হঠাৎ UAE-এর থেকে রেকর্ড সোনা কিনছে ভারত (ছবি: রয়টার্স)সোনা আমদানি করেই চলে ভারতের। এভাবেই মেটানো হয় দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা। আর সম্প্রতি এই আমদানি বিল অনেকটাই বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে কম পরিমাণে সোনা কিনতে বলছে ভারত সরকার। যদিও এই আবেদনের পরও সোনার আমদানির বিল কমছে না। বরং সেটা বেড়েই চলেছে প্রতি মাসে। বিশেষত, সরকার আমদানি শুক্ল বাড়ানোর পর বিল আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ইউনাইটেড আরব এমিরেটস বা ইউএই-এর কাছ থেকে প্রচুর সোনা কিনছে ভারত। এখন প্রশ্ন হল, কেন ইউএই-এর থেকে এত সোনা কিনছে ভারত? এর নেপথ্যে ঠিক কোন কারণ রয়েছে? আসুন গোটা বিষয়টা বুঝে নেওয়া যাক।
আসলে বছরের শুরুতে ৭.৪৯ বিলিয়ন ডলার সোনা আমদানি করেছে ভারত। কিন্তু ২০২৬-এর এপ্রিল-জুনের মধ্যে সেটা ৪৭.১ শতাংশ বেড়ে ১১.০১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়। আর এই বৃদ্ধিটা ঠিক তখন হয়েছে, যখন সরকার আমদানি শুল্ক ৬ থেকে ১৫ শতাংশ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে গোল্ড প্রাইস বাড়ার কারণেও এই বিলে বৃদ্ধি হয়েছে।
ইউএই থেকে কত সোনা আমদানি করে ভারত?
জুন ২০২৬-এ ইউএই থেকে ৬৪৯.৪ মিলিয়ন ডলারের সোনা কিনেছে ভারত। সেখানে জুনে এই দেশটি সোনা কেনা হয়েছিল ২৩৫.৯ মিলিয়ন সোনা। এক্ষেত্রে অঙ্কের হিসেবে ১৭৫.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে সোনা ক্রয়।
যদিও এই সময় অন্যান্য দেশের থেকে সোনা কেনার পরিমাণ অনেকটাই কমেছে। এই সময় ১৭.৭ শতাংশ কমেছে সোনা কেনার পরিমাণ। এক্ষেত্রে ১.৬০ বিলিয়ন থেকে ১.৩২ বিলিয়ন ডলারে নেমে গিয়েছে সোনার আমদানি।
জানলে অবাক হবেন, গত বছর ১.৪০ বিলিয়ন ডলার থেকে চলতি বছরে ৩.১৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গিয়েছে ইউএই থেকে সোনা আমদানি। বৃদ্ধি হয়েছে ১২৪.৮ শতাংশ।
কেন ইউএই থেকে সোনা কেনা বাড়াচ্ছে ভারত?
এর নেপথ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট কারণ। আসলে ভারত এবং ইউএই-এর মধ্যে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট অর্থের সোনা ভারতে ঢুকতে পারে ১৪ শতাংশ শুল্কে। সেখানে অন্যান্য দেশ থেকে ভারতে সোনা আমদানি করতে চাইলে ১৫ শতাংশ শুক্ল দিতে হবে। তাই ইউএই থেকে বেড়েছে সোনা আমদানি।
জিটিআরআই-এর ফাউন্ডার অজয় শ্রীবাস্তবের জানান, এই ১ শতাংশ তফাতটাই বিলিয়ন ডলারের তফাত গড়ে দিতে পারে। তবে মুশকিল হল, এখন অন্যান্য দেশগুলিও ইউএই-এর মাধ্যমেই ভারতে সোনা পাঠায়। যদিও কারা কারা সেই সোনা পাঠাচ্ছে, সেই তথ্য সামনে আসেনি।