সরকারি কর্মীদের আন্দোলনের হুঁশিযারিরাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হবে। এই মর্মে তিনটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্যের অর্থ দফতর। তবে সেই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ফুঁসছেন সরকারি কর্মচারীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, এই বিজ্ঞপ্তি আসলে সরকারের আরও একটি চক্রান্ত। সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বলে দাবি করলেও আদতে তা নয়, বিজ্ঞপ্তির ছত্রে ছত্রে তার প্রমাণ আছে। সরকারের বিরুদ্ধে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকার যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সেখানে উল্লেখ, প্রথম পর্যায়ে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ মেটানো হবে। প্রথম কিস্তি চলতি মার্চ মাসেই দেওয়া হবে। দ্বিতীয় কিস্তি সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে। এই বকেয়া গণনা করা হবে AICPI অনুযায়ী। গ্রুপ এ, বি এবং সি-এর কর্মীরা ডিএ পাবেন তাঁদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টে। সেই টাকা তাঁরা ২৪ মাস তুলতে পারবেন না।
আবার শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত এবং পৌরসভার স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থার মতো অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান কর্মচারী এবং পেনশন ভোগিদের ২০১৮ এপ্রিল থেকে ২০১৯-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ কত, তা উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিভাগ এই হিসাব জানাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে শিক্ষকদের মধ্য়ে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত এই বিষয়গুলো নিয়েই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা। এই বিষয়ে আজ মঙ্গলবার সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। ভোটের আগে ফের রাস্তায় নেমে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। ডিএ-র অআন্যতম মামলাকারী সংগঠন সরকারি কর্মচারী পরিষদও সরকারের সমালোচনা করে।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে ভাস্কর ঘোষ বলেন, 'এই সরকার মাথা নত করেছে। সেটা দেখে আমরা খুশি। তবে তাদের পায়ের তলার মাটি যে আরও নরম করে দেব, সেটা বলে রাখছি। সরকার সুপ্রিম কোর্টে ডিএ-র রায়ের বিরোধিতা করে আবেদন করে রেখেছে আবার বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করছে। এটা পরস্পর বিরোধী। সরকারকে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিলাম। তার মধ্যে সরকারকে শীর্ষ আদালত থেকে আবেদন প্রত্যাহার করতে হবে ও গ্রান্ট অ্যাড নিয়ে য়ে নির্দেশ আছে সেই বিষয়ে পরিষ্কার বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে।'
ভাস্কর ঘোষের তারপরই হুঁশিয়ারি, 'যদি সরকার সাত দিনের মধ্যে আমাদের দাবি পূরণ না করে তাহলে এবার পেনশনার ও সরকারি কর্মী মিলিয়ে ১০ লক্ষ মানুষকে রাস্তায় নামাব। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড প্রচার করা হলে। সরকারকে পাল্টানোর আবেদন করব। সেগুলোর মুখোমুখি হতে না চাইলে রাজ্য সরকারকে এখন থেকে আমাদের নিয়ে ভাবতে হবে।'
সরকারি কর্মচারী পরিষদের সভাপতি দেবাশিস শীলও সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, এই সরকার রাজ্যের কর্মচারীদের সঙ্গে শ্রেণিশত্রুর মতো আচরণ করছে। সুপ্রিম কোর্ট ১২ বছরের ডিএ-র ২৫ শতাংশ এখনই দিতে বলেছিল। কিন্তু সরকার তা করেনি। তারা ১২ বছরের মধ্যে থেকে ৮ বছর কেটে ৪ বছরের টাকা দেবে বলেছে। তাও আবার একটা ইনস্টলমেন্ট দেবে মার্চে ও সেপ্টেম্বরে। অর্থাৎ ৫ মাস পরে দিচ্ছে। এটা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য ছাড়া কিছু নয়। এই সরকার দীর্ঘদিন ধরে সমস্ত ভাতা বাড়ালেও রাজ্যের শিঁড়দাড়া কর্মীদের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দেবাশিস শীলের কথায়, 'সুপ্রিম কোর্ট কি রাজ্য সরকারের সেরেস্তা? আমরা আগেই আদালত অবমাননার আবেদন করেছি। আমরা ডিএ নিয়ে রাস্তায় ও কোর্টে দু জায়গাতেই ছিলাম। আন্দোলন প্রয়োজনে আরও জোরদার হবে।'