Police Jobs 20% Quota: 'অর্জুন বাহিনী'! পুলিশ, ফরেস্ট, দমকলের চাকরিতে বিরাট সুযোগ, যা জানালেন শুভেন্দু

তারাতলার ঘটনার পর ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এবং সিবিল ডিফেন্স থেকে বাহিনী তৈরি করার কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই বাহিনীতে ২০০ জন নিয়োগ করা হয়েছে। নাম দেওয়া হয়েছে অর্জুনবাহিনী।

Advertisement
'অর্জুন বাহিনী'! পুলিশ, ফরেস্ট, দমকলের চাকরিতে বিরাট সুযোগ, যা জানালেন শুভেন্দুসংরক্ষণের বিষয়ে যা জানালেন শুভেন্দু।
হাইলাইটস
  • রাজ্য পুলিশে কোটা ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
  • অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ সংরক্ষণ।

অগ্নিবীরদের জন্য বড় ঘোষণা। সেনাবাহিনীতে চার বছরের চাকরি শেষ করার পর আর বসে থাকতে হবে না। রাজ্যে পুলিশ, দমকল, বনবিভাগ এবং সিভিল ডিফেন্সে অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার গার্ডেনরিচের একটি অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, প্রশিক্ষিত অগ্নিবীরদের বিভিন্ন সরকারি বাহিনিতে কাজে লাগানো হবে।

শুভেন্দু জানান, অগ্নিবীরদের জন্য রাজ্যের চারটি ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ করে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাক্তন সেনাকর্মীদের নিয়ে কাজ করতে সৈনিক বোর্ডের সঙ্গেও প্রশাসন যোগাযোগ শুরু করেছে।

তৈরি হচ্ছে ‘অর্জুনবাহিনী’
বিপর্যয় মোকাবিলায় আরও একটি বড় পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের অধীনে ২০০ জনের একটি নতুন দল ‘অর্জুনবাহিনী’ তৈরি করা হবে।

তারাতলার ঘটনার পর বিপর্যয় মোকাবিলা এবং সিভিল ডিফেন্সের জন্য আরও একটি বিশেষ বাহিনী তৈরির কথা বলেছিলেন বলে জানান শুভেন্দু। এই বাহিনীতে পরবর্তী সময়ে অগ্নিবীরদেরও নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে জানুয়ারি মাসের আগে অগ্নিবীর পাওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

তত দিন পর্যন্ত সৈনিক বোর্ডের মাধ্যমে ২০০ জনকে কাজে নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০০ জন কলকাতায়, ৫০ জন দার্জিলিঙে এবং আরও ৫০ জন সাগরে থাকবেন। আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে কোনও প্রাকৃতিক বা অন্য ধরনের বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ চালানোই হবে তাঁদের মূল দায়িত্ব।

অগ্নিবীর কারা?
কেন্দ্রীয় সরকারের অগ্নিপথ প্রকল্প চালু হয় ২০২২ সালে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনায় যে তরুণ-তরুণীদের নিয়োগ করা হয়, তাঁদের বলা হয় অগ্নিবীর।

প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, অগ্নিবীরদের সাধারণত চার বছরের জন্য বাহিনীতে নিয়োগ করা হয়। এই সময়ের মধ্যে প্রতি ব্যাচের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশকে পরবর্তী সময়ে আরও ১৫ বছরের জন্য বাহিনীতে রাখার সুযোগ রয়েছে। এই প্রকল্প মূলত অফিসার পদমর্যাদার নীচের কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য।

Advertisement

অগ্নিবীরদের কী কী বেনিফিট?
অগ্নিবীর পদে আবেদন করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়স ও শারীরিক যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের তৈরি করা হয়। প্রথম দিকে মাসিক বেতন প্রায় ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়। চার বছরের শেষে তা প্রায় ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

বেতনের একটি অংশ প্রতি মাসে ‘সেবা নিধি’ তহবিলে জমা হয়। সরকারের তরফেও সেখানে সমপরিমাণ অর্থ যোগ করা হয়। চার বছরের মেয়াদ শেষ হলে অগ্নিবীররা প্রায় ১১.৭১ লক্ষ টাকা এককালীন অর্থ পেতে পারেন। এই অর্থ করমুক্ত।

এ ছাড়াও চার বছরের জন্য অগ্নিবীরদের প্রায় ৪৮ লক্ষ টাকার জীবনবিমা থাকে।

চাকরির সময় মৃত্যু হলে কী হবে?
চার বছরের চাকরির মেয়াদে কোনও অগ্নিবীরের মৃত্যু হলে তাঁর পরিবার আর্থিক সহায়তা পায়। বিমার অর্থের পাশাপাশি নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী বাকি চাকরির মেয়াদের বেতন-সহ অন্যান্য প্রাপ্য অর্থও পরিবারের হাতে পৌঁছতে পারে। সব মিলিয়ে এই অঙ্ক ১ কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে সরকারি ব্যবস্থায় উল্লেখ রয়েছে।

চার বছর পর কি চাকরি শেষ?
চার বছর পূর্ণ হলেই প্রত্যেক অগ্নিবীরকে সেনাবাহিনী থেকে স্থায়ী ভাবে রাখা হয় না। প্রতি ব্যাচের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশকে আরও ১৫ বছরের জন্য বাহিনীতে রাখার সুযোগ রয়েছে। যাঁরা সেই সুযোগ পাবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে অগ্নিবীর হিসাবে কাটানো প্রথম চার বছর অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধার হিসাবের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়মে বিবেচিত হয়।

অন্য দিকে, বাকি অগ্নিবীরদের জন্য বিভিন্ন রাজ্য এবং সরকারি বাহিনিতে চাকরির সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে। পুলিশ, বনবিভাগ, কারা দফতর-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংরক্ষণের ঘোষণা হয়েছে একাধিক রাজ্যে।

গুজরাতে পুলিশ, কারা এবং বনবিভাগে অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ছত্তীসগঢ়েও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনিতেও অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। 

POST A COMMENT
Advertisement