
ফিজিক্স এবং কেমিস্ট্রিতে অন্তত দু'টি ক্ষেত্রে নম্বর সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছে সিবিএসই। CBSE Class 12 Answer Sheet Controversy: ভুল হয়েছে। কার্যত স্বীকার করল CBSE। ক্লাস টুয়েলভের খাতা দেখায় বিভ্রাটের অভিযোগ তুলেছেন লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া। শেষ পর্যন্ত এক পড়ুয়ার ভুল উত্তরপত্র আপলোডের অভিযোগ মানল বোর্ডও। ফিজিক্স এবং কেমিস্ট্রিতে দু'টি ক্ষেত্রে নম্বর সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছে সিবিএসই। সম্প্রতি এক ছাত্রের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ভাইরাল হয়। তারপরেই পুরোটা স্বীকার করে নেয় সিবিএসই। বোর্ডের নতুন Online Script Monitoring (OSM) ব্যবস্থায় আরও অনেক গণ্ডগোল হয়েছে বলে দাবি করছেন পরীক্ষার্থীরা।
ঘটনার সূত্রপাত দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র বেদান্ত শ্রীবাস্তবের পোস্টে। গত ২৩ মে X-এ একাধিক পোস্ট করেন বেদান্ত। দাবি করেন, তিনি রিভিউ চেয়েছিলেন। তারপর সিবিএসই তাঁকে তাঁর ফিজিক্সের উত্তরপত্রের ছবি সেন্ড করে। কিন্তু সেটা খুলেই চমকে ওঠেন। সেটি মোটেও তাঁর হাতের লেখা নয়। আসলে সেই খাতা অন্য কোনও পরীক্ষার্থীর। বেদান্তের অভিযোগ, উত্তরপত্রে থাকা হাতের লেখা, উত্তর... কোনওটাই তাঁর সঙ্গে মেলেনি।

মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। পরীক্ষার্থীদের একাংশের প্রশ্ন, যদি ভুল খাতা আপলোড হয়, তা হলে তো নম্বর প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও বড় ভুল হয়েছে। আজকাল ভাল কলেজে ভর্তি হতে আকাশ প্রমাণ নম্বর চাওয়া হয়। এই ধরনের গাফিলতির ফলে বহু পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে, অভিযোগ অভিভাবকদের।
এর পরেই নড়েচড়ে বসে সিবিএসই। বোর্ডের তরফে জানানো হয়, ফিজিক্সের ক্ষেত্রে উত্তরপত্র আপলোডে অসঙ্গতি ছিল। শুধু তাই নয়, কেমিস্ট্রির ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করেছে বোর্ড। সিবিএসই-র যুগ্মসচিব বেদান্তকে ইমেল করে তাঁর 'সঠিক' ফিজিক্স উত্তরপত্র পাঠান এবং নম্বর পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দেন।
তবে বিতর্ক সেখানেই থামেনি। সোমবার গভীর রাতে বেদান্ত ফের X-এ পোস্ট করে জানান, নতুন করে পাঠানো উত্তরপত্রেও মূল্যায়ন নিয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে। তাঁর দাবি, বেশ কিছু সঠিক উত্তরেও নম্বর কাটা হয়েছে। ফলে তিনি আবারও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করবেন।
এই ঘটনার পরেই সিবিএসই-র OSM বা On-Screen Marking পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকের দাবি, উত্তরপত্রে হাতে লেখা কমেন্টস এবং ম্যানুয়াল মার্কিং দেখা যাচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, সব খাতাই কি সত্যিই পুরোপুরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে চেক করা হয়েছিল? না কি কারও কারও ম্যানুয়াল মূল্যায়নও হয়েছে? যদি তা-ই হয়, তবে কিছু খাতা অন স্ক্রিন মার্কিং, আর কিছু খাতা আগের মতো হাতে ধরে কেন চেক করা হল?
যদিও এই বিষয়ে এখনও অফিসিয়ালি কিছুই জানায়নি সিবিএসই। তবে শিক্ষামহলের একাংশের মতে, এই বিতর্ক এখন আর শুধু ভুল উত্তরপত্র আপলোডে সীমাবদ্ধ নেই। বরং গোটা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
এ দিকে কেমিস্ট্রির উত্তরপত্র নিয়েও আর এক পরীক্ষার্থী অভিযোগ তুলেছেন। সেই পড়ুয়ার দাবি, বোর্ড তাঁদের অভিযোগ গ্রহণ করেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
জীবনের অন্য়তম বড় পরীক্ষায় আশানুরূপ নম্বর না পেয়ে ভেঙে পড়েছেন বহু পড়ুয়া। পড়াশোনা করার পরও পরীক্ষার মূল্যায়ন বিভ্রাটের জেরে কেরিয়ার নষ্ট হওয়ার অভিযোগ তুলছেন তাঁরা।