মার্কিন-ইরান যুদ্ধে ভারতে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইরান সংঘাতের জের। চাপ বাড়তে পারে ভারতের অর্থনীতির উপর। অশোধিত তেলের দামের পরোক্ষ প্রভাবে দেশে মূল্যবৃদ্ধি বাড়তে পারে। কমতে পারে জিডিপি বৃদ্ধির হারও। এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক বা ADB।

Advertisement
মার্কিন-ইরান যুদ্ধে ভারতে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন`অপরিশোধিত তেল সঙ্কটের প্রভাব কী ভারতে পড়তে পারে?
হাইলাইটস
  • মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইরান সংঘাতের জের।
  • চাপ বাড়তে পারে ভারতের অর্থনীতির উপর।
  • অশোধিত তেলের দামের পরোক্ষ প্রভাবে দেশে মূল্যবৃদ্ধি বাড়তে পারে।

US-Iran War Impact On India: মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইরান সংঘাতের জের। চাপ বাড়তে পারে ভারতের অর্থনীতির উপর। অশোধিত তেলের দামের পরোক্ষ প্রভাবে দেশে মূল্যবৃদ্ধি বাড়তে পারে। কমতে পারে জিডিপি বৃদ্ধির হারও। এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক বা ADB। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মহলের এই রিপোর্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত যেহেতু আমদানি করা তেল ও গ্যাসের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল, তাই পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশের বাজারে।

ADB-র প্রধান অর্থনীতিবিদ আলবার্ট পার্ক জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ ঘিরে তৈরি হওয়া ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা প্রত্যাশার তুলনায় বেশি দিন চলতে পারে। তার জেরে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খলেও চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, আগামী বছর গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৯৬ ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ২০২৭ সালেও সেই দাম প্রায় ৮০ ডলারের আশপাশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে পরিবহণ খরচ, শিল্প উৎপাদন এবং দৈনন্দিন পণ্যের দামের উপর। ফলে সাধারণ মানুষের খরচও বেড়ে যায়। বিশেষ করে পেট্রল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর জেরে খাদ্যপণ্যের দামও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ADB জানিয়েছে, এই পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হারেও পড়তে পারে। আগে যেখানে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৬.৯ শতাংশ থাকবে বলে অনুমান করা হয়েছিল, সেখানে এখন তা কমে ৬.৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, পরের অর্থবর্ষে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে এবং অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল জ্বালানি আমদানির উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেই দেশের আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। তার প্রভাব পড়ে বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার এবং বাণিজ্য ঘাটতির উপরও। একই সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়ে সাধারণ মানুষের উপর।

Advertisement

ADB আরও জানিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে ভারতে মূল্যবৃদ্ধির হার বা ইনফ্লেশনও অনেকটা বাড়তে পারে। আগে যেখানে ৪.৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তা এখন বাড়িয়ে ৬.৯ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ২.৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে মুদ্রাস্ফীতি। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি সাধারণ মানুষের সংসারের খরচ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শুধু জ্বালানি নয়, সারের দামও বাড়তে পারে এই পরিস্থিতিতে। কারণ গ্যাসের দাম বাড়লে সার উৎপাদনের খরচও বৃদ্ধি পায়। ফলে কৃষকরা কম সার ব্যবহার করতে বাধ্য হতে পারেন। তার প্রভাব পড়তে পারে কৃষি উৎপাদনে। উৎপাদন কমলে খাদ্যপণ্যের জোগানেও টান পড়তে পারে। আর তার ফলেই বাড়তে পারে খাদ্যদ্রব্যের দাম।

আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারত-সহ এশিয়ার একাধিক দেশের উপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক মাস পরিস্থিতির দিকে নজর রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। 

POST A COMMENT
Advertisement