সিঙ্গুর ও টাটা গোষ্ঠী নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীসিঙ্গুরে শিল্প ফেরানো হবে, বিধানসভা ভোটের আগে থেকেই একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। বলা হয়েছিল, টাটা গোষ্ঠীকে ফের বাংলায় ফেরানো হবে। এ বার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, টাটা গোষ্ঠীকে আনা হবে পশ্চিমবঙ্গে।
সিঙ্গুর ও টাটা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কী বললেন?
আজ অর্থাত্ শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু সিঙ্গুরে শিল্প নিয়ে ইতিবাচক বার্তাই দিলেন। কিন্তু একইসঙ্গে জানালেন, সিঙ্গুরের জমি রাজ্য সরকারের হাতে নেই। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'টাটাকে এখানে আনবো আমরা। সিঙ্গুরের জমি সরকারের হাতে এখন নেই। বিগত সরকার তার মালিকানা ওখানকার কৃষকদের দিয়ে দিয়েছে বা ওখানকার জমির মালিকদের দিয়ে দিয়েছে। তাঁরা ওই জমিতে না আলু ফলাতে পাচ্ছেন, না ধান চাষ করতে পারছেন, ফাইনালি যে মাছ চাষের যে উদ্যোগ নিয়েছিল, সেই মাছ চাষও করা যাচ্ছে না। কারণ ওই জমিতে মাটিতে টাটার রড, সিমেন্ট সব কিছু মিশে রয়েছে। নেচার চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে।'
শিল্প সচিবের নেতৃত্বে টিম
তাহলে উপায়? টাটা ও সিঙ্গুরের শিল্প নিয়ে শুভেন্দু বললেন, 'আমাদের শিল্প দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন অত্যন্ত সিনিয়র, ৫ বারের বিধায়ক তাপস রায়। শিল্প দফতরের টিমও ভাল রয়েছে। ইতিমধ্যে আমার কাছে বহু প্রক্প এসে গিয়েছে, আমি বিগত সরকারের মতো মিথ্যাচার করতে চাই না। আমি এ ক্ষেত্রে প্রপোজালগুলিকে খতিয়ে দেখার জন্য শিল্প সচিবের নেতৃত্বে টিম বানিয়ে দিয়েছি।'
তাঁর বক্তব্য, যাঁরা বিনিয়োগ করবেন বলে আসছেন, তাঁরা শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফুলের তোড়া দিয়ে ছবি তুলতে আসছেন, নাকি প্রকৃত পক্ষে কিছু করতে চাইছেন। একই সঙ্গে বাজেটে শিল্প নিয়ে বেশ কয়েকটি বড় ঘোষণা করা হবে বলেই ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
আমার প্রথম কাজ টাটাদের ফেরানো: তাপস রায়
রাজ্যের শিল্প দফতরের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাপস রায়কে। দায়িত্ব নিয়েই টাটাদের ফেরানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনিও। তাপস বলেন, 'আমার প্রথম কাজ হবে টাটাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। সিঙ্গুর ও অন্যান্য জায়গায়। সেটা তো দেখতে হবে, টাটাকে বলতে হবে। সিঙ্গুরে যে কী অবস্থা করে রেখেছে ১৫ বছরে। না শিল্প, না কৃষি। যে ৬ হাজার ৬৮৮ টি ছোট বড় কারখানা যে অনাচার, অত্যাচার, দুর্বিচারে যে চলে গিয়েছে, সেই ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের ফিরিয়ে নিয়ে আসা।'