E 20 Petrol : E 20 পেট্রোল ব্যবহারে বাইক-গাড়ি কম মাইলেজ দিচ্ছে? জানুন সত্যিটা

যেসব গাড়ি মূলত E10-এর জন্য তৈরি, সেগুলিতে দীর্ঘদিন E20 ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে ফুয়েল সিস্টেমের রাবারের কিছু অংশ—যেমন হোস, গ্যাসকেট, সিল ও ও-রিং—প্রভাবিত হতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে এগুলি বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে।

Advertisement
E 20 পেট্রোল ব্যবহারে বাইক-গাড়ি কম মাইলেজ দিচ্ছে? জানুন সত্যিটা    E 20 পেট্রোল নিয়ে সরগরম দেশের রাজনীতি
হাইলাইটস
  • ভারত ইতিমধ্যেই পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে
  • আখ, ভুট্টা ও ধানের মতো বায়োমাস থেকে উৎপাদিত ইথানল পেট্রোলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে

ইথানল টোয়েন্টি (E20) পেট্রোল বিক্রি নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। গাড়িচালকদের একাংশের অভিযোগ, এই জ্বালানি ব্যবহারের ফলে মাইলেজ কমছে। তবে সেই দাবি মানতে নারাজ কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়করি। সমালোচকদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, ইথানল টোয়েন্টি পেট্রোল ব্যবহারের কারণে সমস্যায় পড়েছে, এমন একটি গাড়িরও নামও কেউ বলতেল পারবেন না। 

পিটিআই-কে উদ্ধৃত করে গড়করি বলেন, 'E 20 পেট্রোলের কারণে কোনও গাড়িতে সমস্যা হয়েছে। এমন একটি ঘটনাও নেই। দেশে এমন একটি গাড়ির নাম বলুন, যেটি ই-২০ ব্যবহারের কারণে সমস্যায় পড়েছে। শুধু একটি নাম বলুন।' 

তিনি আরও বলেন, 'উচ্চমাত্রার ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল চালু হওয়া নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। আসলে টাকা খাইয়ে প্রচার করা হচ্ছ। কোনওভাবেই তা সমর্থনযোগ্য নয়।' 

ভারত ইতিমধ্যেই পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। আখ, ভুট্টা ও ধানের মতো বায়োমাস থেকে উৎপাদিত ইথানল পেট্রোলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা।

গড়করি বলেন, জ্বালানি আমদানির জন্য ভারতকে প্রতি বছর প্রায় ২২ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করতে হয়। তাঁর মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা যেমন অর্থনীতির জন্য বড় বোঝা, তেমনি পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর।

৪৫ হাজার কোটি টাকা গেল কোথায়?

গড়করির পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন সংস্থাগুলি ইথানল উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত এবং সেই কারণেই তিনি ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের পক্ষে সওয়াল করছেন, এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, তাঁর পরিবারের সদস্যদের মালিকানায় চিনি কল রয়েছে, তবে তাদের ব্যবসা ইথানল উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল নয়।

তিনি আরও দাবি করেন, দেশে ইথানলের উদ্বৃত্ত উৎপাদন হওয়ায় ভুট্টা থেকে ইথানল তৈরির সিদ্ধান্ত উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের কৃষকদের অতিরিক্ত ৪৫ হাজার কোটি টাকা আয় এনে দিয়েছে।

তাঁর কথায়, 'যখন আমরা ভুট্টা থেকে ইথানল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তখন বাজারে ভুট্টার দাম ছিল প্রতি কুইন্টাল ১,২০০ টাকা, আর এমএসপি ছিল ১,৮০০ টাকা। সিদ্ধান্তের পর ভুট্টার দাম বেড়ে ২,৮০০ টাকায় পৌঁছেছে। এর ফলে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের কৃষকদের পকেটে অতিরিক্ত ৪৫ হাজার কোটি টাকা গেছে।' 

Advertisement

গাড়ির নির্গমন সংক্রান্ত নিয়মে সংশোধনের প্রস্তাব

সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক যানবাহনের নির্গমন সংক্রান্ত নিয়মে সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে আরও বেশি মাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো যায়। সেন্ট্রাল মোটর ভেহিকল রুলস, ১৯৮৯-এর খসড়া সংশোধনীতে E85, E100, B100 বায়োডিজেল এবং হাইড্রোজেন-সিএনজি (HCNG)-এর মতো জ্বালানির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করার প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের ফ্লেক্স-ফুয়েল ও সম্পূর্ণ বায়ো-ফুয়েলচালিত গাড়ির ব্যবহার সহজ হবে।

E-20 কি গাড়ির ফুয়েল সিস্টেমের ক্ষতি করে?

এদিকে, অটোমোটিভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (ARAI)-র এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, যেসব গাড়ি মূলত E10-এর জন্য তৈরি, সেগুলিতে দীর্ঘদিন E20 ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে ফুয়েল সিস্টেমের রাবারের কিছু অংশ—যেমন হোস, গ্যাসকেট, সিল ও ও-রিং—প্রভাবিত হতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে এগুলি বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে গবেষণায় ধাতব অংশে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পাওয়া যায়নি।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, চারচাকার গাড়ির ক্ষেত্রে ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব সংক্রান্ত ফলাফল সব নির্মাতার ক্ষেত্রে একরকম নয়। এক নির্মাতার গাড়িতে ৪০০ ঘণ্টার পরীক্ষায় কোনও সমস্যা ধরা পড়েনি। তবে অন্য এক নির্মাতার গাড়িতে মোট ৮০৯ ঘণ্টা পরীক্ষার পর এক্সহস্ট ভালভে তাপজনিত ও যান্ত্রিক ত্রুটি (থার্মোমেকানিক্যাল ফেলিওর) দেখা যায়। যদিও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মতে, এর পেছনে E20 ছাড়াও অন্য কারণ থাকতে পারে।

দুচাকার গাড়ির ক্ষেত্রে তিনটি নির্মাতা সংস্থার পরীক্ষায় কোনও সমস্যা ধরা পড়েনি। তবে দেখা গেছে, E10-এর তুলনায় E20 ব্যবহারে জ্বালানির খরচ প্রায় ২ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হয়েছে। যা গাড়ির মডেলভেদে পরিবর্তিত হয়েছে।

POST A COMMENT
Advertisement