West Bengal Budget 2026: রাজ্যে কত শিল্প আসছে? বাজেটে ১৪ প্রস্তাবেই 'মাস্টারপ্ল্যান' দিল BJP সরকার

সোমবার বিধানসভায় বাজেট বক্তৃতা দেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বাজেটে শিল্পে জোর দেওয়া হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ, একাধিক বড় ঘোষণা রাজ্যের। পড়ুন সহজ বুলেট পয়েন্টসে।

Advertisement
রাজ্যে কত শিল্প আসছে? বাজেটে ১৪ প্রস্তাবেই 'মাস্টারপ্ল্যান' দিল BJP সরকারশিল্পায়ন নিয়ে বাজেটে কী কী ঘোষণা?
হাইলাইটস
  • লক্ষ্য শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
  • ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম বাজেট পেশ করল BJP সরকার।
  • শিল্প নিয়ে যা যা ঘোষণা, পড়ুন এক নজরে।

West Bengal Budget 2026: লক্ষ্য শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি। সেদিকে নজর রেখেই ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম বাজেট পেশ করল BJP সরকার। সোমবার বিধানসভায় বাজেট বক্তৃতা দেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। শিল্প, প্রযুক্তি, স্টার্ট-আপ এবং উৎপাদন ক্ষেত্রকে চাঙ্গা করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখেন। সেমিকন্ডাক্টর থেকে শুরু করে গ্রিন এনার্জি, বৈদ্যুতিক গাড়ি, টেক্সটাইল গবেষণা এবং লজিস্টিকস পরিকাঠামোয় জোর দেওয়া হয়েছে এবারের বাজেটে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নিঃসন্দেহে দুর্গাপুরে সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাব। গ্রিন এনার্জি, ইলেকট্রিক ভেহিকল, সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস এবং ডিজাইন শিল্পে বিনিয়োগ টানতে ৫,০০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাওড়া-হুগলির পাটশিল্প এবং দার্জিলিং-শিলিগুড়ির কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ ক্লাস্টারকে ঢেলে সাজাতে ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

শিল্প নিয়ে যা যা ঘোষণা, পড়ুন এক নজরে:

  • দুর্গাপুরে একটি সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাব।
  • গ্রিন এনার্জি, বৈদ্যুতিক যান, সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস ও ডিজাইন শিল্পের মতো আধুনিক ব্যবসায় উৎসাহ দিতে ৫,০০০ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল।

  • West Bengal Inland Fisheries and Regulation Act, 1976 পুনর্বিবেচনা করা হবে। ডেভেলপ করা যায়, এমন জমির ব্যবহার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিই উদ্দেশ্য।

  • হাওড়া-হুগলির পাটশিল্প এবং দার্জিলিং-শিলিগুড়ির কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ ক্লাস্টার নতুন করে গড়ে তোলা হবে। এর জন্য ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব।

  • ডানকুনিকে মাল্টি-মডাল লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ডানকুনি-সুরাট ডেডিকেটেড ট্রেড করিডর বাস্তবায়নে উদ্যোগ।

  • স্মার্ট টেক্সটাইল ও উন্নত গবেষণার জন্য কেন্দ্রের TEXTRAMS কর্মসূচি চালুর ঘোষণা।
     
  • আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন স্টার্ট-আপ নীতি আনা হবে। তাতে ৪০ কোটি টাকার ইনকিউবেশন ফান্ড। ৬০ কোটি টাকার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড।
     
  • আন্তর্জাতিক স্তরে কর্মরত বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের আকৃষ্ট করতে Chief Minister Science & Technology Talent Attraction Fund গঠন। তাঁদের বেতন, গবেষণার জন্য ৫০ কোটি বরাদ্দের প্রস্তাব। 
     
  • দোকান, রেস্তোরাঁ, অফিস, লজিস্টিকস ও হসপিটালিটি সেক্টর শর্ত বিশেষে ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
     
  • লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ ও কর্পোরেট ভ্যালু ক্রিয়েশনে জোর দেওয়া হবে। 
     
  • বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
     
  • ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত স্তরের একাধিক অনুমতির জটিলতা এড়ানো হবে। Single Window Clearance System চালুর ঘোষণা।
     
  • নতুন ব্যবসায়ীদের হাজারো নিয়মনীতি, পেপারওয়ার্কের চাপ কমাতে বিভিন্ন আইন ও বিধির সরলীকরণ করা হবে।
     
  • ব্যবসায় সিন্ডিকেট ও বেআইনি অর্থ আদায় রুখতে নতুন আইন আনার প্রস্তাব।

শিল্পে বিনিয়োগ টানতে প্রশাসনিক সংস্কারেরও ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যবসা করতে গেলে প্রচুর পেপার ওয়ার্ক লাগে। সেই ব্যবস্থা সরলীকরণ করা হবে। ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশির প্রোজেক্টের ক্ষেত্রে সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থা করা হবে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সহজে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়ীদের নিয়মনীতির চাপ কমাতে আইনের সরলীকরণেও জোর দেওয়া হবে।

বড় বিনিয়োগে বাধা দূর করতে ইনল্যান্ড ফিশারিজ সংক্রান্ত পুরনো আইন পুনর্বিবেচনার কথাও জানিয়েছে সরকার। এছাড়া ব্যবসার ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট ও বেআইনি অর্থ আদায় রুখতে নতুন আইন আনার প্রস্তাব রয়েছে।

সব মিলিয়ে, শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে লক্ষ্য করেই এবারের বাজেটে একাধিক বড় পদক্ষেপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

POST A COMMENT
Advertisement