বৃহস্পতিবার থেকে শুরু উচ্চ মাধ্যমিকআগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে এবছরের উচ্চ মাধ্যমিক। এবছরের উচ্চ মাধ্যমিক অন্যবারের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। প্রসঙ্গত, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে সেমেস্টার পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি অধ্যাপক চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, নতুন সেমেস্টার পদ্ধতিতে এই প্রথম উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে এত বড় পরিসরে পরীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্য জুড়ে মোট তিন ধরনের পরীক্ষা হবে— Semester-IV, Semester-III Supplementary এবং পুরনো পদ্ধতির (Old System) উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। এই তিন ধরনের পরীক্ষার্থী মিলিয়ে এবছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৮১১ জন। এর মধ্যে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি ৭৯,৩৪৭ জন। রাজ্যের ২৩টি জেলাতেই সংখ্যার নিরিখে এগিয়ে ছাত্রীরা।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে মোট ৮২২টি মেইন ভেন্যু এবং ২,১০৩টি সাব ভেন্যুতে। সংসদের সামনে এবছরের বড় চ্যালেঞ্জ হল তিন ধরনের পরীক্ষা একসঙ্গে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা। গোটা প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজন হবে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা। বিশেষ করে প্রথম দিনের পরীক্ষার সঙ্গে মাধ্যমিকের অপশনাল ইলেকটিভ পরীক্ষাও থাকায় শিক্ষক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমেস্টার এমসিকিউ ভিত্তিক হলেও চতুর্থ সেমেস্টারের ব্যাখ্যামূলক উত্তর লিখতে হবে। মাধ্যমিকের মতো উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের কড়া নির্দেশিকাতেও এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা না মানলে পরীক্ষা বাতিল হতে পারে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় কোন কোন বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি।
পরীক্ষার সময়-
এবার প্রতিটি পরীক্ষাকক্ষে ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য অন্তত ২ জন ইনভিজিলেটর থাকবেন। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে সংসদের তরফে একজন করে Council Nominee নিয়োগ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র খোলার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ‘Seal Opening Format’ মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।প্রশ্নপত্র ও কাপড়ের ব্যাগের রঙেও থাকছে আলাদা চিহ্ন। যেমন, Semester-IV: সাদা রং, Semester-III Supplementary: হলুদ রং, Old System: নীল রং। তিন ধরনের পরীক্ষার্থীদের বসার জন্য আলাদা আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে কড়া তল্লাশির ব্যবস্থা থাকায় পরীক্ষার্থীদের অন্তত এক ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাদের পরীক্ষা সকাল ১০টায়, তাদের সকাল ৯টার মধ্যেই কেন্দ্রে পৌঁছাতে বলা হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থী (CWSN)-দের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোট ৪৬৫ জন CWSN পরীক্ষার্থী অতিরিক্ত সময়, লেখক (Writer) অথবা ইন্টারপ্রেটারের সুবিধা নিয়ে পরীক্ষায় বসছেন।