সোহম চক্রবর্তী'মা, মা একটু হরলিক্স দাও না, চেটে চেটে খাব...', অঞ্জন চৌধুরীর হিট ছবি 'ছোটবউ'-তে মা সন্ধ্যা রায়ের কাছে আবদার করেছিল মাস্টার বিট্টু। বহু বছর পর সেই সংলাপ আজও পুরনো হয়নি। তবে সেই মাস্টার বিট্টু আর ছোটটি নেই। তিনি এখন টলিপাড়ার জনপ্রিয় নায়ক সোহম চক্রবর্তী। পাশাপাশি, তিনি করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিট পেয়েছেন। প্রথম দফা ভোটের পর সামনেই দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। আর শেষ মুহূর্তে প্রচার চলছে জমিয়ে। তবে হরলিক্সের সঙ্গে সোহমের যে পুরনো সম্পর্ক, তা ফের প্রমাণ পাওয়া গেল নির্বাচনী প্রচারে।
প্রথম দফা ভোটের পর দ্বিতীয় দফা নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা বেশ তুঙ্গে। হাতে বেশি দিন সময়ও নেই। তাই নাওয়া-খাওয়া ভুলে নিজেদের কেন্দ্রে ভোট প্রচারে ব্যস্ত সব দলের প্রার্থীরাই। ব্যতিক্রম নন সোহমও। দরজায় দরজায় গিয়ে জনসংযোগ সারতে দেখা যাচ্ছে অভিনেতা-রাজনীতিবিদকে। কাঠফাটা গরম উপেক্ষা করেই নদিয়ার করিমপুরের পিচে প্রচারে চালাচ্ছেন সোহম। তারকা প্রার্থীকে দেখতে অলিতে গলিতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয়রাও। আর তারই মাঝে এক মহিলা অনুরাগী যা করলেন, তা রীতিমতো ভাইরাল নেটপাড়ায়। হাসির রোল উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রচারের একেবারে শেষ লগ্নে থালা-বাটি নিয়ে এগিয়ে আসছেন এক মহিলা। সেই থালায় রয়েছে এনার্জি ড্রিঙ্ক হরলিক্সের দুটো পাউচ। সেই থালা নিয়েই সোহমের কাছে এগিয়ে গেলেন মহিলা। অভিনেতার সামনেই কাঁচি দিয়ে হরলিক্সের পাউচ কেটে ফেললেন। সোহমের কাছে ওই মহিলা আবদার করে বলেন, আমি ছোটবেলা থেকে আপনার ছবি দেখেছি। আমার এই অনুরোধ আপনাকে রাখতেই হবে। ভোট প্রচারে বেরিয়ে হরলিক্স খাওয়ার অনুরোধ, এমন আজব আবদার সোহম নিজেও কোনওদিন পাননি। মহিলার এই আবদার শুনে সোহম নিজেও খুব বিব্রত বোধ করেন। ভিডিওতে তাঁকে ক্রমাগত আকারে ইঙ্গিতে না বলতে শোনা যায়। বিব্রত-অস্বস্তি বোধ করলেও তিনি বিরক্ত হননি। বরং হেসেই ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্য করে চটজলদি উত্তর দেন, ছোট বাচ্চাগুলো আছে, ওদের দিন। তারকা প্রার্থীর উত্তরে মুহূর্তে হাততালির ঝড়।
প্রসঙ্গত, এর আগেও লোকসভা নির্বাচনের সময়ও এই একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। জিয়াগঞ্জে ভোট প্রচারে গিয়ে একই পরিস্থিতি হয়েছিল। এক মহিলা সোহমের সামনে হরলিক্সের শিশি নিয়ে আসেন। সেই সময়ও অভিনেতাকে বিরক্ত হতে দেখা যায়নি। উল্টে তাঁকে ওই মহিলার সামনে হাত জোড় করে করতে দেখা যায়। 'ছোটবউ' যখন মুক্তি পায়, তখন সোহমের বয়স ছিল ৪ বছর। সেই সময় তাঁর আদো আদো মুখের সেই সংলাপ আজও ভুলতে পারেননি দর্শকেরা। তাই সোহমকে দেখলেই তাঁর ভক্ত-অনুরাগীরা সেই পুরনো আবেগকে ধরে রাখতে পারেন না। সোহমের জনপ্রিয়তার পিছনেই রয়েছে 'ছোটবউ'-এর সেই সংলাপ।