ছাঁটাইয়ের কোনও পরিকল্পনা নেই বলে জানালেন চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন। TCS Hiring 2026: AI চাকরি কেড়ে নেবে। গত প্রায় এক বছর ধরেই এমন আশঙ্কায় ভুগছেন আইটি কর্মীরা। তবে দেশের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা TCS-এর চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন সেই উদ্বেগ অনেকটাই দূর করলেন। সংস্থার ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM)-এ তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, TCS-এ কোনও ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যতে নিয়োগের গতি কিছুটা কমতে পারে।
মঙ্গলবার AGM-এ চন্দ্রশেখরন বলেন, AI নিয়ে আইটি সেক্টরে ভয়ের কিছু নেই। বরং এটিই আগামিদিনে সবচেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করবে। তাঁর মতে, AI এজেন্ট এবং মানুষ একযোগে কাজ করবে। ফলে কাজের দক্ষতা বাড়বে। কাজের স্টাইলে বড় পরিবর্তন আসবে।
TCS প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করে। কিন্তু AI প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে ভবিষ্যতে সেই নিয়োগের হার কিছুটা কমতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন চেয়ারম্যান। যদিও তিনি এ কথাও জানিয়েছেন যে, এখনই কর্মী ছাঁটাইয়ের কোনও পরিকল্পনা নেই সংস্থার।
AI থেকেই আয় বাড়বে
চন্দ্রশেখরনের বক্তব্য, AI-নির্ভর ব্যবসা থেকে TCS-এর আয় বাড়ছে। ২০২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে সংস্থার AI ডিল পাইপলাইনের মোট অ্যামাউন্ট প্রায় ২৫০ কোটি মার্কিন ডলারে। তাঁর আশা, আগামী কয়েক বছরে AI-সংক্রান্ত আয় প্রতি বছর প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাবে।
চেয়ারম্যানের অনুমান, ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে সংস্থার মোট রেভেনিউয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসবে AI সার্ভিসেস থেকে। সেই লক্ষ্যেই AI দক্ষতা, শিল্পভিত্তিক AI এজেন্ট, ডেটা সেন্টার এবং সোভারেন ক্লাউড পরিকাঠামোয় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে TCS।
মানুষের সমান সমান AI এজেন্ট
AGM-এ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন চন্দ্রশেখরন। তাঁর দাবি, আগামী তিন বছরের মধ্যে TCS-এ যত জন কর্মী থাকবেন, প্রায় সমসংখ্যক AI এজেন্টও কাজ করবে।
AI কি চাকরি খাবে?
জেনারেটিভ AI এবং AI এজেন্টের কারণে ভারতের সার্ভিস বেসড আইটি সংস্থাগুলির বিজনেস মডেল হ্যাম্পার হতে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে সেই ধারণার সঙ্গে একমত নন TCS চেয়ারম্যান।
তাঁর মতে, AI শুধু কোড লেখা বা সফটওয়্যার তৈরির কাজ সহজ করছে না। বরং প্রযুক্তির ব্যবহার ও সবার দক্ষতাও বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। কাজের গতিও বাড়ছে। বাজার এখনও AI এবং IT সার্ভিসের সম্পর্ক পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি, দাবি তাঁর।