নাসিক বিতর্কের মাঝে TCS কর্মীরা সুখবর পেলেনতথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) তাদের লক্ষ লক্ষ কর্মীকে বড় ধরনের স্বস্তি দিয়েছে। সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে , কর্মী ছাঁটাইয়ের পর্ব শেষ হয়েছে। এক বছর ধরে কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পুনর্গঠনের পর, সংস্থাটি এখন তার পুরনো, প্রচলিত বেতন বৃদ্ধির চক্রে ফিরে আসছে। এই খবরটি সেইসব কর্মীদের জন্য বড় আশার সঞ্চার করেছে, যারা বেশ কিছুদিন ধরে বেতন বৃদ্ধি এবং চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছিলেন।
বেতন কত বাড়বে?
TCS নিশ্চিত করেছে, তারা স্বাভাবিকভাবে তাদের বার্ষিক বেতন সংশোধন প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, শীর্ষস্থানীয় কর্মীদের দুই অঙ্কের (১০ শতাংশের বেশি) বেতন বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে, বেশিরভাগ কর্মচারীর ক্ষেত্রে তাদের রেটিং এবং গ্রেডের উপর নির্ভর করে এই বৃদ্ধি ৪.৫% থেকে ৭%-এর মধ্যে হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্মী সংখ্যা কমেছে, কিন্তু নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে
২০২৬ অর্থবর্ষে কোম্পানিটির মোট কর্মী সংখ্যা ২৩,০০০-এর বেশি কমেছে, কিন্তু কোম্পানি বলছে, এর পুরোটাই কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে নয়। টিসিএস-এর চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার সুদীপ কুন্নুম্মালের মতে, কোম্পানিটি দেশের অন্যতম বৃহত্তম নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবেই রয়েছে। টিসিএস এই বছর প্রায় ৪০,০০০ ফ্রেশার নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে এবং ইতোমধ্যে ২৫,০০০ ক্যাম্পাস অফার দেওয়া হয়েছে।
CEO-র ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং AI-এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব
টিসিএস-এর CEO কে. কৃতিবাসন বলেছেন, প্রাথমিক চাপের পর কোম্পানিটি এখন ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। কোম্পানির AI ব্যবসাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং চতুর্থ ত্রৈমাসিকে প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, AI -এর এই যুগেও কোম্পানিগুলোর টিসিএস-এর মতো আইটি ফার্মের প্রয়োজন হবে। মার্চ ত্রৈমাসিকে কোম্পানির নিট মুনাফা ১২% বৃদ্ধি পেয়ে ১৩,৭১৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
নাসিক বিতর্ক সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কোম্পানিটি যখন বৃদ্ধির কথা ফলাও করে প্রচার করছে, তখন এর মানবসম্পদ বিভাগ (HR) খবরের শিরোনামে এসেছে। জানা গেছে, নাসিকের একটি বিপিও কেন্দ্রের মানবসম্পদ ম্যানেজার নিদা খানকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মহিলা কর্মীদের যৌন হয়রানি ও জবরদস্তির ঘটনা উপেক্ষা করা এবং এই কাজে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাটি কর্পোরেট সংস্কৃতি এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।