NTA র পাল্টা আশ্বাস, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।NEET UG paper leak: UPSC র প্রশ্নপত্র তো কখনও লিক হয় না। ওঁদের দেখে শিখুন। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সিকে (NTA) এভাবেই রীতিমতো ভর্তসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। সর্ব আদালতের পর্যবেক্ষণ, শুধু কমিটি গঠন বা সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে কোনও লাভ হবে না। UPSC-এর মতো পরীক্ষাতেও কখনও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠেনি। সেখানে NEET-এ বারবার এমন ঘটনা ঘটছে কেন? আদালতের পর্যবেক্ষণ, NEET দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলির মধ্যে অন্যতম। তাতে এই ধরনের গাফিলতির অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে NTA র পাল্টা আশ্বাস, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে পুরো বিষয়টিতে নজর রাখছেন।
এদিন প্রশ্নফাঁস নিয়ে মামলার শুনানি ছিল আদালতে। কেন্দ্র ও NTA-র হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। ছিলেন প্রাক্তন ISRO প্রধান ডঃ কে রাধাকৃষ্ণনের নেতৃত্বাধীন উচ্চ পর্যায়ের কমিটির প্রতিনিধিরাও। শুনানির সময় বিচারপতি পি এস নরসিমা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, এত নজরদারি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও প্রশ্নফাঁস হল কীভাবে?
এরপরই UPSC-র উদাহরণ দেয় আদালত। বিচারপতি বলেন, 'দেশের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় কখনও এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি। NTA-র উচিত UPSC-এর পরীক্ষাপদ্ধতি এবং সুরক্ষা কাঠামো থেকে শিক্ষা নেওয়া।' বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, শুধু সাময়িক ব্যবস্থা নিলে হবে না। দীর্ঘমেয়াদি এবং স্থায়ী স্ট্রাকচার তৈরি করতে হবে।
ডঃ রাধাকৃষ্ণন জানান, পরীক্ষা ব্যবস্থা আরও সিকিওর করতে মোট ১০১টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০টি সুপারিশ স্বল্পমেয়াদি। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, বেশিরভাগ সুপারিশ ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে। বাকিগুলিও দ্রুত বাস্তবায়নের পথে।
তবে আদালত শুধু সংস্কারের আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়নি। বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গণ্ডগোলের দায় কাউকে নিতেই হবে। সেটা না করে কমিটি গঠন করে কোনও লাভ নেই।
প্রশ্নফাঁসের কারণ নিয়ে আদালতের প্রশ্নের উত্তরে ডঃ রাধাকৃষ্ণন জানান, প্রশ্নপত্র তৈরির পর্যায়েই আসল গলদ ঘটেছে। আরও গোপনে কীভাবে পেপার সেট করা যায়, সেই নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। IIT এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান আদালতে।
কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, আগামী ২১ জুনের ফের পরীক্ষা নেওয়া হবে। সেদিন আরও কড়াকড়ির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সলিসিটর জেনারেল আদালতে দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে গোটা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন।
একই সঙ্গে কেন্দ্রকে বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শিক্ষা মন্ত্রককে জানাতে হবে, ভবিষ্যতে কীভাবে নিরাপদ এবং স্বচ্ছ পদ্ধতিতে জাতীয় স্তরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞ নিয়োগ, স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষাপদ্ধতি নিয়েও বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে আদালত।
শুনানির শেষে বিচারপতিরা পড়ুয়া এবং তাঁদের পরিবারের মানসিক চাপের প্রসঙ্গও তোলেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, 'এই ধরনের ঘটনায় ছাত্রছাত্রীরা এবং তাঁদের পরিবার অত্যন্ত মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যান। বছরের পর বছর ওঁরা পরিশ্রম করেন। এই পরীক্ষার সঙ্গে বহু মানুষের আবেগ জড়িয়ে। তাই সিস্টেমে বদল আনা খুব জরুরি।'