পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিজনমত নিজেদের দিকে টানতে মরিয়া বিজেপি। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রকাশিত হতে পারে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে ২৭ বা ২৮ মার্চ ইশতেহার প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় রাজ্যে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
গত ২০ মার্চ নিজেদের ইশতেহার প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে প্রকাশিত ‘দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’ ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে বিরোধীদের ওপর। তাই পাল্টা লড়াইয়ে তৃণমূলের জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির অনুকরণেই নিজেদের পরিকল্পনা সাজাতে চাইছে বিজেপি।
সূত্রের খবর, তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর আদলে বিজেপি আনতে পারে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প, যার আওতায় মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকতে পারে। পাশাপাশি যুবকদের জন্য ‘যুবশক্তি’ প্রকল্পে মাসিক ৩ হাজার টাকা বেকারভাতার প্রস্তাবও ইশতেহারে থাকতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
এছাড়া পরিকাঠামো উন্নয়নেও একাধিক প্রতিশ্রুতি দিতে পারে বিজেপি। উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত গতিশীল হাইওয়ে নির্মাণ, বেহালা থেকে বালুরঘাট পর্যন্ত বিমান পরিষেবা চালু করা এবং একটি গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনাও ইশতেহারে জায়গা পেতে পারে।
রাজ্যের অর্থনীতি নিয়েও সরব হয়েছে বিজেপি। তাদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের ঋণের পরিমাণ ৮ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। বিশেষ করে ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া প্রায় ৫০ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিককে রাজ্যে ফিরিয়ে এনে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকতে পারে।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বাংলায় প্রায় ২ কোটি ভিনরাজ্যের শ্রমিক কাজ করতে আসেন। এই পরিসংখ্যান নিয়েও রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা এবং নারী সুরক্ষার মতো বিষয়গুলিও বিজেপির ইশতেহারে গুরুত্ব পেতে পারে।
এখন দেখার, ‘বাংলার মেয়ে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তার সামনে বিজেপির এই প্রতিশ্রুতিগুলি কতটা কার্যকর হয়। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনবিরোধী হাওয়া কি গেরুয়া শিবিরের পক্ষে যাবে, নাকি আবারও সবুজ ঝড়েই ভেসে যাবে পদ্ম, তার উত্তর মিলবে ভোটের ফল ঘোষণার দিন।