পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ফাইল ফটো)'শ্রী জগন্নাথ মহাপ্রভুর আশীর্বাদ রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর।' এমনটাই বলেন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত ও দ্বৈতাপতি নিযোগের সভাপতি রামকৃষ্ণ দাস মহাপাত্র। তাঁর দাবি, চতুর্থবারের জন্যও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে চলেছেন। অথচ দিঘায় জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ করার জেরে তাঁর উপরই ক্ষুব্ধ ছিল পুরীর মন্দিরের একাংশ। কেন দিঘার মন্দিরকে জগন্নাথ ধাম বলা হবে, তা নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছিলেন সেবায়েতদেরই একাংশ।
মমতার প্রশংসা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন রামকৃষ্ণ দাস মহাপাত্র। তিনি সংবাদসংস্থাকে বলেন, 'মমতা সর্বদা মানুষের কল্যাণে কাজ করেন। তাঁর মধ্যে নেতৃত্বের গুণ রয়েছে।' জনকল্যাণমূলক কাজের জন্যও তৃণমূল নেত্রীর প্রশংসা করেন এই সেবায়েত। সারা বছর মানুষের জন্য কাজ করার মনোভাবকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন তিনি। রামকৃষ্ণ দাস সেবায়েতের মতে, 'তিনি এমন এক নেতা যিনি ৩৬৫ দিনই মানুষের পাশে থাকেন।'
আসনের পূর্বাভাস
সমাজসেবার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক ভাবেও সমর্থন জানিয়েছেন এই সেবায়েত। রামকৃষ্ণ দাস মহাপাত্র বাংলায় তৃণমূল ক'টি আসন পাবে, তা নিয়েও পূর্বাভাস দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, 'এই নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২২১টির বেশি আসন পেয়ে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হবেন।'
জগন্নাথ ধাম বিতর্ক
উদ্বোধনের পর থেকেই দিঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছিল। মূর্তি তৈরির নিমকাঠ চুরির অপবাদও উঠেছিল। ধাম শব্দটির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওড়িশার আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দন জানিয়েছিলেন, দিঘার মন্দিরের নাম থেকে জগন্নাথধাম কথাটি সরাতে হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে। এই নিয়ে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে চিঠিও লিখেছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি। চিঠিতে জগন্নাথ ধাম শব্দটি পুনর্বিবেচনার আর্জি জানান। মাঝি তাঁর চিঠিতে বলেছিলেন, পুরীর মন্দির ছাড়া অন্য কোনও মন্দির বা স্থানের জন্য এই শব্দটি ব্যবহার করা লক্ষ লক্ষ ভক্তের অনুভূতিতে আঘাত করা হবে।
সে সময়েও এই দ্বৈতাপতি নিযোগের সম্পাদক রামকৃষ্ণ দাস মহাপাত্র তাঁর সমর্থনেই কথা বলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, 'মমতা খুব ভাল মন্দির তৈরি করেছে। জগন্নাথ মূর্তি তৈরি হচ্ছে নিম কাঠ দিয়ে।' তবে সেবায়েতদের অন্যান্য অংশ অবশ্য মমতার জগন্নাথ মন্দির নির্মাণে মোটে খুশি ছিলেন না। ফলত রামকৃষ্ণ দাস মহাপাত্রের এই সমর্থন যে তাঁর ব্যক্তিগত, সে বিষয়টি কার্যত স্পষ্ট।
কেন মমতাকে সমর্থন? অধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা সেবায়েতের
জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত হিসেবে তিনি এই প্রশংসাকে আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ব্যাখ্যা করেছেন। রামকৃষ্ণ দাস মহাপাত্রের বক্তব্য, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব ধর্মকে সঙ্গে নিয়ে চলেন এবং তিনি ভগবান জগন্নাথের আশীর্বাদধন্য।'
BJP নেতারা প্রায়ই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগে আক্রমণ করেন। সেখানে জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েতের এই প্রশংসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে আরও জোরালো করে তুলে ধরল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। আবার দিঘার জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের পর পুরীতে তাঁর ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও ধাক্কা খেয়েছিল, এমন মতও রয়েছে। ফলে সেই জায়গা থেকেও রামকৃষ্ণ দাস মহাপাত্রের মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ।