সুভাষ চন্দ্রের পে প্ল্যান জানুনধরুন আপনি ১০০ টাকার লোন নিয়েছেন। আর সেই ঋণ মেটাতে আপনাকে দিতে হবে মাত্র ৩ পয়সা। পড়েই চমকে গেলেন! ভারতের অন্যতম বৃহৎ টেলিভিশন নেটওয়ার্ক জি-এর (Zee) প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্রের মাথায় ঋণ ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা। সেটেলমেন্টে তাঁকে মেটাতে হবে মাত্র ৬.৫ কোটি টাকা। প্রশ্ন উঠছে, ২২,০০০ কোটি টাকার বকেয়া ঋণে মাত্র ৬.৫ কোটি টাকায় কীভাবে সেটেলমেন্ট? সুভাষ চন্দ্র কি নিজে ২২,০০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন? পুরো কাহিনি বোঝা যাক।
'দ্য ইকনমিক টাইমসে’র রিপোর্ট বলছে, আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন সুভাষ চন্দ্র। ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনালের (NCLT) অনুমোদনকে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে HDFC Bank এবং LIC Housing Finance। ফলে বিষয়টি নিয়ে ফের আইনি লড়াই শুরু হতে পারে। LIC Housing Finance এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ন্যাশনাল কোম্পানি ল আপিলেট ট্রাইব্যুনালের (NCLAT) দ্বারস্থ হতে চলেছে। ন্যাশনাল হাউজিং ব্যাঙ্কের মাধ্যমেও হস্তক্ষেপ চাওয়ার কথা ভাবছে তারা। অন্যদিকে, NCLT-এর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে HDFC Bank।
সুভাষ চন্দ্র কে?
এসেল গোষ্ঠীর (Essel Group) প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্র গোয়েঙ্কা। ভারতে বেসরকারি টেলিভিশনের শুরুর দিকের অন্যতম বড় নাম। ১৯৯২ সালে Zee TV শুরু করেন। এরপর জি এন্টারটেনমেন্ট, জি মিডিয়া, ডিশ টিভি। এসেল গোষ্ঠীর ব্যবসার পরিধি আরও বড় হয়। ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভার সাংসদও ছিলেন সুভাষ চন্দ্র। তবে এখানে জি এন্টারটেনমেন্টের দেউলিয়া হওয়ার কথা হচ্ছে না। এই মামলা সুভাষ চন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।
১৭০ কোটির ঋণ
কাহিনির শুরু ২০১৬ সালে। ইন্ডিয়া বুলস হাউজিং ফিনান্সের কাছ থেকে প্রায় ১৭০ কোটি টাকার ঋণ নেয় এসেল গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বিবেক ইনফ্রাকন প্রাইভেট লিমিটেড। এনসিএলটির নথিতে ওই ঋণচুক্তির বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। এনসিএলটি অর্থাৎ ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল। এখানেই কোম্পানির ঋণ ও দেউলিয়া সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়।
সুভাষ চন্দ্রের কী ভূমিকা?
