AI এর কারণে চাকরি যাচ্ছে IT কর্মীদের, ২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করল Oracle

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) বেসড রিস্ট্রাকচারিংয়ের ফলে ২০২৬ অর্থবর্ষে ২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে ওরাকল। সংস্থার দাবি, AI প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে ভবিষ্যতে আরও চাকরি কমতে পারে।

Advertisement
AI এর কারণে চাকরি যাচ্ছে IT কর্মীদের, ২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করল Oracleসংস্থার দাবি, AI প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে ভবিষ্যতে আরও চাকরি কমতে পারে।
হাইলাইটস
  • আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (AI) কারণে রীতিমতো সঙ্কটে IT সেক্টর কর্মীরা।
  • ওরাকলে ২০২৬ অর্থবর্ষে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২১ হাজার কর্মীকে লে অফ করা হয়েছে।
  • মার্চেই ওরাকল ইঙ্গিত দিয়েছিল যে বড়সড় রিস্ট্রাকচার করতে চলেছে তারা।

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (AI) কারণে রীতিমতো সঙ্কটে IT সেক্টর কর্মীরা। মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা ওরাকলে (Oracle) বড়সড় কর্মী ছাঁটাই। সংস্থার দাবি, ২০২৬ অর্থবর্ষে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২১ হাজার কর্মীকে লে অফ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও আরও কর্মী ছাঁটাই হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থা। সম্প্রতি ওরাকলের বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। তাতে দেখা যাচ্ছে, সংস্থার মোট কর্মীসংখ্যা এক বছরে প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে। গত বছর কর্মীসংখ্যা ছিল প্রায় ১ লক্ষ ৬২ হাজার। সেখানে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ১ লক্ষ ৪১ হাজারে।

AI-এর প্রভাবেই ছাঁটাই?
বার্ষিক রিপোর্টে ওরাকল স্পষ্ট জানিয়েছে, সংস্থার বিভিন্ন ওয়ার্ক প্রসেসে AI-এর ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। তাই কর্মীসংখ্যা কমানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতেও এই ট্রেন্ড থাকতে পারে।

সংস্থার বক্তব্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, ম্যানেজমেন্টে পরিবর্তন, প্রোডাক্ট স্ট্র্যাটেজিতে বদল এবং বিভিন্ন টেকওভারের মতো একাধিক কারণে এই কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে।

চলতি বছরের মার্চেই ওরাকল ইঙ্গিত দিয়েছিল যে বড়সড় রিস্ট্রাকচার করতে চলেছে তারা। AI-নির্ভর ডেটা সেন্টার এক্সপ্যানশনে বিপুল বিনিয়োগ হচ্ছে। আর সেই কারণেই কারণে প্রচুর ক্যাশ-ফ্লো প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে খরচ কমাতে ওয়ার্কফোর্স কমানোর সিদ্ধান্ত।

AI এবং ক্লাউড ব্যবসা 
এক সময় মূলত ডেটাবেস সফ্টওয়্যার সংস্থা হিসেবেই পরিচিত ছিল ওরাকল। এখন নিজেদের ব্যবসার স্ট্রাকচার বদলে ফেলছে। সংস্থার চেয়ারম্যান ল্যারি এলিসনের নেতৃত্বে AI এবং ক্লাউড কম্পিউটিং খাতে বড় পাওয়ার হয়ে ওঠার টার্গেট নিয়েছে ওরাকল।

বর্তমানে OpenAI-এর মতো সংস্থার জন্য বিশাল ডেটা সেন্টার তৈরি করছে ওরাকল। এর ফলে ক্লাউড পরিষেবার বাজারে অ্যামাজন এবং মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যামাজন বা মাইক্রোসফটের মতো বিপুল নগদ প্রবাহ ওরাকলের নেই। ফলে AI অবকাঠামো তৈরির জন্য সংস্থাকে ঋণ এবং নতুন মূলধনের উপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।

বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা
ওরাকল জানিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে তাদের ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। এই বিপুল বিনিয়োগের টাকা জোগাড় করতে আরও ৪০ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও ইক্যুইটির মাধ্যমে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার। এর মধ্যে ২০ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার ইস্যুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

Advertisement

খরচও বেড়েছে
AI-সেনট্রিক বিজনেস মডেলের জন্য বড় অঙ্কের খরচও করতে হয়েছে ওরাকলকে। ২০২৬ অর্থবর্ষে কর্মী ছাঁটাই এবং পুনর্গঠন সংক্রান্ত বিভিন্ন খাতে সংস্থার ব্যয় হয়েছে প্রায় ১.৮৪ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবর্ষে যেখানে এই খরচ ছিল ৩৭৪ মিলিয়ন ডলার, সেখানে এক বছরে তা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, AI-র ব্যবহার আগামিদিনে আরও বাড়বে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি সংস্থায় কর্মীদের সংখ্যায় বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। ওরাকলের এই ঘোষণা সেই প্রবণতারই ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। 

POST A COMMENT
Advertisement