বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্মী কমছে।কর্মী কমছে দেশের বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে। একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ শেষ হওয়া অর্থবর্ষে দেশের প্রথমসারির ১০টি বেসরকারি ব্যাঙ্কে মোট কর্মী সংখ্যা কমেছে ১০,১১৪। তার আগের অর্থবর্ষ ২০২৪-২৫-এ কর্মী সংখ্যা কমেছিল ৯,৬৩৭। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই ১০টি ব্যাঙ্কের মোট কর্মী সংখ্যা ৭ লক্ষ ৫৯ হাজার ২০৩ থেকে কমে হয়েছে ৭ লক্ষ ৩৯ হাজার ৪৫২। মানে এক বছরে কমেছে প্রায় ২.৬ শতাংশ কর্মী।
২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের তুলনায় ছবিটা একেবারেই উল্টো। ওই অর্থবর্ষে দেশের বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি মোট ৮৩ হাজার ৬৪৫ জন কর্মী নিয়োগ করেছিল। কিন্তু পরের ২ বছরে কর্মী সংখ্যা কমেছে। যে বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে কর্মী সংখ্যা কমেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক, ইন্ডাসইন্ড ব্যাঙ্ক, ইয়েস ব্যাঙ্ক, ফেডারেল ব্যাঙ্ক, আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্ক, বন্ধন ব্যাঙ্ক এবং আরবিএল ব্যাঙ্ক।
কর্মী ছাঁটাইয়ে এগিয়ে চার বড় ব্যাঙ্ক
কর্মী সংখ্যা কমানোর ক্ষেত্রে দেশের চারটি বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাঙ্ক সবচেয়ে এগিয়ে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই চার ব্যাঙ্ক মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৩৬৪ জন কর্মী কমিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী কমিয়েছে আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক। মোট ৬ হাজার ৬৩৩ জন। এরপর রয়েছে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক। সেখানে কর্মী সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ৩৪৬ জন। অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কে কমেছে ৩ হাজার ১১৬ জন এবং কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্কে ১ হাজার ২৬৯ জন।
কেন কর্মী কমছে?
এটা খালি খরচ কমানোর জন্য কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো সরল নয়। ব্যাঙ্কের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে এই কর্মী সংখ্যা কমার বিষয়টি সরাসরি যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে নন-সুপারভাইজরি কর্মীদের সংখ্যা। ক্লারিক্যাল এবং সাব-অর্ডিনেটস্তরের কর্মীর সংখ্যাও কমছে। আসলে ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন এবং এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মী সংখ্যা না বাড়িয়েই ব্যবসা এবং শাখা বাড়িয়ে চলেছে বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি। ফলে রুটিন এবং ব্যাক-অফিসের কাজে কর্মীর প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে।