ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে দেশে কৃষক এবং রফতানিকারকদের একাংশ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ভারতীয় কৃষি পণ্যবহনকারী ৮০০ থেকে ১০০০ কন্টেনার দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরে আটকে পড়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই কন্টেনারগুলির দ্রব্য কোনও দেশেই রফতানি করা যাচ্ছে না। ফলে লক্ষ লক্ষ টাকার পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের একটি প্রধান বন্দর এবং গাল্ফ অঞ্চলে কৃষি পণ্য বিতরণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয় দুবাইের জেবেল আলি বন্দর। সংঘাতের কারণে সেটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলস্বরূপ, দুবাই থেকে রফতানি পরিষেবাও বন্ধ। বন্দরে পড়ে রয়েছে ভারতের চালানও।
আটকে থাকা কন্টেনারগুলিতে মূলত কলা, আঙুর, ডালিম, তরমুজ, শাকসবজি এবং পেঁয়াজের মতো স্বল্পস্থায়ী কৃষি পণ্য। এগুলি মহারাষ্ট্র থেকে প্রধানত রফতানি হয়। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ওই রাজ্যের কৃষকরা। আটকে থাকা কন্টেনারের ভিতরে এই ফল ও সবজি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অর্থাৎআর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ভারতীয় রফতানিকারকরা। রমজান মাসে উপসাগরীয় দেশগুলিতে এই ফলের, বিশেষ করে আঙুর-ডালিমের চাহিদা সর্বোচ্চ। তা সত্ত্বেও কন্টেনারগুলি আটকে থাকায় বাণিজ্যে বিপুল ক্ষতির সম্ভাবনা।
যুদ্ধের কারণে কন্টেনার আটকে রয়েছে, ফলে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলিতে ফলের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকরা এই ঋতু পরিবর্তন অনুসারে ফসল কাটার পরিকল্পনা করেন। তবে এ বছর সংঘাতের কারণে রফতানি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্দরগুলিতে উপস্থিত প্রায় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টন আঙুর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষেতে হওয়া ১০ হাজার টন রফতানিমূলক আঙুর এখন স্থানীয় বাজারে লোকসানে বিক্রি করা ছাড়া উপায়ও নেই।
মুম্বইয়ের জওহরলাল নেহরু বন্দর থেকে দুবাইগামী প্রায় ৮০টি কন্টেনার থেকে আঙুর খালাস করা হয়নি। নাসিক থেকে রফতানির জন্য ২০০টিরও বেশি কন্টেনার বন্দরের বাইরে আটকে রয়েছে। যার ফলে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ এবং রফতানিকারকা বলছেন, জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত সমস্যা অব্যাহত থাকবে।
ইন্ডিয়ান গ্রেপ এক্সপোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের কর্তা মধুকর ক্ষীরসাগরের মতে, 'প্রতিটি আটকে থাকা কন্টেনারের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হচ্ছে। যার ফলে লক্ষ লক্ষ টাকার ধাক্কার মুখোমুখি আমরা।'
কৃষক সংগঠনগুলি অবিলম্বে সরকারি সাহায্যের দাবি জানাচ্ছে। মহারাষ্ট্র রাজ্য পেঁয়াজ চাষি সমিতির সভাপতি ভারত দিঘোল সরকারের কাছে প্রতি কুইন্টালে দেড় হাজার টাকা ভর্তুকি প্রদানের পাশাপাশি আটকে থাকা কন্টেনারগুলির জন্য বন্দর ফি দাবি করেছেন। রফতানিকারদের চালান ক্লিয়ার না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা করার জন্য একটি অস্থায়ী ক্রয় ব্যবস্থা তৈরির আবেদনও জানানো হয়েছে।
কিছু রফতানিকারক ইতিমধ্যেই তাদের পণ্য প্রত্যাহার শুরু করেছেন। শীর্ষস্থানীয় রফতানিকারক প্রকাশ গায়কোয়াড় বলেছেন, দীর্ঘ বিলম্বের কারণে তাঁকে কলা এবং পেঁয়াজের কন্টেনার প্রত্যাহার করতে হচ্ছে। কারণ বিলম্বের ফলে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। নাসিক কাস্টমসে পাঠানো পেঁয়াজের একটি চালান খালাস করতে ৪ দিন সময় লেগেছিল। ততক্ষণে পুরো পণ্যটি ইতিমধ্যেই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
উপসাগরীয় দেশ এবং ইরান থেকে আমদানিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আপেল, কিউই এবং খেজুর জাতীয় পণ্য ভর্তি প্রায় ৬০০-৭০০ কন্টেনার ইরানের বন্দরে আটকে পয়েছে। ফল ব্যবসায়ী সুয়োগ জাদের মতে, এই কন্টেনারগুলির মূল্য যথেষ্ট বেশিষ কিউই কন্টেনারগুলির মূল্য ৩০ থেকে ৩২ লক্ষ টাকা এবং খেজুরের কন্টেরাগুলির মূল্য ৪৫ লক্ষ টাকা।
তাছাড়া ভারতের চিনি রফতানি অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। কেন্দ্রীয় সরকার এই মরশুমে ২০ লক্ষ টন চিনি রফতানির অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু রফতানিকারকদের অনুমান, বর্তমান সংঘাতের কারণে বাজারে মাত্র ৫ লক্ষ টন চিনি পৌঁছবে।