ভেনেজুয়ালার পরিস্থিতিতে কি সোনা-রুপোর দাম বাড়বে?Venezuela US attack Gold price: ভেনেজুয়েলার একাধিক জায়গায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা। তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ববাজারে। খনিজ তেল থেকে শুরু করে সোনা-রুপোর দামে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েই এখন তুঙ্গে জল্পনা। বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মতে, কমোডিটি মার্কেটে এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব সবচেয়ে আগে পড়তে পারে।
তবে সব ক্ষেত্রেই প্রভাব সমান হবে, এমনটা নয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, খনিজ তেলের দামে খুব বড় পরিবর্তন নাও হতে পারে। কারণ, ভেনেজুয়েলার তেলের পরিমাণ ততটাও বেশি নয়। ফলে বিশ্ব স্তরে তেল সরবরাহে তাদের তেমন বড় কোনও ভূমিকা নেই। ফলে মার্কিন হামলার ফলে খনিজ তেলের আন্তর্জাতিক সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা কম। সে কারণে তেলের দাম সীমিত পরিসরেই ওঠানামা করতে পারে।
কিন্তু সোনা ও রুপোর ক্ষেত্রে ছবিটা আলাদা। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি বা আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়লেই বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝোঁকেন। সেই তালিকায় প্রথমেই থাকে সোনা ও রুপো। ফলে সোমবার বাজার খুললেই এই দুই মূল্যবান ধাতুর দামে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।
Ya Wealth-এর ডিরেক্টর অনুজ গুপ্তর মতে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার ফলে জিও-পলিটিক্যাল টেনশন আরও বেড়েছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়বে কমোডিটি মার্কেটে। তাঁর দাবি, সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই কমোডিটি সেগমেন্টে ট্রেড হওয়া বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে পারে। শুধু সোনা বা রুপো নয়, তামা, কাঁচা তেল এবং গ্যাসোলিনের দামও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
অনুজ গুপ্তর অনুমান, কমেক্স বাজারে সোনার দাম বর্তমানে আউন্স প্রতি ৪,৩৪৫.৫০ ডলার রয়েছে। সেখান থেকে বেড়ে ৪,৩৮০ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে। একই সঙ্গে রুপোর দাম ৭৫ থেকে ৭৮ ডলারে পৌঁছতে পারে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দামও ব্যারেল প্রতি ৬২ ডলার থেকে বেড়ে ৬৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে বলে তাঁর মত।
অন্যদিকে, Capital-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা সন্দীপ পাণ্ডের বক্তব্য, আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার সংঘাতের জেরে রুপোর রফতানি সংক্রান্ত শিপিং রুট নিয়েও উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে সোনা ও রুপোর দামে আরও বাড়তি চাপ পড়তে পারে।
ডোমেস্টিক মার্কেটের দিকেও নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরা। অনুজ গুপ্ত জানিয়েছেন, এমসিএক্স-এ সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। রুপোর দাম বেড়ে হতে পারে কেজি প্রতি ২ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। খনিজ তেলের দাম এমসিএক্স-এ ৫,২০০ থেকে ৫,৩০০ টাকার আশেপাশে থাকতে পারে বলে তাঁর অনুমান।
বর্তমানে এমসিএক্স-এ এক কেজি রুপোর দাম ২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫৯৯ টাকা। রুপোর সর্বকালীন রেকর্ড দর ছিল কেজি প্রতি ২ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ফিউচার অনুযায়ী ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৭৫২ টাকা। সোনার রেকর্ড দর ছিল ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে, ভেনেজুয়েলা ঘিরে যে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তাতে আগামিদিনে সোনা-রুপোর বাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে। সেই পরিস্থিতির দিকেই তাকিয়ে বিনিয়োগকারীরা। সোমবার বাজার খোলার পরই অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।