Rajma: বিশ্বের খাবারের তালিকায় রাজমাRajma Chawal TasteAtlas ranking 2026:বাঙালির যেমন মাছ-ভাত, উত্তর ভারতের মানুষের কাছে তেমনই রাজমা-চাওয়াল। রসনাতৃপ্তির সেই ঘরোয়া স্বাদই এবার বিশ্বের দরবারে ছিনিয়ে নিল সেরার শিরোপা। জনপ্রিয় ফুড গাইড ‘টেস্ট অ্যাটলাস’ (TasteAtlas)-এর বিচারে বিশ্বের সেরা ১০০টি বিনস ডিশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ভারতের এই গর্ব। শুধু জায়গা পাওয়া নয়, খাস রাজমা দখল করেছে ১৪ নম্বর স্থান, আর রাজমা-চাওয়াল রয়েছে ২৫ নম্বরে।
আসলে জিভের স্বাদে কোনও সীমানা হয় না। গত ৩০ মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। প্রায় ৬ হাজার ৮৭৬টি রেটিংয়ের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার বৈধ ভোট যাচাই করে তবেই তৈরি হয়েছে এই সেরার তালিকা। সেই নিরিখে পর্তুগালের ‘সোপ দা পেদ্রা’ তালিকায় সবার ওপরে থাকলেও, তুর্কি বা মেক্সিকোর মতো দেশকে টক্কর দিয়ে ভারত কিন্তু নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছে।
রাজমার জাদু লুকিয়ে আছে তার রান্নার কারুকার্যে। সারা রাত জলে ভিজিয়ে রাখার পর ধিমে আঁচে পেঁয়াজ, টমেটো, জিরে, ধনে আর আদা-রসুনের মশলায় যখন দানাগুলো সেদ্ধ হয়, তখন তৈরি হয় এক স্বর্গীয় স্বাদ। লঙ্কার ঝাল আর মশলার গন্ধ যখন ভাতের সঙ্গে মেশে, তখন পুষ্টি আর তৃপ্তি হাত ধরাধরি করে হাঁটে।
আন্তর্জাতিক এই তালিকায় ভারতের নাম উজ্জ্বল হওয়া মানেই দেশীয় মশলার জয়। ভারতীয় রান্নার সেই চিরাচরিত তীক্ষ্ণ ও চটপটে ফ্লেভার যে বিদেশের ভোজনরসিকদের মনেও ধরছে, এই র্যাঙ্কিং তারই প্রমাণ। সাধারণ উপকরণের অসাধারণ বিন্যাসই রাজমা-চাওয়ালকে বিশেষ করে তুলেছে।
টেস্ট অ্যাটলাসের তালিকায় ব্রাজিল বা মেক্সিকোর মতো দেশগুলিও বিনস বা শিম জাতীয় খাবারের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু ভারতীয় রাজমার সেই মাখোমাখো টেক্সচার আর গন্ধের কাছে বাকিরা যেন কিছুটা ম্লান। এটি কেবল একটি পদ নয়, উত্তর ভারতীয় সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই এখন আন্তর্জাতিক মহলে বন্দিত।
লুচি-তরকারি বা বিরিয়ানির ভিড়েও রাজমা-চাওয়াল তার সারল্য বজায় রেখে জয় করেছে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়। ঘরে ঘরে যে পদ নিত্যদিন রান্না হয়, তা যে বিশ্বসেরার তালিকায় ১৪ আর ২৫ নম্বর জায়গা করে নেবে, তা সাধারণের কাছে রীতিমতো গর্বের। এই জয় আসলে মা-ঠাকুমাদের হাতের সেই চিরকালীন জাদুরই জয়।