
একাধিক এক্সিট পোলের পূর্বাভাস বলছে, কেরলে ক্ষমতাচ্যুত হতে পারে বাম শিবির।Kerala Exit Poll 2026: বুথ ফেরত সমীক্ষায় কেরলের রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। একাধিক এক্সিট পোলের পূর্বাভাস বলছে, কেরলে ক্ষমতাচ্যুত হতে পারে বাম শিবির।অর্থাৎ, প্রায় এক দশক পর রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরতে পারে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (UDF)। ফলে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (LDF)-এর সামনে বড় চ্যালেঞ্জের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সমীক্ষাকারী সংস্থা ‘ম্যাট্রিজ’-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৪০ আসনের কেরল বিধানসভায় ইউডিএফ পেতে পারে ৭০ থেকে ৭৫টি আসন। অন্যদিকে এলডিএফের ঝুলিতে যেতে পারে ৬০ থেকে ৬৫টি আসন। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ইউডিএফ; এমনই ইঙ্গিত মিলছে এই সমীক্ষায়। একই সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের প্রাপ্তি খুবই সীমিত হতে পারে বলে ধারণা। তাদের আসন সংখ্যা ৩ থেকে ৫-এর মধ্যে থাকতে পারে।

অন্য একটি সংস্থা ‘পিপলস পালস’-এর সমীক্ষাও প্রায় একই ছবি তুলে ধরেছে। তাদের মতে, ইউডিএফ পেতে পারে ৭৫ থেকে ৮৫টি আসন, যা স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার ইঙ্গিত দেয়। এলডিএফের প্রাপ্তি ৫৫ থেকে ৬৫ আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। এনডিএ-র ক্ষেত্রে পূর্বাভাস আরও কম, ০ থেকে ৩টি আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে তাদের ফলাফল।
এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই কেরলের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। গত কয়েক বছরে এলডিএফ সরকার নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু করলেও, বিরোধীদের দাবি ছিল অ্যান্টি-ইনকামবেন্সির প্রভাব বাড়ছে। সেই প্রেক্ষিতেই এই এক্সিট পোলের ফলাফলকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে বিজেপি এ বার কেরলে আগ্রাসী প্রচার চালালেও, সেই প্রচারের প্রতিফলন ভোটে খুব একটা পড়বে না বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে সমীক্ষা। দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে এখনও শক্ত জমি তৈরি করতে পারেনি বিজেপি; এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
তবে মনে রাখতে হবে, এক্সিট পোল শুধুমাত্র একটি পূর্বাভাস। ভোটাররা বুথ থেকে বেরোনোর পর তাঁদের মতামতের ভিত্তিতেই এই সমীক্ষা করা হয়। ফলে বাস্তব ফলাফলের সঙ্গে এই পূর্বাভাসের অমিল থাকতেই পারে।
এখন সকলের নজর ভোটগণনার দিনের দিকে। সেদিনই স্পষ্ট হবে, কেরলে সত্যিই কি পালাবদল হচ্ছে, নাকি আবারও ক্ষমতা ধরে রাখবে এলডিএফ।