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিকে নিজস্ব তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কয়লার সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এই বছর ভারতের সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা ২৭১ গিগাওয়াটে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে।'
স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম মজুত
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানাচ্ছেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে জ্বালানি নিশ্চিত করাই ভারতের অগ্রাধিকার। অপরিশোধিত তেল ক্রয় শোধনাগারগুলির প্রযুক্তিগত এবং বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করে। রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করেছে ভারত। সুজাতা শর্মা নিশ্চিত করেছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সরকার তার স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম মজুত সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে।