পুলিশে সাব ইন্সপেক্টর পদে চাকরি পেতে কী যোগ্যতা লাগে, কীভাবে আবেদন, জানুন পুরোটাসমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচার পাশাপাশি দেশ ও দশের সেবা করার সুযোগ নিয়ে আসে পুলিশের চাকরি। এ রাজ্যে বহু যুবক যুবতীর ছোটবেলা থেকেই পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন থাকে। তাদের সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড বা ডব্লুবিপিআরবি প্রতি বছর সাব ইন্সপেক্টর বা এসআই পদে কর্মী নিয়োগের দুর্দান্ত সুযোগ নিয়ে আসে। উচ্চ বেতন উন্নত পদমর্যাদা এবং সামাজিক সম্মানের কারণে এই পেশার জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে।
যোগ্য প্রার্থীদের বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট prb.wb.gov.in অথবা wbpolice.gov.in-এ গিয়ে নাম মোবাইল নম্বর ও ইমেল আইডি দিয়ে প্রথমে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এরপর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করে নির্দিষ্ট সাইজের সাম্প্রতিক রঙিন ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে। আবেদন ফি হিসেবে জেনারেল ও ওবিসি প্রার্থীদের ১৭০ টাকা দিতে হলেও তফশিলী জাতি ও উপজাতি প্রার্থীদের প্রসেসিং ফি বাবদ মাত্র ২০ টাকা জমা করতে হবে।
কী শিক্ষাগত যোগ্যতা?
এই সম্মানজনক পদে আবেদনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে প্রার্থীকে যে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কলা বিজ্ঞান বা বাণিজ্য যে কোনো শাখায় ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
বয়সের মাপকাঠি কী?
সাধারণ বা জেনারেল ক্যাটাগরির প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স ২০ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে হওয়া বাধ্যতামূলক। তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থীরা বয়সে বিশেষ ছাড় পাবেন যার মধ্যে এসসি ও এসটি প্রার্থীরা ৫ বছর এবং ওবিসি প্রার্থীরা ৩ বছরের ছাড় পেয়ে থাকেন।
ভাষাগত যোগ্যতা
ভাষা জ্ঞান হিসেবে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার মতো পার্বত্য এলাকা বাদে বাকি সমস্ত অঞ্চলের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষায় কথা বলতে পড়তে এবং লিখতে জানা জরুরি।
শারীরিক সক্ষমতা
পুলিশের চাকরিতে শারীরিক ফিটনেস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পুরুষ প্রার্থীদের মধ্যে সাধারণ ওবিসি ও তফশিলী জাতির জন্য উচ্চতা অন্তত ১৬৭ সেমি ওজন ৫৬ কেজি এবং বুক না ফুলিয়ে ৭৯ সেমি ও ফুলিয়ে অতিরিক্ত ৫ সেমি প্রসারণ ক্ষমতা থাকতে হবে। তবে গোর্খা গাড়োয়ালি রাজবংশী ও এসটি পুরুষদের জন্য উচ্চতা ১৬০ সেমি এবং ওজন ৫২ কেজি হতে হবে। মহিলা প্রার্থীদের মধ্যে সাধারণদের উচ্চতা ১৬০ সেমি ও ওজন ৪৮ কেজি এবং বিশেষ শ্রেণির মহিলাদের উচ্চতা ১৫৫ সেমি ও ওজন ৪৫ কেজি হওয়া আবশ্যক এবং রূপান্তরকামী বা ট্রান্সজেন্ডারদের শারীরিক মাপকাঠি সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী ধার্য করা হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া
মোট পাঁচটি ধাপে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। প্রথম ধাপে ২০০ নম্বরের একটি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং টেস্ট দিতে হবে যেখানে জেনারেল স্টাডিজে ১০০ নম্বর লজিক্যাল অ্যান্ড অ্যানালিটিক্যাল রিজনিংয়ে ৫০ নম্বর এবং অ্যারিথমেটিকে ৫০ নম্বর থাকবে এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য চার ভাগের এক ভাগ নম্বর কাটা যাবে। প্রিলিমিনারিতে সফল হলে দ্বিতীয় ধাপে শারীরিক পরিমাপ বা পিএমটি এবং সক্ষমতার পরীক্ষা বা পিইটি নেওয়া হবে যেখানে পুরুষদের ৩ মিনিটে ৮০০ মিটার মহিলাদের ২ মিনিটে ৪০০ মিটার এবং ট্রান্সজেন্ডারদের ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে ৪০০ মিটার দৌড়ের ক্ষমতা যাচাই করা হবে। এই ধাপে উত্তীর্ণদের নিয়ে তৃতীয় ধাপে ২০০ নম্বরের চূড়ান্ত বর্ণনামূলক মেইন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে যেখানে প্রথম পেপারে জেনারেল স্টাডিজ ও অংক মিলিয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে ২ ঘণ্টায় এবং দ্বিতীয় পেপারে ইংরেজি ও তৃতীয় পেপারে আঞ্চলিক ভাষার উপর ৫০ নম্বর করে ১ ঘণ্টার দুটি পরীক্ষা নেওয়া হবে। চতুর্থ ধাপে থাকবে ৩০ নম্বরের একটি পার্সোনালিটি টেস্ট বা ইন্টারভিউ যেখানে পাস করার জন্য প্রার্থীকে ন্যূনতম ৮ নম্বর পেতেই হবে। সবশেষে সফল প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে নিয়োগ করা হবে।