বা দিকে বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা শাহ আলমবিরোধী দলের প্রার্থীর সঙ্গে প্রকাশ্যে মেলামেশা সহ দীর্ঘদিন ধরে দলবিরোধী কাজ করার অভিযোগ তুলে নিউটাউনের নেতা শাহ আলমের সঙ্গে সব সম্পন্ন ছিন্ন করল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার রাজারহাট-নিউটাউনের বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়-সহ দলের নেতৃত্ব সাংবাদিক বৈঠক করে এ কথা জানিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের থানায় ডেকে এলাকা শান্ত রাখার বার্তা দিচ্ছে পুলিশ। সেই মতো গতকাল শাহ আলম ও অন্য এক তৃণমূল নেতাকে নিউটাউন থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তবে শাহ আলমের অভিযোগ, তাঁকে দীর্ঘক্ষণ থানায় বসিয়ে রাখা হয়। এই খবর পেয়ে রাজারহাট নিউটাউনের বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানুরিয়া লোকজন নিয়ে নিউটাউন থানায় হাজির হন। কী কারণে শাহ আলমকে আটকে রাখা হয়েছে তা আইসির কাছে জানতে চান তিনি। বিজেপি প্রার্থী জানান, বিনা কারণে কাউকে হয়রানি করা যাবে না। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনও অশান্তি করা যাবে না। পাশাপাশি কোনও রাজনৈতিক দলের লোকজনকে বিনা কারণে গ্রেপ্তারও করা যাবে না। তাই শাহ আলমকে ছেড়ে দিতে হবে।
তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছেন, শাহ আলম দলের কোনও পদে নেই। তিনি এলাকায় তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত একজন সাধারণ কর্মী। তাই তাঁকে বহিষ্কারের কোনও প্রশ্ন ওঠে না। কিন্তু তাঁর সঙ্গে দলের যে আর কোনও সম্পর্ক নেই তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তাপস চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “প্রার্থী হিসেবে আমি চাই না, এরমক মানুষের সঙ্গে দলের সম্পর্ক থাকুক। কোনও ঘটনা ঘটে থাকলে আমাকে বা দলের অন্যান্য পদাধিকারীকে জানাতে পারতেন শাহ আলম। কিন্তু তিনি তা করেননি।” পাশাপাশি তাপস আরও জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছিলেন তিনি। এই নিয়ে তাঁকে সাবধানও করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি শোনেননি। দলবিরোধী কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সোমবার বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে প্রকাশ্যে তাঁর মেলামেশা ভালোভাবে নেয়নি দল। সেই কারণে দল জানিয়ে দিয়েছে, তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের আর কোনও সম্পর্ক নেই।
ভোটের মুখে রাজারহাট-নিউটাউনের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়। ইমারতি সামগ্রী ফেলাকে কেন্দ্র করে অশান্তি এবং তার জেরে ‘তৃণমূল ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত শাহ আলমকে থানা থেকে বিজেপি প্রার্থীর ছাড়িয়ে আনার ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি সাংবাদিক বৈঠক করে ওই ব্যক্তির থেকে দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিল তৃণমূল নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, 23 মার্চ সোমবার, নিউটাউন এলাকায় ইমারতি সামগ্রী ফেলাকে কেন্দ্র করে একটি বিবাদের সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই শাহ আলম নামে এক ব্যক্তিকে নিউটাউন থানায় ডেকে পাঠিয়ে আটকে রাখে পুলিশ। শাহ আলম এলাকায় তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। শাহ আলমকে থানায় আটকে রাখার খবর জানাজানি হতেই সেখানে অনুগামীদের নিয়ে হাজির হন রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানুরিয়া। তিনি থানার সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন এবং বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। একদিকে বিজেপি প্রার্থীর এই 'তৎপরতা' এবং অন্যদিকে তৃণমূলের 'দূরত্ব রক্ষা'— এই দুইয়ে মিলে বর্তমানে রাজারহাট-নিউটাউন এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে।
রিপোর্টারঃ অরিন্দম ভট্টাচার্য