এবার বুঝতে হবে সুভাষ চন্দ্রের ভূমিকা। তিনি নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ১৭০ কোটি টাকা ঋণ নেননি। তিনি ছিলেন ওই ঋণের ব্যক্তিগত গ্যারান্টার। সহজ ভাষায়, কোনও সংস্থা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিলে তার প্রোমোটার বা অন্য কোনও ব্যক্তি ব্যাঙ্ককে গ্যারান্টি দিতে পারেন যে সংস্থা ঋণ শোধ করতে না পারলে নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী তিনি সেই ঋণের দায় নেবেন। আর এই ক্ষেত্রে সুভাষ চন্দ্রের গ্যারান্টি শুধু ১৭০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এনসিএলটির নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ৫ ডিসেম্বরে তাঁর ব্যক্তিগত গ্যারান্টির সীমা ছিল ৭২৬ কোটি টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ ঋণ নিয়েছিল একটি সংস্থা। সেই ঋণের গ্যারান্টার ছিলেন সুভাষ চন্দ্র।
ঋণের কিস্তি ফেল
এরপর ঋণের কিস্তি পরিশোধে সমস্যা দেখা দেয়। এনসিএলটির নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ইন্ডিয়া বুলস হাউজিং ফিনান্স ঋণ রিকল করে। এবার গ্যারান্টারের কাছ থেকে টাকা দাবি করতে শুরু করে তারা। এরপর সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে দেউলিয়া প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য এনসিএলটির দ্বারস্থ হয় ইন্ডিয়া বুলস হাউজিং ফিনান্স।
এখানে আসে ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাঙ্করাপ্সি কোড (IBC)। কোনও সংস্থা বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গ্যারান্টারের ঋণ পরিশোধের পরিস্থিতি খারাপ হলে এই আইনে ইনসলভেন্সির নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়। ইন্ডিয়া বুলস আইবিসি-র ৯৫ নম্বর ধারায় সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রক্রিয়া শুরুর আবেদন জানায়। তবে সুভাষ চন্দ্র শুরুতেই এই প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি ছিল, কোনও ব্যক্তির এই ধরনের মামলা শোনার অধিকার NCLT-র নেই। ২০২২ সালের মে মাসে সেই যুক্তি মানেনি এনসিএলটি। ট্রাইব্যুনাল জানায়, ব্যক্তিগত গ্যারান্টারের বিরুদ্ধে এই ধরনের দেউলিয়া প্রক্রিয়া শোনার অধিকার এনসিএলটির রয়েছে। এরপর সমঝোতার চেষ্টাও হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও সমাধান হয়নি। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ইন্ডিয়া বুলসের আবেদন গ্রহণ করে এনসিএলটি। সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত দেউলিয়া প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
১৭০ কোটি থেকে ২২,০০০ কোটির কীভাবে?
১৭০ কোটি টাকার ঋণ থেকে কীভাবে সুভাষ চন্দ্রের ব্যক্তিগত দেউলিয়া মামলায় ২২,০০০ কোটির হয়ে গেল? এখানে দু’টি বিষয় বুঝতে হবে, ক্রেডিটর এবং ক্রেডিটর ক্লেম। ক্রেডিটর হল সেই ব্যাঙ্ক, আর্থিক সংস্থা বা ব্যক্তি, যাঁর কারও কাছ থেকে টাকা পাওনা রয়েছে। আর ক্রেডিটর ক্লেম হল সেই অঙ্ক, যা ওই ক্রেডিটর দাবি করছেন। সুভাষ চন্দ্রের ব্যক্তিগত ইনসলভেন্সি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর বিষয়টি শুধু ১৭০ কোটি টাকার ওই ঋণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। অন্যান্য ক্রেডিটরও নিজেদের দাবি জমা দেয়। সেই দাবিগুলি পরীক্ষা ও যাচাই করার পর মোট অঙ্ক দাঁড়ায় ২২,০০০ কোটি টাকায়।
তবে এর অর্থ এই নয় যে সুভাষ চন্দ্র নিজে ২২,০০০ কোটি টাকার ব্যক্তিগত ঋণ নিয়েছিলেন। এটি ওই দেউলিয়া মামলায় ক্রেডিটরদের মোট অ্যাডমিটেড ক্লেম। অর্থাৎ ১৭০ কোটি টাকার ঋণ ছিল এই মামলা শুরু হওয়ার অন্যতম কারণ। কিন্তু ব্যক্তিগত দেউলিয়া প্রক্রিয়া এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য ঋণদাতারাও এগিয়ে আসে। মোট অ্যাডমিটেড ক্লেম প্রায় ২২,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছয়।
২২,০০০ কোটির সেটেলমেন্ট ৬.৫ কোটি টাকায়?
