ডেলিভারি পার্টনার হতে কোনও ফি দিতে হয়? Swiggy, Zepto, Blinkit-এর নিয়ম জানুন

Swiggy Zepto Delivery Partner Fees:  শহর-মফস্বলের রাস্তায় বের হলেই এখন ডেলিভারি পার্টনারদের দেখা যায়। কেউ বাইকে। কেউ স্কুটিতে। আবার কেউ সাইকেলে। খাবার বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দিচ্ছেন গ্রাহকের বাড়িতে।

Advertisement
ডেলিভারি পার্টনার হতে কোনও ফি দিতে হয়? Swiggy, Zepto, Blinkit-এর নিয়ম জানুনকেউ যদি এই পেশায় আসতে চান তাহলে কী কী লাগবে?
হাইলাইটস
  • সুইগি-জেপ্টোয় ডেলিভারি পার্টনার হতে টাকা লাগে?
  • জেনে নিন অনবোর্ডিং, ডিপোজিট ও কিটের নিয়ম
  • স্মার্টফোন এবং একটি টু-হুইলার বা সাইকেল থাকলেই হল। 

Swiggy Zepto Delivery Partner Fees:  শহর-মফস্বলের রাস্তায় বের হলেই এখন ডেলিভারি পার্টনারদের দেখা যায়। কেউ বাইকে। কেউ স্কুটিতে। আবার কেউ সাইকেলে। খাবার বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দিচ্ছেন গ্রাহকের বাড়িতে। সুইগি, জেপ্টো, ব্লিঙ্কইটের মতো প্ল্যাটফর্ম এখন বেশ জনপ্রিয়। এই ডেলিভারি কাজ এখন অনেকের আয়ের একমাত্র উপায়। স্মার্টফোন এবং একটি টু-হুইলার বা সাইকেল থাকলেই হল। 

কিন্তু নতুন কেউ যদি এই পেশায় আসতে চান তাহলে কী কী লাগবে? ডেলিভারি পার্টনার হতে কি আগে টাকা জমা দিতে হয়? অনবোর্ডিংয়ের জন্য কত টাকা লাগে? ডেলিভারি ব্যাগ বা পোশাকের জন্য আলাদা টাকা দিতে হয়? কাজ ছেড়ে দিলে কোনও টাকা ফেরত পাওয়া যায়? সব প্রশ্নের উত্তর পাবেন এই প্রতিবেদনে। তাই শেষ পর্যন্ত অবশ্যই পড়ুন। 

এই বিষয়গুলি না জেনে কাজে যোগ দিলে পরে সমস্যা হতে পারে। তাই জেনে নেওয়া দরকার সুইগি এবং জেপ্টোর মতো প্ল্যাটফর্মে সাধারণত কী ধরনের চার্জ থাকতে পারে।

শুরুতেই কি টাকা দিতে হয়?
ডেলিভারি পার্টনার হওয়ার ক্ষেত্রে অনবোর্ডিং ফি, কিট চার্জ বা সিকিউরিটি ডিপোজিটের মতো খরচ থাকতে পারে। তবে এই টাকা মানেই যে রেজিস্ট্রেশনের সময় হাতে করে ক্যাশ দিতে হবে, এমনটা নয়।

অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম কাজ শুরু করার পরে ডেলিভারি পার্টনারের উপার্জন থেকেই এই টাকা কেটে নেয়। অর্থাৎ প্রথম দিনেই পুরো টাকা নিজের পকেট থেকে দেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে।

তবে নিয়ম সব জায়গায় এক নয়। শহর, প্ল্যাটফর্ম এবং সময় অনুযায়ী চার্জের পরিমাণ ও কাটার পদ্ধতি বদলাতে পারে। তাই রেজিস্ট্রেশনের আগে অ্যাপ বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার দেওয়া শর্ত ভাল করে পড়ে নেওয়া জরুরি।

সুইগিতে কত টাকা লাগতে পারে?
সুইগি ইনস্টামার্টের ক্ষেত্রে অনবোর্ডিং ফি প্রায় ১,৫০০ টাকা। তবে এই অঙ্ক সব শহরে এক নাও হতে পারে।

রেজিস্ট্রেশনের সময় সংশ্লিষ্ট চার্জের বিষয়ে ডেলিভারি পার্টনারকে জানানো হয়। কোথাও অনবোর্ডিং, ট্রেনিং বা অন্যান্য পরিষেবার জন্য আলাদা চার্জ থাকতে পারে।

Advertisement

তাই শুধু কোনও পরিচিত ব্যক্তি কত টাকা দিয়েছেন, সেটি দেখে নিজের খরচ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নিজের এলাকার জন্য প্রযোজ্য নিয়মই দেখতে হবে।

জেপ্টোতে কী নিয়ম?
জেপ্টোর ক্ষেত্রেও অনবোর্ডিং এবং প্রশিক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত চার্জ থাকতে পারে। রেজিস্ট্রেশনের সময় সাধারণত সংশ্লিষ্ট তথ্য জানানো হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কোনও ব্যক্তি যদি ডেলিভারি পার্টনার হওয়ার নাম করে আগে থেকেই ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলেন, তা হলে সতর্ক হতে হবে। রেজিস্ট্রেশন করার সময় সংস্থার অফিসিয়াল অ্যাপ বা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় কী টাকা চাওয়া হচ্ছে, সেটিই যাচাই করা উচিত।

ডেলিভারি ব্যাগ ও পোশাকের জন্যও টাকা?
ডেলিভারি পার্টনারদের অনেক সময় নির্দিষ্ট কিট ব্যবহার করতে হয়। এর মধ্যে ডেলিভারি ব্যাগ, টি-শার্ট, জ্যাকেট বা অন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী থাকতে পারে।

এই কিটের দামও পার্টনারের অ্যাকাউন্টে যোগ হতে পারে। পরে কাজ থেকে পাওয়া টাকা থেকে সেই অর্থ কেটে নেওয়া হতে পারে। কোনও সামগ্রী নষ্ট হলে বা নতুন করে কিট নিতে হলে অতিরিক্ত চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।

তাই কাজ শুরুর আগে শুধু ‘জয়েনিং ফি’ নয়, কিটের খরচও জেনে নেওয়া দরকার।

সিকিউরিটি ডিপোজিট কী?
কিছু ক্ষেত্রে ডেলিভারি পার্টনারদের কাছ থেকে সিকিউরিটি ডিপোজিট নেওয়া হতে পারে। এই টাকা অনেক সময় ফেরতযোগ্য হয়।

কাজ ছেড়ে দেওয়ার সময় গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া নগদ টাকা, COD-এর হিসাব এবং অন্য কোনও বকেয়া মিটিয়ে দিতে হয়। সব হিসাব পরিষ্কার হওয়ার পরে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ডিপোজিট ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

অর্থাৎ ডিপোজিটকে সরাসরি ‘জয়েনিং ফি’ ভাবলে ভুল হবে। দুটির নিয়ম আলাদা হতে পারে।

ইনকাম থেকে টাকা কাটা হয়?
অনবোর্ডিং বা কিটের টাকা একসঙ্গে না কেটে কয়েক দফায় কেটে নেওয়া হতে পারে। ধরুন, কোনও ক্ষেত্রে মোট চার্জ ২,০০০ টাকা। সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী সেটি একবারে না নিয়ে কয়েকটি কিস্তিতে উপার্জন থেকে কেটে নেওয়া হতে পারে।

ফলে ডেলিভারি পার্টনারকে প্রথম দিনেই পুরো টাকা জোগাড় করতে হয় না।

তবে কত টাকা এবং কত কিস্তিতে কাটা হবে, তা প্ল্যাটফর্মের নির্দিষ্ট নিয়মের উপর নির্ভর করে।

অর্ডার সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ 
ডেলিভারি করার সময় অর্ডার নিয়ে সমস্যা হলে অন্য ধরনের কাটতিও হতে পারে। যেমন কোনও অর্ডার ভুল জায়গায় পৌঁছনো, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অর্ডারের ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী ডেলিভারি পার্টনারের পেমেন্ট থেকে টাকা কাটা হতে পারে।

অন্য দিকে, গ্রাহক অ্যাপের মাধ্যমে টিপ দিলে সেই টাকার ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মের নির্দিষ্ট নীতি প্রযোজ্য হয়। এখানে ১০০ শতাংশ টিপ ডেলিভারি পার্টনারকে দেওয়ার নীতিও কিছু প্ল্যাটফর্মে রয়েছে।

তাই কাজ শুরু করার আগে শুধু কত টাকা আয় হবে, সেটি জানলেই হবে না। কত টাকা কাটা যেতে পারে, কোন পরিস্থিতিতে কাটা হবে এবং কোন টাকা ফেরতযোগ্য; এই তিনটি বিষয়ও পরিষ্কার করে জানা দরকার।

সব মিলিয়ে, সুইগি বা জেপ্টোর মতো প্ল্যাটফর্মে ডেলিভারি পার্টনার হতে গেলে কোনও কোনও ক্ষেত্রে অনবোর্ডিং, কিট বা ডিপোজিটের জন্য টাকা প্রযোজ্য হতে পারে। কিন্তু সেই টাকা সব সময় রেজিস্ট্রেশনের দিনই পুরোটা দিতে হবে, এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে কাজ শুরু হওয়ার পরে উপার্জন থেকে ধাপে ধাপে টাকা সমন্বয় করা হয়। তবে নিয়ম প্ল্যাটফর্ম এবং এলাকার ভিত্তিতে বদলাতে পারে। তাই যোগ দেওয়ার আগে অফিসিয়াল রেজিস্ট্রেশন প্রসেসে কত চার্জ ও এবং কী কী কন্ডিশনস লেখা আছে, তা ভালভাবে পড়ে নিন। 

POST A COMMENT
Advertisement