ফাইল ছবিনির্বাচনের উত্তাপ বাড়তেই বাংলায় রাম নবমী ঘিরে চাঙ্গা বাজার। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলার উৎসব-পঞ্জিতে বিশেষ গুরুত্ব পাওয়া এই উৎসব এবার পালিত হবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার। ঠিক বিধানসভা নির্বাচনের এক মাস আগে। ফলে উৎসবের আবহে মিশে যাচ্ছে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও।
রাজ্যে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের একাধিক প্রশাসনিক বদলির সিদ্ধান্তে প্রশাসনের অন্দরে তৈরি হয়েছে চাপা উত্তেজনা। তার ওপর অতীতে রাম নবমীর মিছিল ঘিরে হিংসার ঘটনাও সামনে এসেছে, ফলে এবারের আয়োজনকে ঘিরে উদ্বেগও কম নয়।
এই পরিস্থিতিতে গেরুয়া শিবির উৎসবকে জনসংযোগের বড় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে তৎপর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরেও প্রস্তুতি তুঙ্গে। পদ্মপুকুরের শিব শক্তি মন্দির থেকে মিছিল বের করার পরিকল্পনা হয়েছে, যেখানে কয়েকশো মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা। আয়োজকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই উৎসব বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি হয়।
অন্যদিকে, তৃণমূল এই উৎসবকে ঘিরে নিজেদের কর্মসূচি সাজাচ্ছে। তাদের দাবি, রাম কোনও নির্দিষ্ট দলের সম্পত্তি নন, তিনি সর্বজনীন। তাই আড়ম্বর নয়, বরং শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদযাপনের ওপর জোর দিচ্ছে তারা।
উৎসবের প্রস্তুতির ছাপ সবচেয়ে স্পষ্ট বড়বাজারের পাইকারি বাজারে। বসন্তলাল মুরারকা রোড ও মহাত্মা গান্ধী রোড সংলগ্ন এলাকায় এখন গেরুয়া পতাকা, ‘জয় শ্রী রাম’ লেখা ব্যানার, টি-শার্ট, স্কার্ফ ও পাগড়ির চাহিদা তুঙ্গে। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন হাজার হাজার পতাকা বিক্রি হচ্ছে। শুধু রাজনৈতিক প্রচার সামগ্রী নয়, ‘রাম-কেন্দ্রিক’ পণ্যেরও বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের কর্মীরাও বড় সংখ্যায় এই বাজার থেকে সামগ্রী সংগ্রহ করছেন। তাঁদের লক্ষ্য, এবারের শোভাযাত্রাগুলিতে যত বেশি সম্ভব মানুষকে যুক্ত করা।
সব মিলিয়ে, বাংলায় রাম নবমী এখন শুধুই ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ক্রমশ সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগে এই উৎসবকে ঘিরে যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।