প্রতীকী ছবিবয়স ৪০-৪২ হলেই চাকরি হারাচ্ছেন বহু চাকুরিজীবীরা। ছাঁটাইয়ের ঢেউয়ে বেশিরভাগই দেখা যাচ্ছে ৪০ ঊর্ধ্বদের। এদিকে ৪০ বছর বয়সটিকে একজন পেশাদারের ক্ষেত্রে বলা হয় কেরিয়ারের শীর্ষে দাঁড়িয়ে থাকার বয়স। এই বয়সে তাঁরা বিপুল অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ হন, প্রভাবশালী হন, নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বিশ্বস্ত হন। এই বয়সটি দক্ষতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে ইদানীংকালে ৪০ বছর বয়স এখন আর শিখরে পৌঁছনোর সময় নয়। ৪০ পেরোলেই কেরিয়ার শেষ হচ্ছে অনেকেরই। উচ্চ বেতন, সময়ের সঙ্গে নিজেদের আধুনিক না করা, এগুলি কর্পোরেটে চাকরি টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
এই বয়সে চাকরির জন্য নিয়োগকারীদের ঘন ঘন ফোন বন্ধ হতে শুরু করে। পদোন্নতি ধীর গতিতে হয়। বরং তরুণ তুর্কিদের 'উচ্চ সম্ভাবনাময়' হিসেবে দেখা হয়।
গতি, নতুনত্ব এবং তারুণ্যে আচ্ছন্ন অর্থনীতিতে, ৪০ বছর একটি অদৃশ্য সীমানা হয়ে ওঠে। একদিকে উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ঊর্ধ্বমুখী গতিশীলতা; অন্যদিকে, স্থবিরতা, অপ্রয়োজনীয়তা এবং সরে যাওয়ার আগে ছিটকে পড়ার সূক্ষ্ম ভয়।
এটি কোনও নাটকীয় পতন নয়, বরং মূল্যের ধীরগতির পুনর্নির্মাণ, যেখানে বক্তৃতায় অভিজ্ঞতার প্রশংসা করা হয়, কিন্তু সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নীরবে তা উপেক্ষা করা হয়।
অনেক পেশাদারের জন্য, এই সময়েই আসল কেরিয়ারের যুদ্ধ শুরু হ হয়। উত্থানের জন্য নয়, বরং এমন একটি ব্যবস্থায় প্রাসঙ্গিক থাকার জন্য যা ক্রমশ বয়সের মূল্য পুনর্লিখন করছে। প্রাসঙ্গিকতায় হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে।
নয়া ট্রেন্ড মিড-লাইফ কেরিয়ার সঙ্কট
বিভিন্ন ক্ষেত্রে মিড-কেরিয়ারের পেশাদাররা দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি খুঁজছেন। তাদের প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। নিয়োগকারীরা যোগাযোগের বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
যখন অভিজ্ঞতা দায়বদ্ধতায় পরিণত হয়
পেশাদারিত্বের মহলে নিয়োগকারীরা কম বেতন দেন। এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
৪০ বছর বয়স কি আসলেই শেষ হচ্ছে কেরিয়ার?
মিড-কেরিয়ার পেশাদারদের বাদ দেওয়ার বিষয়টি খুব কমই স্পষ্ট। এমন এক সময়ে যখন কোম্পানিগুলি ধরে রাখা, নেতৃত্বের গভীরতা এবং বাস্তবায়ন ব্যর্থতার সঙ্গে লড়াই করছে।
সবশষে এটাই বলা যায়, গতি কেনা যায়, দক্ষতা প্রশিক্ষিত করা যায়, কিন্তু বিচারবুদ্ধি কেবল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়।
এর থেকে বাঁচার কী উপায়?
সময়ের সঙ্গে নিজেকে পরিবর্তন, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া। জ্ঞান অর্জন। চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং, ব্যবসা বা নতুন কিছু শিখে অন্য কোনও কাজ করা উচিত। এতে আপনাকে ভাতে মরতে হবে না।