Organ Donation: ব্রেন না হার্ট, মৃত্যুর পর কোন অঙ্গ সবার আগে কাজ বন্ধ করে?

মৃত্যু একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে একজন মানুষ মারা যাওয়ার পর শরীরের সব অঙ্গ একসঙ্গে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, মৃত্যু ঘোষণা করা হয় যখন হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস অথবা মস্তিষ্কের কার্যকলাপ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তবে এর পরেও শরীরের কিছু অঙ্গ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কার্যকর অবস্থায় থাকতে পারে।

Advertisement
ব্রেন না হার্ট, মৃত্যুর পর কোন অঙ্গ সবার আগে কাজ বন্ধ করে?
হাইলাইটস
  • মৃত্যু একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া।
  • কিন্তু অনেকেই জানেন না যে একজন মানুষ মারা যাওয়ার পর শরীরের সব অঙ্গ একসঙ্গে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় না।

মৃত্যু একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে একজন মানুষ মারা যাওয়ার পর শরীরের সব অঙ্গ একসঙ্গে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, মৃত্যু ঘোষণা করা হয় যখন হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস অথবা মস্তিষ্কের কার্যকলাপ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তবে এর পরেও শরীরের কিছু অঙ্গ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কার্যকর অবস্থায় থাকতে পারে।

এই তথ্য অঙ্গদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মৃত্যুর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অঙ্গ সংগ্রহ করা গেলে তা অন্য মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। তাহলে জেনে নেওয়া যাক, মৃত্যুর পরে কোন অঙ্গ আগে কাজ করা বন্ধ করে এবং কোন অঙ্গ কতক্ষণ পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য থাকে।

মৃত্যু কেন হলে অঙ্গগুলির কার্যকারিতা নষ্ট হয়?
মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে শরীরে অক্সিজেন ও রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে কোষগুলো শক্তি উৎপাদনে ব্যর্থ হয় এবং ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে। তবে সব অঙ্গের অক্সিজেনের প্রয়োজন একরকম নয়। যে অঙ্গগুলি অক্সিজেনের ওপর বেশি নির্ভরশীল, সেগুলিই আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শরীরের তাপমাত্রা, মৃত্যুর কারণ এবং সংরক্ষণের পদ্ধতির উপর নির্ভর করে অঙ্গগুলির কার্যকারিতা কতক্ষণ বজায় থাকবে। ঠান্ডা পরিবেশে সংরক্ষণ করা হলে অনেক অঙ্গই তুলনামূলকভাবে বেশি সময় কার্যকর থাকে।

মৃত্যুর পর অঙ্গ বিকল হওয়ার ক্রম
মস্তিষ্ক: 
মৃত্যুর পর সবচেয়ে আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মস্তিষ্ক। অক্সিজেনের অভাবে মাত্র ৪ থেকে ৬ মিনিটের মধ্যেই মস্তিষ্কের কোষ স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এই কারণেই মস্তিষ্ক-মৃত্যুকে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান নির্দেশক হিসেবে ধরা হয়। মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপনযোগ্য নয়।

হৃদপিণ্ড: 
হৃদপিণ্ডও অক্সিজেনের উপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। মৃত্যুর ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যেই এটি প্রতিস্থাপনের অযোগ্য হয়ে পড়ে। তবে মস্তিষ্ক-মৃত্যুর ক্ষেত্রে যন্ত্রের সাহায্যে হৃদপিণ্ড কিছু সময় কার্যকর রাখা যায়।

ফুসফুস:
ফুসফুসও সাধারণত মৃত্যুর ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যেই কার্যকারিতা হারায়। শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার ফলে দ্রুত এই অঙ্গটির ক্ষয় ঘটে।

Advertisement

লিভার:
শরীরের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ অঙ্গ লিভার। এটি বিষাক্ত পদার্থ পরিশোধনের কাজ করে। মৃত্যুর প্রায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই লিভার অকার্যকর হয়ে পড়ে।

অন্ত্র ও অগ্ন্যাশয়:
হজম প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এই অঙ্গগুলি এনজাইম ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। অন্ত্র সাধারণত ৮ থেকে ১৬ ঘণ্টার মধ্যে এবং অগ্ন্যাশয় ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিস্থাপনের অযোগ্য হয়ে যায়।

কিডনি:
কিডনি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অঙ্গ। মৃত্যুর পর ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে, বিশেষ করে ঠান্ডা পরিবেশে সংরক্ষণ করা হলে।

চোখের কর্নিয়া:
চোখের কর্নিয়া অক্সিজেনের উপর খুব কম নির্ভরশীল। ফলে মৃত্যুর প্রায় ১৪ দিন পর পর্যন্ত কর্নিয়া দান করা সম্ভব।

ত্বক, হাড় ও অন্যান্য টিস্যু:
এই অঙ্গ ও টিস্যুগুলি সবচেয়ে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। ত্বক ও হাড় গ্রাফটিংয়ের জন্য বহুদিন বা এমনকি বছরের পর বছর সংরক্ষণ করা যায়, সাধারণত হিমায়িত অবস্থায়।

পচন প্রক্রিয়া কখন শুরু হয়?

অঙ্গ প্রতিস্থাপনের উপযোগী সময়সীমা শেষ হওয়ার পর শরীরে পচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এনজাইম ও ব্যাকটেরিয়া সমৃদ্ধ অঙ্গ, যেমন লিভার, অন্ত্র ও অগ্ন্যাশয়। প্রথম ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই পচতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে পুরো শরীরেই পচন ছড়িয়ে পড়ে।

অঙ্গদানের গুরুত্ব

মৃত্যুর পরও একজন মানুষের অঙ্গ অন্য অনেকের জীবন বাঁচাতে পারে। ভারতে প্রতি বছর অঙ্গের অভাবে অসংখ্য মানুষ মারা যান। সময়মতো অঙ্গদান করা গেলে হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনি কিংবা কর্নিয়ার মতো অঙ্গ দিয়ে বহু জীবন রক্ষা সম্ভব। বিশেষ করে মস্তিষ্ক-মৃত্যুর ক্ষেত্রে চিকিৎসা সহায়তায় অঙ্গগুলো সংরক্ষণ করে দানের সুযোগ অনেকটাই বেড়ে যায়।

 

POST A COMMENT
Advertisement