AI job search: ছাঁটাইয়ের পর AI-এর 'মাস্টারপ্ল্যান', ৫ মাস পরেই দেড় কোটির চাকরি পেলেন যুবক

AI job search: মুহূর্তের নোটিশে চাকরি চলে গিয়েছিল। টানা পাঁচ মাস ধরে একের পর এক ইন্টারভিউ দিয়েও ভাগ্যের শিকে ছেঁড়েনি। কোথাও আবেদন বাতিল, কোথাও আবার শেষ মুহূর্তে অন্য কাউকে নিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

Advertisement
ছাঁটাইয়ের পর AI-এর 'মাস্টারপ্ল্যান', ৫ মাস পরেই দেড় কোটির চাকরি পেলেন যুবকটানা পাঁচ মাস ধরে একের পর এক ইন্টারভিউ দিয়েও ভাগ্যের শিকে ছেঁড়েনি।
হাইলাইটস
  • মুহূর্তের নোটিশে চাকরি চলে গিয়েছিল।
  • টানা পাঁচ মাস ধরে একের পর এক ইন্টারভিউ দিয়েও ভাগ্যের শিকে ছেঁড়েনি।

AI job search: মুহূর্তের নোটিশে চাকরি চলে গিয়েছিল। টানা পাঁচ মাস ধরে একের পর এক ইন্টারভিউ দিয়েও ভাগ্যের শিকে ছেঁড়েনি। কোথাও আবেদন বাতিল, কোথাও আবার শেষ মুহূর্তে অন্য কাউকে নিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও হাল ছাড়েননি এক যুবক। বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-কে সঙ্গী করে বদলে ফেলেন নিজের প্রস্তুতির ধরন। সেই নতুন কৌশলই কাজে লাগল। পেলেন প্রায় ১.৫ কোটি টাকার বার্ষিক প্যাকেজের চাকরি। তাঁর অভিজ্ঞতার গল্পই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

রেডিটে 'kml3141' নামে এক ইউজার নিজের এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তাঁর দাবি, প্রায় ১০ বছর একই সংস্থায় কাজ করার পর হঠাৎ করেই ছাঁটাইয়ের তালিকায় নাম উঠে যায়। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি তিন বার পদোন্নতিও পেয়েছিলেন। ফলে চাকরি হারানোর ধাক্কা ছিল অত্যন্ত বড়।

তিনি জানিয়েছেন, চাকরি চলে যাওয়ার পরের পাঁচ মাস ছিল জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। অসংখ্য সংস্থায় আবেদন করেছিলেন। একের পর এক ইন্টারভিউও দিয়েছেন। কিন্তু প্রত্যেকবারই কোনও না কোনও কারণে সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। কোথাও নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়, কোথাও আবার সংস্থার অভ্যন্তরীণ কর্মীকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ফলে আত্মবিশ্বাসও ক্রমশ কমতে শুরু করেছিল।

তখনই তিনি নতুন সিদ্ধান্ত নেন। ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতিতে AI-র সাহায্য নেওয়া শুরু করেন। তাঁর মতে, শুধু জীবনবৃত্তান্ত (Resume) তৈরির জন্য নয়, সঠিক পরিকল্পনা করলে AI ইন্টারভিউ প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।

প্রথমেই তিনি যে পদে আবেদন করতেন, সেই চাকরির Job Description সম্পূর্ণ AI-তে বিশ্লেষণ করাতেন। এর ফলে কোন দক্ষতার উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা সহজেই বুঝতে পারতেন।

এরপর যাঁরা ইন্টারভিউ নেবেন, তাঁদের পেশাগত তথ্য AI-কে দিয়ে সম্ভাব্য প্রশ্ন ও ইন্টারভিউয়ের ধরণ সম্পর্কে ধারণা নিতেন। এতে মানসিক প্রস্তুতি অনেকটাই সহজ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন তিনি।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে উত্তর দেওয়ার কৌশলে। AI-র সাহায্যে তিনি STAR (Situation, Task, Action, Result) পদ্ধতিতে নিজের উত্তর সাজাতে শুরু করেন। ফলে তাঁর উত্তর আরও সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট এবং প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, আগে ইন্টারভিউয়ে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কথা বলে ফেলতেন। AI সেই অভ্যাস বদলাতে সাহায্য করেছে।

Advertisement

এই কৌশলের ফলও মিলেছে দ্রুত। কয়েকটি সফল ইন্টারভিউয়ের পর একটি বড় সংস্থা তাঁকে চাকরির প্রস্তাব দেয়। সেখানে বছরে ১,৫৫,০০০ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১.৩ থেকে ১.৫ কোটি টাকা সমমূল্যের বেসিক বেতন, তার সঙ্গে ১৫ শতাংশ বার্ষিক বোনাস এবং যোগদানের প্রথম দিন থেকেই একাধিক কর্মী-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি হাইব্রিড ও নমনীয় কর্মপদ্ধতিতেও কাজের সুযোগ দিচ্ছে।

যদিও তিনি মনে করেন, চাইলে আরও কিছুটা বেশি বেতন নিয়ে আলোচনা করা যেত। তবুও আগের চাকরির তুলনায় এই অফার অনেক ভাল হওয়ায় তিনি তা অ্যাকসেপ্ট করে নেন।

তাহলে বুঝতে পারছেন তো? প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। তবেই সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।  

POST A COMMENT
Advertisement