scorecardresearch
 
 

"বিশৃঙ্খল এবং দিশাহীন পরিস্থিতি", রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে মত পবিত্র সরকারের

কোভিড পরিস্থিতিতে এই বছর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। তবে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা যায় সকল পরীক্ষার্থী পাশ করেছে। ফলে স্বভাবতই হাসি ফুটেছে তাদের মুখে। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর দেখা যায় অকৃতকার্য হয়েছে ২.৩১ শতাংশ পরীক্ষার্থী। আর তারপর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভে নামতে দেখা গিয়েছে পরীক্ষার্থীদের।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলের পর পৃথক চিত্র মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলের পর পৃথক চিত্র
হাইলাইটস
  • মাধ্যমিকে রাজ্যে সবাই পাশ
  • উচ্চমাধ্যমিকে ২.৩১ শতাংশ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য
  • কী অবস্থা রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার?

প্রকাশিত হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। তবে ফল প্রকাশের পর দুই ক্ষেত্রে পৃথক চিত্র দেখা গিয়েছে। কোভিড পরিস্থিতিতে এই বছর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। তবে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা যায় সকল পরীক্ষার্থী পাশ করেছে। ফলে স্বভাবতই হাসি ফুটেছে তাদের মুখে। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর দেখা যায় অকৃতকার্য হয়েছে ২.৩১ শতাংশ পরীক্ষার্থী। আর তারপর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভে নামতে দেখা গিয়েছে পরীক্ষার্থীদের। এই পরিস্থিতিতে জেলাশাসকদের থেকে রিপোর্টও চেয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতর। এক্ষেত্রে খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ঠিক কোন জায়াগায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা। 

এই প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার বলেন, "এটা একটা বিশৃঙ্খল এবং দিশাহীন পরিস্থিতি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলাম যে পরীক্ষা হোক এবং পরীক্ষা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের ব্যবস্থা করা হোক। কিন্তু তাঁরা সেই বিষয়ে কান দেননি। খানিকটা সুবিধার পন্থা নিয়েছেন।" তিনি আরও বলেন, "এটা জানা কথা যে স্কুলগুলিতে নবম ও একাদশ শ্রেণির ছেলেমেয়েদের পরীক্ষার নম্বর একটু কমিয়ে দেওয়া হয়, যাতে তারা সামনের বড় পরীক্ষায় বেশি করে পড়াশোনা করে ভাল রেজাল্ট করে। তাই তার ওপরে হিসেব করাটা  খুব একটা সুবিচার নয়।" এক্ষেত্রে এই গোটা বিষয়টিকে 'অবৈজ্ঞানিক' বলেই মনে করেন পবিত্রবাবু। 

তাহলে এই পরিস্থিতিতে শিক্ষাক্ষেত্রে ঠিক কী করা উচিত? উত্তরে পবিত্র সরকার বলেন, "করোনার গতিবিধি দেখে এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে স্কুলগুলিকে ধীরে ধীরে খোলা দরকার। সমস্ত সাবধানতা অবলম্বন করে নিয়মিত পড়াশোনা শুরু করা দরকরা।" এক্ষেত্রে পড়ুয়াদের দুটি ব্যাচে ভাগ করে ৩ দিন করে ক্লাস করানো, এবং পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষা চালু রাখার পরামর্শই দেন এই শিক্ষাবিদ। তাঁর মতে, অনলাইনে পড়াশোনা করানো হলেও পরীক্ষা কোনওভাবেই নেওয়া উচিত নয়। কারণ সেখানে কার্যত টোকাটুকির সুযোগ থেকে যায় বলেই মনে করেন তিনি। পবিত্র সরকার মনে করেন, অনলাইন পরীক্ষা আদতে কোনও পরীক্ষাই নয়। এখন দেখার শিক্ষাক্ষেত্রে এই জটিলতা কীভাবে সামাল দেয় রাজ্য সরকার।