Mamata Banerjee,Abhishek Banerjeeনিজের অবস্থানে অনড় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। তিনি তো পদত্যাগ দেবেনই না, বরং গোটা নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে দ্বারস্থ হতে পারেন সুপ্রিম কোর্টের। আজ বুধবার দলের জয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। সেখানেই তিনি জানান, তাঁর সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ইচ্ছা আছে।
আইনি লড়াইয়ের জন্য চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য-সহ কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। জানান, তিনি ও আরও কয়েকজন দলের সতীর্থ এই আইনি লড়াইয়ের দিকে নজর দেবেন। তৃণমূল কংগ্রেস যে ধাক্কা খেয়েছে তা স্বীকার করে নিয়ে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, দলের প্রধান লক্ষ্য এখনও দিল্লি। ইন্ডিয়া জোট ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে। তিনি তাতে থাকবেন।
সূত্রের দাবি, তিনি যে পদত্যাগ করবেন না তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। জানিয়েছেন, তাঁকে কারচুপি করে জোরপূর্বক হারানো হয়েছে, সেজন্য তিনি পদত্যাগ করবেন না। অভিষেকও মমতার সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। ডায়মন্ডহারবারের সাংসদেরও প্রশংসা করেন তিনি।
সূত্রের খবর, মমতা বলেছেন, 'নিজেদের পদে বহাল থাকাটা হল প্রতিবাদের উপায়। কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে ব্যবস্থা নিতেই পারে। চাইলে রাষ্ট্রপতি শাসনও জারি করতে পারে। তবে তা সরকারিভাবে নথিভুক্ত থাকতে হবে।'
এদিন তিনি বৈঠকে দলীয় বিধায়কদের জানান, সংগঠনকে মজবুত করার কাজ করতে হবে। নিজের নিজের এলাকায় থেকে কাজ করার নির্দেশও দেন বিধায়কদের। কোনও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হলে এগিয়ে যেতে হবে।
প্রসঙ্গত, ৬ মে বুধবার নিয়ম অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মন্ত্রিসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আইন অনুযায়ী আজকের পর মমতা মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারবেন না, তেমনই তার বিদায়ী মন্ত্রিসভারও আজকের পরে আর কার্যকর থাকবে না। কিন্তু নির্বাচনে পরাজয়ের পরে এখনও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেননি।
মঙ্গলবার তিনি বলেন, 'আমি কেন পদত্যাগ করব? আমরা হারিনি, তাই পদত্যাগ করবও না। পরাজয়ের প্রমাণ থাকলে আমরা পদত্যাগ করতাম। কেউ আমাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করলেও আমি করব না। আমি বলতে চাই যে আমরা নির্বাচনে হারিনি।' আর তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।