ঋণ শোধের প্ল্যান দেন সুভাষ চন্দ্র। কত টাকা এবং কীভাবে ক্রেডিটরদের ফেরত দেওয়া সম্ভব, তার একটা পরিকল্পনা। প্রায় ২২,০০০ কোটি টাকার অ্যাডমিটেড ক্লেমের সামনে সেই পরিকল্পনায় ক্রেডিটরদের দেওয়ার জন্য রাখা হয়েছিল মাত্র ৬.২৫ কোটি টাকা। এর সঙ্গে প্রক্রিয়ার খরচ বাবদ প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা রাখা হয়েছিল। মোট অঙ্ক প্রায় ৬.৫ কোটি টাকা। ২২,০০০ কোটির বেশি সামনে ৬.৫ কোটি টাকা! মানে ক্রেডিটরদের মোট দাবির মাত্র প্রায় ০.০২৮ শতাংশ ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব। সহজ ভাষায়, কোনও ক্রেডিটরের ১০০ টাকা দাবি থাকলে এই পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি পাবেন প্রায় ৩ পয়সা। বাকি প্রায় ৯৯.৯৭ টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৯৯.৯৭ শতাংশের 'হেয়ার কাট’। এই ‘হেয়ার কাট’ মানে এই নয় যে ৯৯.৯৭ শতাংশ টাকা মাফ করে দেওয়া হল। এর অর্থ হল, ক্রেডিটরের মোট দাবির তুলনায় বাস্তবে যে পরিমাণ টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তার মধ্যে ব্যবধান।
৮০ শতাংশের বেশি ভোটে অনুমোদন
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই পরিকল্পনাকে অনুমোদন করেছে সিংহভাগ ক্রেডিটর। প্রায় ৮০.৮১ শতাংশ ভোট পড়েছে এই পরিকল্পনার পক্ষে। ইনসলভেন্সি প্রক্রিয়ায় ঋণদাতাদের ভোটের অধিকার থাকে। তবে সাধারণ নির্বাচনের মতো প্রত্যেকের ভোটের গুরুত্ব সমান নয়। যে সংস্থার দাবি যত বেশি, তার ভোটিং পাওয়ারও তত বেশি। এ ক্ষেত্রে সুভাষ চন্দ্রের রিপেমেন্ট প্ল্যান ৮০.৮১ শতাংশ ভোটিং শেয়ারের সমর্থন পেয়েছে। তবে বেশ কিছু বড় ক্রেডিটর এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে। এদের মধ্যে রয়েছে এলআইসি হাউজিং ফিনান্স, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক, কানাড়া ব্যাঙ্ক, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, আরবিএল ব্যাঙ্ক এবং ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক।
এলআইসি হাউজিং ফিনান্সের অ্যাডমিটেড ক্লেম ছিল প্রায় ১৩২২ কোটি টাকা। অথচ এই পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা পাচ্ছে প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা। এলআইসি হাউজিং ফিনান্স-সহ অন্য 'বিরোধী ক্রেডিটররা' প্রশ্ন তোলে, এত বড় ক্লেমের সামনে এত কম টাকার পরিকল্পনা কীভাবে অনুমোদন করা হল?
মামলার গতিপ্রকৃতি
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এনসিএলটির দুই সদস্যের বেঞ্চ এই রিপেমেন্ট প্ল্যান নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করে। জুডিশিয়াল মেম্বার অশোককুমার ভরদ্বাজ পরিকল্পনাটি অনুমোদনের পক্ষে ছিলেন। অন্যদিকে, টেকনিক্যাল মেম্বার রিনা সিনহা পুরী পরিকল্পনাটি অনুমোদন দিতে অস্বীকার করেন। তিনি জানান, এতে আইনি ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটি রয়েছে। দুই সদস্যের মত আলাদা হওয়ায় তৃতীয় সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তৃতীয় সদস্য হিসেবে আসেন জুডিশিয়াল সদস্য নীলেশ শর্মা। ২০২৬ সালের ২৫ অগাস্ট নীলেশ শর্মা জানান, সুভাষ চন্দ্রের দেওয়া রিপেমেন্ট প্ল্যান আইবিসির ১১৪ নম্বর ধারায় অনুমোদন করা উচিত।
৯৯.৯৭ শতাংশ 'হেয়ার কাট' কীভাবে মেনে নেওয়া হল?
একে বেআইনি বলে দাবি করেছে এলআইসি হাউজিং ফিনান্স। তাদের প্রশ্ন, এত কম টাকার পরিকল্পনা কীভাবে অনুমোদন দেওয়া হল? আরও একটি আপত্তি ছিল, ৬.৫ কোটি টাকার অঙ্কটি রিপেমেন্ট প্ল্যানে ইন্ডিকেটিভ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ ফেরত দেওয়ার অঙ্ক পুরোপুরি নির্দিষ্ট নয়। নীলেশ শর্মা অবশ্য এই আপত্তিগুলি শোনেননি। এর কারণ, ৮০.৮১ শতাংশ ভোট এই পরিকল্পনার পক্ষে ছিল। বিরোধিতা করা ক্রেডিটরদের মোট ভোট ২০ শতাংশেরও কম।
সত্যিই ২২ হাজার কোটির বদলে মাত্র ৬.২৫ কোটি দিচ্ছেন সুভাষ চন্দ্র?
ইকনমিকস টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২২,০০৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল এসেল/জি গোষ্ঠীর সংস্থাগুলি। ব্যক্তিগত গ্যারান্টার সুভাষ চন্দ্র। ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যক্তিগত ঋণ নয়। অনুমোদিত প্ল্যান অনুযায়ী, মূল ঋণগ্রহীতা সংস্থাগুলি দেবে প্রায় ১,৪৯৪ কোটি টাকা। এর সঙ্গে ব্যক্তিগত গ্যারান্টার হিসেবে সুভাষ চন্দ্র দেবেন ৬.২৫ কোটি টাকা। এ কারণেই সরকারি আধিকারিকেরা বিষয়টিকে সরলভাবে ২২ হাজার কোটি টাকার ঋণে ৯৯.৯৭ শতাংশ হেয়ারকাট হিসেবে দেখানো ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন। কারণ মূল ঋণ এবং ব্যক্তিগত গ্যারান্টি, আইনের চোখে দু’টি আলাদা বিষয়। এক সরকারি আধিকারিককে উদ্ধৃত করে ইকনমিকস টাইমসের রিপোর্ট বলছে, সুভাষচন্দ্র নিজে ২২ হাজার কোটি টাকা ধার নেননি। ওই অঙ্কটি হল এসেল/জি গোষ্ঠীর একাধিক সংস্থার নেওয়া ঋণের জন্য ব্যক্তিগত গ্যারান্টি। মূল ঋণগ্রহীতা সংস্থাগুলি এখনও সেই ঋণের জন্য দায়বদ্ধ। প্রস্তাবিত ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনায় মূল ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রায় ১,৪৯৪ কোটি টাকা এবং সুভাষচন্দ্রের কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে ৬.২৫ কোটি টাকা পাওয়ার কথা।
I have seen & observed social media posts since past 3 days on the issue. Some of the posts also included hashtags like #PaiseVapasKaro.There has been a wrong perception & understanding about the matter. Hence,I am giving a detailed account of the entire matter. pic.twitter.com/UbL5xXFq6L
— Subhash Chandra (@subhashchandra) August 30, 2026
সুভাষ চন্দ্রের দফতরের ব্যাখ্যা
সুভাষ চন্দ্রের দাবি, কয়েকটি মিডিয়া রিপোর্টে ঠিকঠাকভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হয়নি। ২২,০০০ কোটি টাকার সুভাষ চন্দ্রের বকেয়া দেনা নয়। তিনি ছিলেন শুধু ব্যক্তিগত গ্যারান্টার। তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনও ঋণদাতার কাছ থেকে টাকা ধার নেননি। এর বেশিরভাগ গ্যারান্টিই ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারির পরে দেওয়া হয়েছিল। ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনার যে সব ঋণদাতা বিরোধিতা করেছিল, তারা ব্যক্তিগত গ্যারান্টার হিসেবে সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে মোট ৩,৯৯২ কোটি টাকার দাবি জানিয়েছিল। এর মধ্যে ৬২০ কোটি টাকার ইতিমধ্যেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩,৩৭২ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে ঋণদাতারা মোট ২,৮৫৬ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই ছেড়ে দিয়েছে। ফেরত দেওয়া হয়েছে ১,৬৩৩ কোটি টাকা। বাকি ১,২২৩ কোটি টাকা। এই বকেয়ার উপর মোট ৩,৯৯২ কোটি টাকার দাবি করেছে ঋণদাতারা।