মহিলাদের মাসিক ভাতার স্কিমে শর্ত দিল্লি সরকারের।মাসে মাসে ভাতা পেতে এবার মানতেই হবে একটা শর্ত। আর সেটা হল, তিনের বেশি সন্তান হলেই মিলবে না মাসিক ভাতা। বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে চালু হল এমনই নিয়ম। কোন রাজ্যে? কেন এই নিয়ম? পুরোটা জানুন এই প্রতিবেদনে।
বাংলার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতোই দিল্লিতে লক্ষ্মী যোজনায় অনুমোদন দিয়েছে দিল্লির সরকার। এই প্রকল্পের অধীনে যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। প্রকল্পের নিয়মনীতি ও শর্তাবলিও প্রকাশ করেছে দিল্লি সরকার।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানী দিল্লির প্রায় ১৭ লক্ষেরও বেশি মহিলা প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে পাবেন। প্রথমে এই প্রকল্পের নাম মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা রাখা হলেও পরে তা পরিবর্তন করা হয়। ২০২৫ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি, যা এখন বাস্তবায়নের পথে। চলতি বছরের শুরুতেই দিল্লি মন্ত্রিসভা প্রকল্পের জন্য ৫,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল।
টাকা মিলবে কীভাবে?
সরকারি অনুদানের টাকা কীভাবে মহিলাদের স্বাবলম্বী করে তুলবে, তার রূপরেখাও তৈরি করেছে দিল্লির সরকার। প্রতি মাসে প্রাপ্য ২,৫০০ টাকার মধ্যে ১,০০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। বাকি ১,৫০০ টাকা জমা থাকবে মাসিক আরডি অ্যাকাউন্টে। যা ৩ বছর পর সুদে-আসলে ফেরত পাবেন গ্রাহকরা।
আবেদনের বয়স ও নিয়ম
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একটি পরিবার থেকে কেবল এক জন মহিলাই এই সুবিধা পাবেন। পরিবারের প্রবীণতম যোগ্য মহিলা অগ্রাধিকার পাবেন। আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। পাশাপাশি, পরিবারের বার্ষিক আয় হতে হবে ২.৫ লক্ষ টাকার কম, অন্তত ১০ বছর ধরে দিল্লিতে স্থায়ী বাসিন্দা।
কারা পাবেন না?
পরিবারে ৩টির বেশি সন্তান থাকলে মাসিক ভাতা পাবেন না।
পরিবারে চার চাকার গাড়ি থাকলে সুবিধা মেলবে না।
আবেদনকারী মহিলার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে তিনি অযোগ্য হবেন।
পরিবারে বছরে ২,৪০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ খরচ হলে এই সুবিধা মিলবে না।
আবেদনকারী বা তাঁর পরিবার জিএসটি বা আয়কর দিলে।
সরকারি চাকরিজীবী বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর পরিবার।
আবেদন করবেন কীভাবে?
আগামী ১ অগাস্ট থেকে এই সংক্রান্ত একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করতে চলেছে দিল্লি সরকার। আবেদনের জন্য প্রয়োজন-
আধারের ফটোকপি
দিল্লির ভোটার কার্ড
আয় সংক্রান্ত শংসাপত্র
১০ বছরের স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র
ডিবিটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট
মোবাইল নম্বর ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি