পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে কার্যত হতাশ বহু পরীক্ষার্থী। UPSC। বিশ্বের কঠিনতম পরীক্ষাগুলির মধ্যে অন্যতম। কিন্তু তার প্রশ্নপত্রও এবার মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। প্রিলিমসের প্রশ্নপত্র দেখে হতবাক IAS অফিসাররাও। পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে কার্যত হতাশ বহু পরীক্ষার্থী। শুধু পড়ুয়াই নন, আমলাদের একাংশও বলছেন; ২০২৬ সালের সিভিল সার্ভিস প্রিলিমসের GS Paper 1 সাম্প্রতিক কালের অন্যতম কঠিন প্রশ্নপত্র। শুধু কঠিন বললে ভুল হবে, রীতিমতো 'কনফিউজিং' বলছেন তাঁরা। লম্বা প্রশ্ন, সময়ের চাপ, একেবারে অজানা ধরনের প্রশ্ন; সব মিলিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী।
রবিবার দেশজুড়ে UPSC Civil Services Preliminary Examination 2026 ছিল। সকাল ও বিকেলে দু'টি পেপারে পরীক্ষা হয়। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা General Studies Paper 1 নিয়ে। বহু পরীক্ষার্থীর দাবি, প্রশ্নের দৈর্ঘ্য এবং প্রশ্ন তৈরির ধরন এতটাই জটিল ছিল যে, প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও সময়ের মধ্যে উত্তর শেষ করা সম্ভব হয়নি।
চণ্ডীগড়ের UPSC মেন্টর শেখর দত্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘এটা সম্ভবত UPSC-র ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন প্রিলিমসগুলির একটি।’ পরে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, শুধু তথ্য মুখস্থ থাকলেই চলবে না। তথ্যগুলির মধ্যে সম্পর্ক বোঝা এবং তা দ্রুত প্রয়োগ করার দক্ষতা এ বার বড় ভূমিকা নিয়েছে।
রায়পুরের IAS অফিসার অবনীশ শরণও সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘UPSC Prelims 2026: The toughest ever.’ ফলে প্রশ্নপত্র যে সত্যিই কঠিন, তাই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
এক-একটি প্রশ্নই আধ পাতা জুড়ে!
GS Paper 1-এ মোট ১০০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে ১২০ মিনিট থাকে। অর্থাৎ প্রতিটি প্রশ্নের জন্য সময় গড়ে মাত্র ১ মিনিট ১২ সেকেন্ড। তার উপর ভুল উত্তরের জন্য নেগেটিভ মার্কিং।
অনেক পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, প্রশ্নগুলি এতটাই বড় ছিল যে পড়তেই অনেকটা সময় চলে যায়। ফলে উত্তর জানা থাকলেও সব প্রশ্ন attempt করা সম্ভব হয়নি। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাঁরা মাত্র ৬০-৬৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছেন।
শেখর দত্তের বক্তব্য, আগে যেখানে পুরো প্রশ্নপত্র ৪০ পাতার মধ্যে শেষ হত, এ বার তা বেড়ে প্রায় ৫৬ পৃষ্ঠায় পৌঁছেছে। অনেক পাতায় মাত্র দু’টি প্রশ্ন ছিল। কারণ প্রশ্নগুলি অত্যন্ত দীর্ঘ ও বিশ্লেষণভিত্তিক ছিল। পুরোটা পড়ে তার থেকে অ্যানালিসিস করে জটিল ধাঁধার মতো প্রশ্ন ছিল। এক মিনিট ১২ সেকেন্ডে যা করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব।
‘কঠিন’ না ‘বিভ্রান্তিকর’? বাড়ছে বিতর্ক
অনেক শিক্ষকের মতে, এ বারের প্রশ্নপত্রের আসল বৈশিষ্ট্য ছিল unpredictability। দিল্লির একাধিক UPSC শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, প্রশ্নের ধরন syllabus-এর সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
কিছু প্রশ্নে একাধিক statement, concept এবং fact জুড়ে জটিল সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে বলা হয়। পরীক্ষার্থীদের দাবি, অনেক প্রশ্ন সরাসরি syllabus-এর সঙ্গে মেলানোই কঠিন ছিল।
২২ বছরের পরীক্ষার্থী রঞ্জন কুমারের দাবি, একটি প্রশ্ন Ethics paper-এর মতো মনে হয়েছে, যদিও Ethics প্রিলিমস syllabus-এর অংশ নয়। তাঁর কথায়, ‘প্রশ্নপত্র দেখে মনে হচ্ছিল, প্রস্তুতির চেয়ে অজানা pattern সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ।’
সোশ্যাল মিডিয়ায় হতাশা, মিমের বন্যা
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় UPSC-র সমালোচনা করেছেন। কেউ আবার হতাশা ঢাকতে মিম শেয়ার করেছেন।
এক পরীক্ষার্থী অনুভব গুপ্ত লেখেন, ‘হাল ছেড়ে দেব? নাকি আর একবার চেষ্টা করব?’ ২০২২ সাল থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনুভব। এবারের প্রশ্নপত্র দেখে IAS হওয়ার আশাই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।
অনেকে আবার লিখছেন, এবারের প্রশ্নপত্র যাঁরা সেট করেছেন, তাঁরা নিজেরাও ৩০টির বেশি অ্যাটেম্পট করতে পারবেন না।